ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) ‘১০০ শতাংশ’ দাবি সম্বলিত একাধিক খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ডাবর ইন্ডিয়াকে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের দাবি অস্পষ্ট, যাচাই-অযোগ্য এবং ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার এফএসএসএআই জানায়, তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ‘১০০ শতাংশ’ দাবি বহনকারী মধু, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, ভার্জিন নারিকেল তেল, তিলের তেল, গরুর ঘি, নারিকেলের পানি ও নারিকেলের দুধসহ কয়েকটি খাদ্যপণ্য।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য, ডাবরের ওয়েবসাইটে এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ‘১০০ শতাংশ ন্যাচারাল’, ‘১০০ শতাংশ পিওর’, ‘১০০ শতাংশ পিউরিটি গ্যারান্টিড’, ‘১০০ শতাংশ অর্গানিক’ এবং ‘১০০ শতাংশ টেন্ডার কোকোনাট ওয়াটার’ এ ধরনের দাবি ব্যবহার করা হয়েছে।
এফএসএসএআই বলেছে, এসব দাবি ২০১৮ সালের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান (বিজ্ঞাপন ও দাবি) বিধিমালার পরিপন্থী।
তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এই পদক্ষেপের অর্থ পণ্যগুলো ভেজাল বা অনিরাপদ এমন সিদ্ধান্ত নয়। তাদের আপত্তি মূলত পণ্যের লেবেলিং ও বিপণন পদ্ধতি নিয়ে।
এফএসএসএআই জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসে খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লেবেল, মোড়ক ও প্রচারসামগ্রীতে ‘১০০ শতাংশ’ দাবি ব্যবহার না করার জন্য শিল্পব্যাপী পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কারণ বিদ্যমান বিধিমালায় এ শব্দের কোনও সংজ্ঞা নেই এবং এটি পরম বিশুদ্ধতা বা শ্রেষ্ঠত্বের বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে।
তদন্তে এফএসএসএআই দেখতে পেয়েছে, ডাবর হিমালয়ান অর্গানিক অ্যাপল সাইডার ভিনেগার এবং ডাবর অর্গানিক হানিতে বৈধ এফএসএসএআই অর্গানিক অনুমোদন ছাড়াই ‘জৈবিক ভারত’ লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ‘ডাবর হোমমেড কোকোনাট মিল্ক’ পণ্যটি ‘১০০ শতাংশ পিউরিটি’ দাবিসহ বাজারজাত করা হচ্ছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এফএসএসএআই জানায়, এর আগে বিভ্রান্তিকর ‘১০০ শতাংশ’ দাবি বন্ধ করতে ডাবরকে নোটিশ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি সন্তোষজনক সংশোধনী পদক্ষেপ নেয়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নোটিশে চিহ্নিত পণ্যগুলোর পাশাপাশি ‘১০০ শতাংশ’ দাবি সম্বলিত অন্যান্য খাদ্যপণ্যও অবিলম্বে বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কোম্পানিটিকে।
ডাবর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এফএসএসএআইয়ের নোটিশ পেয়েছে এবং নোটিশে উল্লেখ করা বিষয়গুলো ওয়েবসাইটে পর্যালোচনা করছে।
খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন ও লেবেলিংয়ে সম্ভাব্য বিভ্রান্তিকর দাবি বন্ধে এফএসএসএআইয়ের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সংস্থাটি শিল্পখাতজুড়ে ‘১০০ শতাংশ’ দাবি ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ, নেপথ্যে যে কারণ
অভিজিতের তোপের মুখে তসলিমা নাসরিন, বললেন আমরা আলাদা







