ময়মনসিংহ বিভাগে টিসিবি’র ডিলারদের বেশিরভাগই রমজান মাসে নায্যমূল্যে বিক্রির পণ্য ওঠাননি। ডিলারদের অনাগ্রহে নেত্রকোনায় বিক্রি হয়নি টিসিবি’র কোনও পণ্য। চাহিদা থাকলেও খেজুর বরাদ্দ পাননি কোনও ডিলার। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:
জামালপুর
জামালপুর জেলায় টিসিবির ডিলারের মোট সংখ্যা ৬৩ জন। সদর উপজেলায় ১৫ জন, মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১৫ জন, সরিষাবাড়ী উপজেলায় ১২ জন, মেলান্দহ উপজেলায় ৯ জন, ইসলামপুর উপজেলায় ৮ জন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ২ জন এবং বকশীগঞ্জ উপজেলায ২ জন। এদের মধ্যে টিসিবির পণ্য উঠিয়েছেন ২০ জন, পণ্য ওঠাননি ৪৩ জন।
জামালপুর শহরের টিসিবির পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান উত্তরা টেডিং এর ডিলার গোবিন্দ সাহা বলেন, এবারের রমজানে পণ্যের মান ভালো, তবে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাননি। তিনি তার অংশে পেয়েছেন মুসুরের ডাল ৫০০ কেজি, সয়াবিন ২০০ লিটার, ছোলা ৭০০ কেজি এবং চিনি ২০০ কেজি। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী অনেক বেশি পণ্যের দরকার।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বাজার ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতা সুবীর বসাক বলেন, ক্রেতার চাহিদার তুলায় টিসিবির পণ্য খুবই অল্প। টিসিবির পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।
ময়মনসিংহ
লোকসানের আশঙ্কায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলার (ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল) ডিলাররা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সরবরাহকৃত পণ্য উত্তোলন করছেন না। তবে টিসিবির দাবি বরাদ্দ না থাকায় পণ্য উত্তোলন ও বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের এক কোটি মানুষ।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির ময়মনসিংহের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার ২শ’ ৮৫ জন চুক্তিবদ্ধ ডিলার থাকলেও পণ্য উঠিয়েছেন মাত্র ১শ’ ১০ জন। আর ময়মনসিংহের ৭০ জন ডিলারের মধ্যে পণ্য উঠিয়েছেন মাত্র ২০ জন। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ময়মনসিংহ সদরসহ ১০টি উপজেলার কোনও ডিলারই টিসিবি’র পণ্য তোলেননি।
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার একজন ডিলার আব্দুল বারিক জানান, আমাদের লাভ কম হওয়ায় গত দু’বছর ধরে টিসিবির পণ্য উত্তোলন করি না।
টিসিবি ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের, সহকারী কার্যনির্বাহী মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। টিসিবির ছোলা, চিনি, মসুর ডাল, তেল, খেজুর বরাদ্দ হলেও আমরা খেজুর একেবারে পাইনি। তিনি জানান, সারা দেশে আটটি অঞ্চলের মধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলের যেসব ডিলার পণ্য নেননি, তাদের শোকজ করা হবে। উপযুক্ত জবাব দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাভিত্তিক টিসিবি ডিলার ও তাদের কার্যক্রম
জেলা | ডিলার সংখ্যা | পণ্য তুলেছেন | পণ্য তোলেননি |
জামালপুর | ৬৩ | ২০ | ৪৩ |
ময়মনসিংহ | ৭০ | ২০ | ৫০ |
নেত্রকোনা | ৭ | ০ | ৭ |
শেরপুর | ২০ | ২ | ১৮ |
নেত্রকোনা
নেত্রকোনা জেলার ৭ জন টিসিবির ডিলার রয়েছে। তারা গত বছরের ডিলারশিপ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এবছরও তাদের টিসিবির পণ্য ওঠানোর জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু ডিলাররা পণ্য উত্তোলন করেননি। ফলে নেত্রকোনার বাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়নি।
নেত্রকোনা শহরের কাটলী এলাকার বাসিন্দা টিসিবির ডিলার সারোয়ার জাহান রঞ্জন বলেন, আমি গত বছর টিসিবির ডিলারশিপ ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু এবছরও আমাকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু আমি টিসিবির পণ্য উত্তোলন করিনি। কারণ টিসিবির পণ্যেও মান ভাল থাকে না, দামে বাজার দরের চেয়ে বেশি ইত্যাদি সমস্যার জন্য আমি ডিলারশিপ হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেছি।
নেত্রকোনার ডিলার রঞ্জন জানান, আমরা ট্রাকে পণ্য বিক্রি করে লাভ করতে পারছি না। কোনও ডিলার পণ্য উত্তোলন না করায় রমজান মাসে ন্যায্য মূল্যে টিসিবির চিনি, সয়াবিন, ডাল ও ছোলা কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষেরা।
নেত্রকোনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান,বাজার দরের চেয়ে টিসিবির পণ্যের মূল্য বেশি ও এর গুণগত মান ভাল না থাকায় ডিলাররা মালামাল ওঠাননি। সরকারি ভাবে মালামালের মান বজায় রেখে বাজারে টিসিবির পণ্য বিক্রি করলে সাধারণ মানুষ ও ডিলারদের আগ্রহ বাড়বে।
শেরপুর
শেরপুরে টিসিবি ডিলারের সংখ্যা ২০ জন। এদের মধ্যে শেরপুরে ৭ জন, শ্রীবরদিতে ৪ জন, ঝিনাইগাতীতে ২ জন, নকলায় ৪ জন ও নালিতাবাড়ীতে ৩ জন ডিলার রয়েছেন। এদের মধ্যে রমজানের আগে শেরপুর সদর উপজেলার দুইজন ডিলার টিসিবির পণ্য উঠিয়েছিলেন।
শেরপুর সদর উপজেলার মদিনা ট্রেডের টিসিবি ডিলার ফজলে আজিম জানান রমজানের আগে তিনি ৯৪ হাজার টাকার টিসিবির পণ্য সরবরাহ পেলেও রমজানের সময় টিসিবির কোনও পণ্য সরবরাহ পাননি।
/এইচকে/টিএন/আপ-এসটি
আরও পড়ুন
'টিসিবি চায় না, আমরা পণ্য তুলি'
আশানুরূপ কার্যক্রম ছিল না বরিশাল বিভাগেও
টিসিবি অকার্যকর, বাজারে কোনও প্রভাব নেই
ঢাকাতেও ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় সামান্য বরাদ্দ পেয়েছেন ডিলাররা
রোজায় ১৮ জেলায় পৌঁছায়নি টিসিবি’র পণ্য
রংপুর অঞ্চলের ডিলারদের অভিযোগ: ব্যাপক চাহিদা তবুও বন্ধ করা হয়েছে পণ্য সরবরাহ
চট্টগ্রামের ৬ জেলার মানুষ পাননি টিসিবি’র কোনও পণ্য
খুলনা অঞ্চলে পণ্য তুলেছেন মাত্র ২৩ শতাংশ ডিলার, দেওয়া হয়নি তেল-খেজুর