ইরানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রথমবারের মতো কারাগারে পাঠানো হয়েছে এক সংসদ সদস্যকে। কট্টরপন্থি এমপি হামিদ রাসায়িকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইর বিরুদ্ধে কট্টরপন্থিদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের বিশেষ ধর্মীয় আদালত ২০২৪ সালের একটি সংবাদপত্রের নিবন্ধের ঘটনায় রাসায়িকে এই সাজা দেয়। ওই নিবন্ধে গালিবাফের বিরুদ্ধে ‘পার্লামেন্টের নথি কারসাজির’অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা ইরানের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গভীর করেছে।
২০২৩ সালে তেহরান থেকে এমপি নির্বাচিত হন রাসায়ি। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে তিনি কট্টরপন্থি সাপ্তাহিক ৯ দে-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘গালিবাফের পার্লামেন্টের নথি কারসাজি’ শিরোনামের একটি নিবন্ধের কারণে ‘অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের’ অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
রাসায়ির বিরুদ্ধে অভিযোগটি গালিবাফ ২০২৪ সালের শুরুর দিকে করেন। তখনও রাসায়ি পার্লামেন্টের সদস্য হননি। তিনি একজন ধর্মীয় নেতা হওয়ায় মামলাটি বিশেষ ধর্মীয় আদালতে বিচার করা হয়।
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান জানিয়েছে, বিশেষ ধর্মীয় আদালতের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর ২৭ সেপ্টেম্বর রাসায়িকে তেহরানের এভিন কারাগারের ধর্মীয় নেতাদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
রাসায়ি রায়টিকে ‘আইনবহির্ভূত’ ও ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করলেও সাজা ভোগ করতে কারাগারে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তার কারাদণ্ডের পর কট্টরপন্থিদের মধ্যে গালিবাফ ও বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাসায়ির সমর্থকেরা অভিযোগ করেছেন, গালিবাফ সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্যদিকে রক্ষণশীলদের একটি অংশ এ ধরনের সমালোচনার বিরোধিতা করেছে।
রাসায়ির কারাদণ্ডের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা নিয়ে দেশটির রক্ষণশীল শিবিরে বিতর্ক চলছে। এ ঘটনায় দেশটির ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও