উন্নয়নশীল অর্থনীতির জোট ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়মের কারণে ভারতের বিরোধিতায় ইসলামাবাদের সদস্য পাওয়ার প্রচেষ্টা বর্তমানে আটকে রয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে যোগদানের জন্য ২০২৩ সালে আবেদন করে পাকিস্তান। গত বছর এই জোট মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নতুন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে ‘ব্রিকস প্লাস’ এ রূপান্তর হলেও নয়াদিল্লির আপত্তির কারণে ইসলামাবাদ বাইরেই রয়ে গেছে।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য হতে আবেদন করা ২৯টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। মূলত তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই জোটটিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি। পাকিস্তান অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং অর্থায়নের পথ বহুমুখী করতে ব্রিকস সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারত্ব কিনেছে পাকিস্তান।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান এই শীর্ষ বৈশ্বিক দক্ষিণ জোটে যোগ দিতে চায়। সে সময় তিনি উল্লেখ করেন, ‘অধিকাংশ’ ব্রিকস সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি জানান, পাকিস্তানের সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস সদস্যপদ ঝুলে রয়েছে। কারণ জোটের নিয়মানুযায়ী যেকোনও সদস্য বা অংশীদার দেশ হতে হলে বিদ্যমান সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যেখানে ভারতের বিরোধিতা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নয়াদিল্লিতে আজ বসছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন
ইরানের ওপর মার্কিন চাপ ‘বিপজ্জনক পর্যায়ে’: পেজেশকিয়ান







