রাজশাহী বিভাগে টিসিবি ডিলারের মোট সংখ্যা ৩০১ (নওগাঁ ছাড়া)। এদের মধ্যে পণ্য তুলেছেন ৩৪ জন, তোলেননি ২৬৭ জন। অনেক ডিলার অভিযোগ করে বলেছেন, টিসিবি কর্তৃপক্ষই চায় না আমরা পণ্য তুলি। আরও জানান, চাহিদার ১০ ভাগের একভাগ পণ্যও সরবরাহ করা হয় না। ভোক্তা ও ডিলারদের সাধারণ অভিযোগটি হলো, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেকগুণ কম। এমন অভিযোগের বিপরীতে দায়িত্বশীলদেরও রয়েছে নিজস্ব ভাষ্য। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী প্রাপ্ত চিত্রটি নিম্নরূপ।
রাজশাহী
রাজশাহী জেলায় মোট ৯৮জন ডিলার রয়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৭০টি। আর বাকি ৯টি উপজেলায় আছে ২৮টি।
টিসিবি রাজশাহী বিভাগের ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, রজমান উপলক্ষে গত ৮জুন প্রথম পর্যায়ের বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছিল ২৯ মে থেকে। দ্বিতীয় পর্যায়ের বিক্রি কার্যক্রম এখন পর্যন্ত নির্দেশনা আসেনি। আমরা প্রথম পর্যায়ে চিনি, তেল, ছোলা ও ডাল দিয়েছি।
প্রথম দফায় বেশির ভাগ ডিলারই পণ্য নিতে আসেননি, বিষয়টি স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, এবার ভালো মানের পণ্য ছিল। এরপরও কেন প্রথম পর্যায়ে ডিলাররা পণ্য উত্তোলন করতে আসেনি তা বলতে পারবো না। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে ডিলাররা আগ্রহ নিয়ে পণ্য উত্তোলন করতে আসবেন। যারা নিয়মিত পণ্য তুলছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক ড. ফয়সাল কবির চৌধুরী বলেন, অনেক সময় টিসিবির পণ্যর মান নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এতে করে অনেকে আবার টিসিবির পণ্য ক্রয় করার আগ্রহ দেখান না। এর কারণ ডিলাররা টিসিবির ভালো পণ্য উঠিয়ে বাজারে খারাপ পণ্য ছাড়ে। ফলে টিসিবির পণ্য ছাড়ার সময় প্রশাসন থেকে কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে।
নওগাঁ
জেলার টিসিবি ডিলার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন অধিদফতর। বাজার মূল্যের চেয়ে দাম কম হওয়ায় টিসিবির পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ছোলা, চিনির প্রতি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা বাজার কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নওগাঁ শহরের তিনটি পয়েন্ট (ঘোষপাড়া, ব্রীজের মোড় এবং মুক্তির মোড়) টিসিবি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পুরো রমজান জুড়ে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। চিনি ৪৮ টাকা, মসুর ডাল ৯০ টাকা, সয়াবিন তেল ৮০ টাকা ও ছোলা ৭০ টাকা দরে এই ৪টি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ০৬ জুন তারিখে ৪র্থ কিস্তির মাল সরবরাহ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চিনি ২০০ টাকা কেজি, মসুর ডাল ২৫০ টাকা কেজি, সয়াবিন তেল ২০০ টাকা লিটার, ছোলা ৭০ টাকা কেজি। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেন।
ব্রিজের মোড়ে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাজারের চেয়ে দাম কম হওয়ায় তিনি টিসিবির পণ্য কিনেন। তবে শহরের আরও কয়েকটি স্থানে পয়েন্ট থাকলে ভোক্তাদের উপকার হতো বলে তিনি মনে করেন।
বগুড়া
জেলা প্রশাসকের দফতর সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭৪ ডিলারের মধ্যে মাত্র দু’জন পণ্য তুললেও তাদের সামান্য দেওয়া হয়েছে।
ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ দিয়ে লোকসান হয়, তাই অন্যরা পণ্য ওঠাননি । কেউ কেউ ডিলারশিপ বাতিলের চিন্তা-ভাবনা করছেন।
ডিলারদের মধ্যে রয়েছেন টিএমএসএস মহিলা মার্কেটের ববিতা রাণী বর্মণ ও সেউজগাড়ির হেলাল মন্ডল। ডিলার ববিতা রানী বর্মণ জানান, তার প্রতিনিধি ট্রাক নিয়ে রাজশাহী টিসিবি’তে গেলে ২০০ লিটার তেল, ৩০০ কেজি ছোলা, ২৫০ কেজি চিনি ও ২৫০ কেজি মসুরের ডাল দেওয়া হয়েছে। অনুরোধ করেও বেশি মাল পাওয়া যায়নি। তিনি মহিলা মার্কেটের গুদাম থেকে পণ্য বিক্রি করছেন।
ডিলার হেলাল মণ্ডলের প্রতিনিধি মাসুদ জানান, তারা সেউজগাড়িতে টিসিবির পণ্য বিক্রি করেন। তিনি জানান, পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় সামান্য মাল এনে তাদের লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টিসিবির রাজশাহী কার্যালয়ের কর্মকর্তা কবিরের বক্তব্য জানতে চাইলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বগুড়ার ডিলাররা টিসিবির পণ্য বিক্রি অলাভজনক মনে করেন, তাই তারা মালামাল ওঠান না। তারা দূরত্ব হিসেবে লোকসানের অভিযোগ করলে কেজি প্রতি ৫ টাকা ৪০ পয়সা কমিশন দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও অনেকে পণ্য তুলতে রাজি হচ্ছেন না। কেউ কেউ ডিলারশিপ প্রত্যাহার করতে চান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জেলায় টিসিবির ডিলারের মোট সংখ্যা-২৫ জন। এরমধ্যে-সদর উপজেলায় ১১জন, শিবগঞ্জ উপজেলায়-৫জন, গোমস্তাপুর উপজেলায়-২জন, নাচোলে ২জন ও ভোলাহাটে ৫জন। এদের মধ্যে কোনও ডিলারই পণ্য ওঠাননি।
মেসার্স শামীম ট্রেডার্স এর মালিক মাহবুব-উল-ইসলাম শামীম জানান, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনও ডিলারই টিসিবির পণ্য ওঠাননি। তবে তিনি জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কোনওদিনই তারা পণ্য পান না। আরও জানান, এসব পণ্যের মান খুব একটা ভালো নয়। মাঝে মাঝে মেয়াদ্দোত্তীর্ণ পণ্য পাঠানো হয়। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া যায় না। যানবাহন খরচ অনুযায়ী লাভ সীমিত। সারা বছর পাওয়া যায় না। এসব পণ্য উত্তোলনের সময় ঘুষ দিতে হয়। আবার যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যায় সেই পণ্যের জন্য একজন ডিলারকে একাই একটি ট্রাক ভাড়া করে পণ্য নিয়ে আসতে হয় যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহেদ জানান, টিসিবির যে সমস্ত ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে জেলায় সেগুলো ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে একটিরও তালিকা তৈরি করা হয়নি। এগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিকভাবে দেওয়া হয়েছে কোনও যাচাই-বাছাই ছাড়াই। আর এসবের বেশিরভাগই ভুয়া প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন টিসিবিকে কার্যকর করতে হলে এর সিস্টেম পরিবর্তন করা দরকার। তা নাহলে এর সুফল কোনওদিনই সাধারণ গরিব মানুষ পাবে না।
জয়পুরহাট
জয়পুরহাট জেলায় টিসিবির মোট ডিলার সংখ্যা ২৬ জন। এদের মধ্যে রমজান মাসে একজন মাত্র ডিলার মাল উঠিয়েছেন। বাকি ২৫ জন ডিলার টিসিবির কোনও মালামাল ওঠাননি। একমাত্র পাঁচবিবি বাজারে লালজি প্রসাদ গোয়ালার দোকানে পণ্য দেখা গেলেও তারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অধিকাংশ সময়ে মালামাল পাওয়া যায় না।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বাজারের টিসিবি ডিলার লালজি প্রসাদ গোয়ালা জানান, তাদের মালামাল সংগ্রহ করতে হয় রাজশাহী বিভাগীয় শহর থেকে। আগে এসএমএস দিয়ে (ক্ষুদে বার্তায়) জানানো হলেও এখন শুধু ফোন করে বলা হয় মালামাল সংগ্রহ করতে। জয়পুরহাট থেকে ট্রাক ভাড়া দিয়ে খুব কম মাল সরবরাহ পাওয়ায় বিক্রি করে পোষায় না। এ ছাড়া ওজনেও ঘাটতি থাকে। দু’তিন জন ডিলার মিলে মালামাল তুলতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয় না।
টিসিবির পণ্য ওঠাননি জয়পুরহাট শহরের মেসার্স প্রার্থনা এন্ড প্রত্যয় ট্রেডার্সের মালি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি বলেন, টিসিবি কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে তিনি এবার পণ্য উঠাতে পারেননি। তাকে ফোনে জানানো হয়েছে বরাদ্দ মজুদ সাপেক্ষে মালামাল তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ট্রাক ভাড়া করে গিয়ে যদি মাল না থাকে তাহলে লোকসান হবে এজন্য আর মাল নিতে যাননি। পরে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়েছে, সব মাল শেষ হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, টিসিবি কর্তৃপক্ষই চায় না আমরা পণ্য তুলি।
জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী সদস্য ও ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রওনকুল ইসলাম চৌধুরী টিসিবি সম্পর্কে বলেন, বাজারের তুলনায় দাম কম থাকায় টিসিবি পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা বেশি উপকৃত হতো।
রাজশাহী বিভাগের জেলাভিত্তিক টিসিবি ডিলার ও তাদের কার্যক্রম
জেলা | ডিলার সংখ্যা | পণ্য তুলেছেন | পণ্য তোলেননি |
চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ২৫ | ০ | ২৫ |
জয়পুরহাট | ২৬ | ১ | ২৫ |
সিরাজগঞ্জ | ৪৩ | ০ | ৪৩ |
পাবনা | ৫ | ২ | ৩ |
রাজশাহী | ৯৮ | ০ | ৯৮ |
নওগাঁ | সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই (নগরীর তিনটি স্থানে টিসিবি পণ্য বিক্রি হচ্ছে) |
|
|
বগুড়া | ৭৪ | ২ | ৭ ২ |
নাটোর | ৩০ | ২৯ | ১ |
নাটোর
নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রমজান মাসে টিসিবির পণ্য নাটোরে বিক্রির জন্য ডিলার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন সিংড়ার মেসার্স মানিক কুমার সাহার স্বত্বাধিকারী মানিক কুমার। টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য সরবরাহ করার চিঠি সর্বশেষ গত ৫-৬ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছে। এরপর আর কোনও পত্র তারা পাননি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ৩০-৩১ মে মানিক কুমার ৮শ’ কেজি চিনি, ৬শ’ লিটার সয়াবিন তেল, ৪শ’ কেজি মসুর ডাল এবং ১৬শ’ কেজি ছোলা পেয়েছেন। অপরদিকে, ৫-৬ জুন মানিক কুমার চিনি ৬শ’ কেজি, সয়াবিন ৪শ’ লিটার, মসুর ডাল ৬শ’ কেজি এবং ছোলা পেয়েছেন ৮শ’ কেজি।
ডিলার মানিক কুমার সাহা দাবি করেন, তিনি টিসিবির পণ্য মাত্র ৪দিন বিক্রি করতে পেরেছেন। গত ৭ তারিখে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তাকে জানানো হয় যে, টিসিবি থেকে পণ্য সরবরাহ সম্ভব নয় বিধায় তাকে আর পণ্য দেওয়া যাবে না। এরপর থেকে তার দোকানে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
টিসিবি রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী অফিস প্রধান আনিসুর রহমান জানান, দেশের মোট ১৭৪ জন ট্রাক সেল ডিলারের মধ্যে নাটোরে রয়েছে ২ জন। এর মধ্যে শহরের উত্তর পটুয়াপাড়ার নূরুল আমিন খান এবারে পণ্য সংগ্রহ করেন নাই। শুধুমাত্র মানিক কুমার সাহা পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করেছেন। অপরদিকে ট্রাক সেলের বাইরে নাটোর জেলায় মোট ২৮ জন সাধারণ ডিলার রয়েছেন যারা গত ২৯ মে থেকে সরবরাহকৃত তারিখ পর্যন্ত টিসিবির পণ্য কিনে বিক্রি করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, চলতি রমজান মাসে রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ২-৩শ কেজি চিনি,২৫০-৩০০ লিটার সয়াবিন তেল,২-৪শ কেজি সোলা এবং ১৫০-৩০০কেজি ডাল সরবরাহ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে টিসিবির ডিলার ৪৩ জন। এদের মধ্যে কেউ এবার পণ্য তোলেননি। ডিলাররা জানান, এবার রোজার সময় চিনি, ডাল, ছোলা, সয়াবিন তেলের দামের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। টিসিবির পণ্যের এসব মালামাল বাজার দরের চেয়ে সরকারি দর কম হওয়ায় এবার বেশ চাহিদা ছিল। রাজশাহীর টিসিবি গোডাউন থেকে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পরিবহনে ট্রাক ভাড়া কম করে হলেও ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার। তার ওপর ডিলারদের যাতায়ত ও থাকার খরচ। কেজি প্রতি টিসিবির কমিশন প্রায় সাড়ে ৫ টাকা। এবার মালামাল তুলে প্রতি জন ডিলারই ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান দিয়েছেন।
ডিলারদের ভাষ্য থেকে আরও জানা যায়, চলতি মাসের ৫ তারিয়ে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেনের সভপতিত্বে টিসিবির ডিলারদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিলারদের দীর্ঘ দিনের অনিহার কারণে ওই সভায় সদর উপজেলার ৬ জন, উল্লাপাড়ার ৬ জন এবং রায়গঞ্জ উপজেলার সাতজন সহ মোট ১৯ জন ডিলারদের অনুমোদনপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়। ওই সভায় একযোগে অনুমোদনপত্র হস্তান্তরের দাবি জানান ডিলারদের সকলেই।
কাজিপুর উপজেলার মেসার্স সিকিউরিটি ট্রেডার্স’র সত্ত্বাধিকারী মো. শফিকুল ইসলাম ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিসিবির মালামাল তোলার সাধ মিটে গেছে। বরাদ্দ আগে থেকে না বলায় আমরা ২০১২ সালে ১৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত জমা দিয়েছি। সে টাকাও ফেরত দেয়নি, বিপরীতে মালামালও সরবরাহ করা হয়নি। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিসিবির বিষয়ে আমাদের ডেকেছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে ৬ দফা শর্ত দিয়েছি। টিসিবি নিয়ে আমাদের বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে যে, ‘ ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’র মতো।
জেলা টিসিবি মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব এনডিসি মো. হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন, টিসিবির তো সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এবার রমজানের আগে টিসিবির লোকজন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আগের মতো অবস্থা হবে না। যদি কোনও ডিলার অনাগ্রহী হন, তাহলে তিনি অনুমোদনপত্র হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবার আবেদন করতে পারেন।
পাবনা
জেলায় টিসিবির ডিলারের মোট সংখ্যা ৫ জন। এর মধ্যে পাবনা সদর উপজেলায় ৩ জন ও ঈশ্বরদী উপজেলায় ২ জন ডিলার। এদের মধ্যে শুধু ঈশ্বরদীর ২ জন ডিলার টিসিবির পণ্য উঠিয়েছেন, ৩ জন ওঠাননি।
পাবনার ঈশ্বরদীর টিসিবির ডিলার সুমন স্টোরের মালিক সিরাজুল ইসলাম শিবলু বলেন, রাজশাহী থেকে আমাদের নামে সপ্তাহে দুইদিনের টিসিবির পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা সেখান থেকে পণ্য তুলে এনে দুইদিন বিক্রি করি। শুরুর দিকে বরাদ্দ বেশি থাকলেও বর্তমানে সেই বরাদ্দ আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে টিসিবির পক্ষ থেকে। ফলে ক্রেতা সাধারণের যে চাহিদা সে অনুযায়ী আমরা পণ্য সরবরাহ দিতে পারছি না।
টিসিবির পণ্য কিনতে আসা আবুল কালাম বলেন, পাবনার মতো বড় একটি শহরে মাত্র দু’টি ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে সাধারণ মানুষের চাহিদা মিটছে না। হাসিনা আক্তার নামের এক গৃহিণী বলেন, টিসিবির পণ্য বিক্রির যে সিদ্ধান্ত সরকারের সেটা অবশ্যই ভালো। তবে দু’একটি পণ্যের মান ভালো নয়। মানসম্পন্ন পণ্য বেশি করে সরবরাহ করা গেলে রমজান মাসে আমরা উপকৃত হবো।
পাবনা চেম্বার অব কর্মাসের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব-উল-আলম মুকুল বলেন, কয়েক বছর ধরে দেখছি, পাবনা জেলা প্রশাসনের কাছে টিসিবির কোনও তথ্য থাকে না। তারা জানে না কারা টিসিবির ডিলার, কিভাবে বা বাস্তবায়ন হয় পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়াটি। খতিয়ে দেখা হয় না সাধারণ মানুষ টিসিবির সেবা পাচ্ছেন কিনা। কম মূল্যে মানুষকে পণ্যসেবা দেওয়ার সরকারের যে লক্ষ্য তা পূরণ হচ্ছে না।
/এইচকে/টিএন/আপ-এসটি
আরও পড়ুন
আশানুরূপ কার্যক্রম ছিল না বরিশাল বিভাগেও
টিসিবি অকার্যকর, বাজারে কোনও প্রভাব নেই
ঢাকাতেও ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সামান্য বরাদ্দ পেয়েছেন ডিলাররা
রোজায় ১৮ জেলায় পৌঁছায়নি টিসিবি’র পণ্য
রংপুর অঞ্চলের ডিলারদের অভিযোগ: ব্যাপক চাহিদা তবুও বন্ধ করা হয়েছে পণ্য সরবরাহ
চট্টগ্রামের ৬ জেলার মানুষ পাননি টিসিবি’র কোনও পণ্য
খুলনা অঞ্চলে পণ্য তুলেছেন মাত্র ২৩ শতাংশ ডিলার, দেওয়া হয়নি তেল-খেজুর