যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা

কেউ দেখছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন, কেউ বলছেন উন্নয়ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে যশোর জেলার সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে পুরো শহর। সংস্কার হচ্ছে রাস্তাঘাট। পাশাপাশি বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লেখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষজন। উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভাসছেন তারা।

যশোরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন বলছেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। বিগত কয়েক বছরে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। করোনাকালে ভ্যাকসিনসহ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, দরিদ্রদের জন্য খাদ্য সহায়তাসহ নগদ টাকা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি জেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। 

আরও পড়ুন: যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা যেসব কারণে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) যশোরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানিয়েছেন তারা।

শহরের শহীদ মসিউর রহমান সড়কে কথা হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নূরুল ইসলামের সঙ্গে। তার বাড়ি বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামে। তিনি বলেন, ‘জনসভার দিন মাঠের আশেপাশে থাকবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। প্রতি তিন মাসে দুই হাজার ৫৫০ টাকা করে পাই। খাজুরায় একটা ব্রিজ করে দিয়েছেন, মডেল মসজিদ করেছেন। রাস্তাঘাট করেছেন অসংখ্য। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি ভালো আছি।’

বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লেখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ চলছে

শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারের মুদি দোকানি ফারুক পারভেজ বলেন, ‘বহুদিন পর প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। তাকে দেখতে বহু মানুষ যাবে; তার বক্তব্য শুনবে। আমিও যাবো। আসলে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশে উন্নয়ন হয়। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হয়। তার বিকল্প নেই। আমরা আগামীতেও তাকে চাই।’

একই এলাকার মাংস ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়ন। অন্য যেকোনো সরকারের চেয়ে শেখ হাসিনার সময়ে দেশে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে আমরা এসব উন্নয়ন সম্পর্কে জেনেছি। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য পদ্মা সেতু, কালনা (মধুমতি) সেতু, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাটসহ বহু উন্নয়ন করেছেন তিনি। যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন যেন তিনিই প্রধানমন্ত্রী থাকেন। তবে তার কাছে আমার একটাই চাওয়া, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম যেন তিনি মানুষের নাগালে রাখেন।’

চৌগাছা উপজেলার বড়খাঁপুর গ্রামের কৃষিশ্রমিক তাহাজ্জেত আলীর সঙ্গে কথা হয় জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনের পাশের চা-দোকানে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ভালোবাসি। তার কথা শুনতে, তাকে এক নজর দেখতে জনসভায় যাবো। কারণ তিনি এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার উন্নয়ন করেছেন।’

আরও পড়ুন: যশোরে উৎসবের আমেজ, স্মরণকালের জনসমাগমের আশা

আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনের পাশের চা-দোকানি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ভালোবাসি। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছেন শেখ হাসিনা। তার জনসভায় যেতেই হবে। জনসভায় আগামী দিনে আরও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন তিনি।’

শহরের মুজিব সড়কে কথা হয় রিকশাচালক আলতাফ হোসেন ও ইজিবাইকচালক শাহিন মল্লিকের সঙ্গে। তারা জানান, শেখ হাসিনা গরিব মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন। ১৫ টাকা দরে চাল, ১৮ টাকা দরে আটা ছাড়াও টিসিবির মাধ্যমে ডাল-তেল, চিনি, পেঁয়াজ ও ছোলা কম দামে কেনার ব্যবস্থা করেছেন। তাকে দেখতে, তার কথা শুনতে জনসভায় যাবো।

যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়াম

স্থানীয় সংবাদকর্মী আমিনুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে দুস্থ সাংবাদিকরা অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছেন। তারই সময়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের সংবাদকর্মীরা অর্থনৈতিক সহায়তা পাচ্ছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের জন্য পদ্মা সেতু, মধুমতি সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক নির্মাণ করেছেন। তিনি ঘরহীন মানুষের থাকার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। যশোরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইপিজেড নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব কারণে এই অঞ্চলের মানুষ তার জনসভায় যাবে। সেইসঙ্গে বারবার তার সরকারকে চাইবে।’ 

বারীনগর এলাকার কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘শরীর সুস্থ থাকলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যাবো। তার সময়কালে কৃষিতে আমরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছি। গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পেয়েছি। তার কারণে এখন খুব তাড়াতাড়ি সবজি ঢাকায় পাঠাতে পারি। তাকে এক নজর দেখতে যাবো।’

আরও পড়ুন: ৫০ বছর পর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই মাঠে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর (সংরক্ষিত) নাসিমা আক্তার জলি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রদীপ। তার কারণে দেশের হতদরিদ্র মানুষ সহজে নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। তিনি নারীদের কল্যাণে, তাদের ক্ষমতায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। আজ যে বিধবাভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্কভাতা, ভিজিএফ—ইত্যাদি অর্থনৈতিক সহায়তা মানুষের দোরগোড়ায়, তা কেবল সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার কারণে। তিনি দেশে উন্নয়নের কারিগর। তার হাত ধরেই হয়েছে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন।’

জেলা আইনজীবী খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছেন। যশোর তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য তিনি অনেক কিছুই করেছেন। তিনি ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষ কিছু পায়; সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা ভাবেন। তাদের জন্য কাজ করেন। তার কাছে চাইলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। সেই কৃতজ্ঞাবোধ থেকেই তার জনসভায় সাধারণ মানুষের স্রোত নামবে।’

দেয়াল লেখন, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণসহ ব্যাপক সাজসজ্জার কাজ চলছে

যশোরের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর কবু বলেন, ‘জনসভায় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি মূলত কম হয়। সেখানে সরব উপস্থিতি থাকে নতুন প্রজন্মের। আর নতুন প্রজন্ম জেনে গেছে, শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়ন, শেখ হাসিনা মানেই জনগণের কল্যাণ। যশোরের মানুষ খুব ভালো করে জানে, প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। পদ্মা সেতু, কালনা সেতু উদ্বোধনের পর এই অঞ্চলের মানুষকে আর ঢাকা বা ঢাকার বাইরে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কিংবা ফেরিতে আটকে থাকতে হয় না। সকালে ঢাকায় পৌঁছে দিনের কাজ শেষ করে বিকালে ফিরে আসা যায়। করোনাকালে তার সাহসী পদক্ষেপ আমরা মনে রেখেছি। এসব কারণে তার জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে।’

আরও পড়ুন: ‘যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে’

প্রসঙ্গত, আগামী ২৪ নভেম্বর যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। তারা চাইছেন, ঐতিহাসিক এই মাঠের জনসভায় পাঁচ লাখের বেশি জনসমাগম ঘটাতে। কেননা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম যে জনসভা করেন, সেটি ছিল যশোর স্টেডিয়ামে। ৫০ বছর পর একই মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।