যেখানে আলিঙ্গনেই জমে ওঠে সম্পর্ক

জীবনযাপন ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৯আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৯

কাউকে জড়িয়ে ধরতে কি খুব বড় কোনও কারণ লাগে? মন খারাপ? জড়িয়ে ধরুন। বন্ধুর সাফল্য? হাত মেলান। বহুদিন পর দেখা? দুটোই করুন! কারণ কখনও কখনও বড় বড় বক্তৃতার চেয়ে একটি আন্তরিক আলিঙ্গন কিংবা আনন্দের সঙ্গে হাত মেলানোই বেশি কথা বলে।

মানুষে মানুষে দূরত্ব কমানো, ভালোবাসা আর ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেওয়ার এমনই এক মজার উপলক্ষ জড়িয়ে ধরা, হাত মেলানোর দিন আজ। এই দিনে বন্ধু, স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত মানুষের সঙ্গে একটু বেশি আন্তরিক হওয়ার সুযোগ মেলে। তবে অপরিচিত কাউকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরার আগে তার সম্মতি নিতে ভুলবেন না। নইলে ভালোবাসা ছড়াতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন!

একটি আন্তরিক আলিঙ্গন যেমন মুহূর্তেই মন ভালো করে দিতে পারে, তেমনি আনন্দের সঙ্গে হাত মেলানোও জানিয়ে দিতে পারে ‘দারুণ করেছ!’ কিংবা ‘চলো, একসঙ্গে কিছু করি।’ এসব ছোট্ট আচরণ মানুষকে কাছাকাছি আনে, বাড়ায় আপনত্ব আর একসঙ্গে থাকার অনুভূতি।

একটু জড়িয়ে ধরা যাক

আলিঙ্গনেরও কিন্তু নানা ধরন আছে। বন্ধুকে দেখে এক ঝটকায় জড়িয়ে ধরা, প্রিয়জনের মন খারাপ হলে একটু সময় নিয়ে আলিঙ্গন করা কিংবা বহুদিন পর দেখা হওয়া কারও সঙ্গে উচ্ছ্বাসে জড়িয়ে ধরা প্রতিটি আলিঙ্গনের ভাষা আলাদা।

অবশ্য আলিঙ্গনের আগে সামনের মানুষটি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি না, সেটি খেয়াল রাখা জরুরি।

হাত মেলানোর আনন্দ

হাত মেলানো মানেই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। বন্ধুর পরীক্ষায় ভালো ফল? হাত মেলান। সহকর্মী দারুণ কাজ করেছেন? হাত মেলান। প্রিয় দল জিতেছে? পাশের মানুষটির সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন। এমনকি কোনও বন্ধু যদি দীর্ঘদিন পর নিজের কোনও ভয় কাটিয়ে ওঠেন, সেখানেও একটি আনন্দের হাত মেলানো হতে পারে দারুণ অভিনন্দন।

পাড়া-মহল্লায় হোক আলিঙ্গনের আসর

দিনটি উদ্‌যাপনে পাড়া বা মহল্লার মানুষদের নিয়ে ছোট্ট একটি মিলনমেলার আয়োজন করা যেতে পারে। পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হবে, হাসাহাসি হবে, শুভেচ্ছা বিনিময় হবে। চাইলে ‘আজ কে সবচেয়ে বেশি মানুষকে হাসাতে পারেন’ এমন মজার প্রতিযোগিতাও হতে পারে।

তবে আলিঙ্গনের ক্ষেত্রে জোরজবরদস্তি একেবারেই নয়। কেউ যদি দূর থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন, সেটিও সমান সুন্দর।

ভালোবাসা পৌঁছে দিন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে

স্কুল, হাসপাতাল কিংবা প্রবীণদের সেবাকেন্দ্রে গিয়ে কিছুটা সময় কাটানো যেতে পারে। হাসিমুখে কথা বলা, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা কারও সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়াই হতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর আয়োজন।

শুধু এক দিনের জন্য কেন?

আলিঙ্গন আর হাত মেলানোর জন্য ক্যালেন্ডারে বিশেষ দিন খুঁজে বের করার প্রয়োজনই বা কেন? প্রতিদিনের জীবনেও এগুলো জায়গা করে নিতে পারে। সহকর্মী ভালো কাজ করলে অভিনন্দন জানান, পরিবারের কেউ মন খারাপ করলে পাশে বসুন, বন্ধুর সাফল্যে আনন্দ করুন।

তবে আলিঙ্গনকে যেন ‘সবার জন্য একই নিয়ম’ ভাবা না হয়। কেউ আলিঙ্গন পছন্দ করেন, কেউ করেন না। তাই ভালোবাসার পাশাপাশি অন্যের ব্যক্তিগত পছন্দকেও সম্মান করা এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দূরত্ব থাকলেও আলিঙ্গন থেমে থাকবে কেন?

দূরে থাকা বন্ধু কিংবা স্বজনকে সরাসরি জড়িয়ে ধরা সম্ভব না হলে মুঠোফোনই ভরসা। পাঠিয়ে দিন একটি ভার্চুয়াল আলিঙ্গন, মজার ছবি কিংবা ভালোবাসাভরা বার্তা। ‘আজ তোমাকে একটা আলিঙ্গন পাওনা রইল’—এমন একটি বার্তাও হয়তো দূরে থাকা প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি এনে দিতে পারে।

ভালো কাজেও মিশুক আনন্দ

আলিঙ্গন আর হাত মেলানোর আনন্দকে চাইলে মানবিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত করা যায়। প্রতিটি আলিঙ্গন বা হাত মেলানোর সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কোনও দাতব্য উদ্যোগে দেওয়ার অঙ্গীকার করা যেতে পারে।

জড়িয়ে ধরা, হাত মেলানোর দিনের গল্প

এই মজার দিবসের শুরু ২০২১ সালে। এর উদ্যোক্তা ডেভিড সিলভেস্টার, যিনি ‘বিগ ডেভ’ নামেও পরিচিত। ভালোবাসা, আশা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় তিনি হারিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে। সেই শোক তাকে মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়নি। বরং আরও বেশি মানুষের কাছে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

এরপর তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন। অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে আলিঙ্গন ও আনন্দের হাত মেলানোর মাধ্যমে তিনি ছড়িয়ে দিতে থাকেন ভালোবাসা ও আশার বার্তা। অপরিচিত একজনের কাছ থেকেও এমন আন্তরিকতা পেয়ে অনেকের মুখে ফুটেছে হাসি, কেউ হয়েছেন আবেগাপ্লুত, কেউবা মুহূর্তের জন্য ভুলে গেছেন নিজের দুশ্চিন্তা।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মহাদেশ পেরিয়ে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন পাঁচ লাখেরও বেশি আলিঙ্গন। তার কাছে এটি শুধু মজা করার বিষয় ছিল না। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানুষ থাকুক, যে ভাষাতেই কথা বলুক ভালোবাসা ও মানবিকতার অনুভূতি সবার কাছেই পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তিনি।

কারণ একটি আলিঙ্গনের জন্য অভিধান লাগে না। একটি আন্তরিক হাত মেলানোরও অনুবাদ প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো শরীরী ভাষাই বলে দেয় সবচেয়ে সহজ কথাটি ‘তুমি একা নও।’

২০২১ সালে ব্যক্তিগত এই উদ্যোগকে সবার অংশগ্রহণের আন্দোলনে পরিণত করার ভাবনা থেকেই শুরু হয় এই দিবস। লক্ষ্য ছিল সহজ মানুষকে মানুষের আরও কাছে আনা।

তাই আজ কাউকে ভালো লাগলে বলে ফেলুন, ‘ভালো আছ তো?’ বন্ধুর সাফল্যে হাত মেলান, প্রিয়জনের মন খারাপ হলে পাশে বসুন। আর দুজনেরই স্বস্তি থাকলে জড়িয়ে ধরুন।

পৃথিবী বদলে দেওয়ার জন্য সব সময় বড় কিছু করতে হয় না। কখনো কখনো একটি ছোট্ট আলিঙ্গনই যথেষ্ট।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
মেঘ দেখারও আছে একটি দিন!
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ
ভাবনা ভাগাভাগিতেই তৈরি হোক হাজার সম্ভাবনা
সর্বশেষ খবর
আস্থা পুনর্গঠনে আইডিআরএ’র আরেক পদক্ষেপ, ৫৮৬৮ ব্যক্তি পাচ্ছেন ২৩ কোটি টাকা
আস্থা পুনর্গঠনে আইডিআরএ’র আরেক পদক্ষেপ, ৫৮৬৮ ব্যক্তি পাচ্ছেন ২৩ কোটি টাকা
সম্পত্তি হস্তান্তরের আইন: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ 
সম্পত্তি হস্তান্তরের আইন: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ 
জাপানে সবার আগে ঋতুপর্ণারা
জাপানে সবার আগে ঋতুপর্ণারা
গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৩২ জন গ্রেফতার 
গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৩২ জন গ্রেফতার 
সর্বাধিক পঠিত
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন 
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন 
পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিনে যা আছে
পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিনে যা আছে