মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী এবং কর্মবাজারমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য হলো কারিকুলামকে কর্মবাজারমুখী করা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার।”
তিনি বলেন, “সরকারের উন্নয়ন ভাবনার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। আগের সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিলেও বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিরও অংশ।”
ড. মামুন বলেন, “অন্যান্য শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সুযোগের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে চায় সরকার। এ জন্য তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতি গঠন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করা হবে।”
কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে ‘বটম-আপ অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ওপর থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চলতি মাসের মধ্যেই একটি কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।”
কর্মশালায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি এবং ইউজিসির উদ্যোগে পরিচালিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তাদের যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্টার্টআপসহ বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানো এবং দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়গুলোও কর্মশালায় গুরুত্ব পায়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকী এবং কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম।
কর্মশালায় প্রায় ৩০০ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে ইউজিসি 







