প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীরা খুশি, কারণ কী

গোলাম মওলা
১২ জুন ২০২৬, ২২:০০আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ২২:০০

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, রফতানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে একগুচ্ছ কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। একইসঙ্গে কর প্রশাসন সহজীকরণ, ব্যবসা পরিচালনার সময় ও ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে করের হার কমানো হয়েছে। এর মধ্যে নগদ সহায়তার ওপর আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে উৎসে করের হার ১ শতাংশ এবং করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে— যা ব্যবসা খাতকে নীতিগত স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রফতানি খাতের জন্য নতুন সুবিধা

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে একটি নতুন এসআরও জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ রফতানিকারকরা দেশীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ছোট উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

একইসঙ্গে বন্ড সুবিধার আওতা বাড়ানো হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিট আলাদা আইনগত সত্তা হলেও যদি মূল প্রতিষ্ঠানের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করে, তাহলে তারা ধারাবাহিক বন্ড সুবিধা পাবে। ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।

তবে ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করে পুনঃরফতানির শর্ত আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, এটি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।

সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড়

পরিষ্কার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির আমদানিতে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ব্যাটারি শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, সেল কম্পোনেন্ট, ব্যাটারি প্যাক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানির সুবিধা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া সোডিয়াম-আয়ন ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উপকরণের আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সহায়ক শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।

শিল্প উৎপাদনের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

শিল্প খাতের অন্যতম দাবি ছিল— কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো। প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির সাধারণ শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

একইসঙ্গে আমদানি করা সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিকের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এতে শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার কমবে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

পলিয়েস্টার স্পান ইয়ার্ন উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানিকৃত পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপেরও প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প পরিচালনার জন্য ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) পরিচালনায় ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানির শুল্ক অব্যাহতি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

কর ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন

ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হলেও তা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যয় ও সময় কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া করদাতারা অর্থবছরের শুরুতেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। ব্যবসায়িক খরচের ক্ষেত্রে পরিতোষিক, আপ্যায়ন, নমুনা পণ্য এবং প্রচারণা ব্যয়ের গ্রহণযোগ্য সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা করদাতাদের ওপর চাপ কমাবে।

উৎসে করের হার কমছে বিভিন্ন খাতে

বাজেটে কয়েকটি খাতে উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হচ্ছে।

রঙ ও প্রসেসিং শিল্পে জ্বালানি

সরবরাহের ওপর উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কাঁচামালের ওপর করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশে লভ্যাংশ প্রেরণ সহজ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

কোনও প্রশ্ন ছাড়াই আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। জমি, ভবন বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলে উল্লিখিত মূল্যের তুলনায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য বেশি হলে, সেই অতিরিক্ত অপ্রদর্শিত অর্থ স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা করে নিয়মিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে। এ সুবিধা ক্রেতা ও বিক্রেতা— উভয় পক্ষই পাবেন।

যদিও বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের সুযোগ না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত অর্থবিলে এ-সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনও উল্লেখ করেননি। ফলে কালো টাকা বৈধ করার এই প্রস্তাবটি সংসদে আলাদা আলোচনা ছাড়াই অর্থবিলের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অর্থবিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিল সংশোধনের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো করদাতার জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার প্রকৃত মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি ওই অতিরিক্ত অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত করহারে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অর্থ আইন বা দেশের অন্য কোনো আইনে ভিন্ন বিধান থাকলেও কোনও ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে এ কর পরিশোধ করলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে তার বিরুদ্ধে কোনও প্রশ্ন উত্থাপন বা আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনও সুযোগ রাখা হয়নি। বরং ভূমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশে করদাতাদের উৎসাহিত করতে একটি সীমিত সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এছাড়া বাজেটে আবাসিক করদাতাদের পুনঃবিমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা

ব্যবসা শুরু ও বিনিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোম্পানি নিবন্ধনের সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্তৃপক্ষ অনুমোদন বা আপত্তি না জানালে আবেদন জমার দিন থেকেই সেটিকে অনুমোদিত বলে গণ্য করার বিধান আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানা এলাকায় ইউটিলিটি সংযোগের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমাও ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হচ্ছে।

ঢাকার বাইরে শিল্পায়নে বিশেষ সুবিধা

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইরে নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দিতে তৈরি পোশাক শিল্প এবং ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে ত্বরিত অবচয় সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা পাওয়া যাবে।

এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারেন। পণ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি ল্যাবরেটরির পাশাপাশি আইএসও স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরির সেবাও গ্রহণ করা যাবে।

কী বলছেন ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং রফতানি খাত নতুন গতি পাবে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি উৎপাদন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্প এবং রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারে।

তবে তারা মনে করেন, শুধু কর-শুল্ক ছাড় নয়, এসব সুবিধার কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের এসব উদ্যোগকে তাই ব্যবসা ও শিল্পখাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান  বলছেন, ‘‘এই বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উৎস কর বাস্তবসম্মতভাবে পর্যালোচনা করা গেলে দীর্ঘদিনের হয়রানি কমবে। তার মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতকে সহায়তা করার কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে।’’ তবে তিনি একইসঙ্গে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েই সবচেয়ে বড় শঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বাজেট যদি ঘোষণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এটি গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’’

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘‘করব্যবস্থার সংস্কার এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর সুবিধা সম্প্রসারণ তৈরি পোশাক শিল্পের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয় ও ফেরতের উদ্যোগ শিল্প খাতের তারল্য সংকট কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি রফতানিমুখী নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং বিভিন্ন প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।’’

সংগঠনটির মতে, বাজেটের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা ইতিবাচক হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ঘোষিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, সংস্কারমুখী ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। এই বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য করে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।

শুক্রবার (১২ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিআই সভাপতি বলেন, ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের গৃহীত সংস্কারমুখী পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত, কর ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের অঙ্গীকার দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’’

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘ব্যবসা বান্ধব বাজেট’ বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে এই বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়, তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এ বাজেটের প্রকৃত সাফল্য।’’

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধির বাজেটটি উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যার আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং নতুনভাবে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর এবার বিএনপি জোট নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সাড়ে তিন মাসের মাথায় এই বাজেট। এতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার কঠিন এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বাজেট। তবে বিএনপি সরকারের দেওয়া এটি ১৭তম বাজেট। চলতি বছর তৈরি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি। তবু ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে রেকর্ড পরিমাণ দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। অবশ্য আরও ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে এডিপিবহির্ভূত। ঘোষিত এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। সরকারের একমাত্র আয়ের বড় খাত হলো এনবিআর। ২০২৬-২৭ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। কেননা চলতি বছরের বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকার বেশি।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে কি দুর্নীতি কমবে, প্রশ্নে যা বললেন অর্থমন্ত্রী
মৌজা রেট বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তাবিত বাজেট সন্তোষজনক: বিকেএমইএ
সর্বশেষ খবর
ইরান-মার্কিন চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত, দাবি পাকিস্তানের
ইরান-মার্কিন চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত, দাবি পাকিস্তানের
‘দুই শক্তি এক করার’ কী বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
‘দুই শক্তি এক করার’ কী বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল: ভর্তি রোগী যাবে ৬ সরকারি হাসপাতালে
আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল: ভর্তি রোগী যাবে ৬ সরকারি হাসপাতালে
রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় তিনদিনে ৪ জনের মৃত্যু, তিনজনই নারী
রাজধানীতে ট্রেনের ধাক্কায় তিনদিনে ৪ জনের মৃত্যু, তিনজনই নারী
সর্বাধিক পঠিত
সংসদ নির্বাচনে ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত বিএনপি নেতা পেলেন নতুন দায়িত্ব
সংসদ নির্বাচনে ২৭ হাজার ভোটে পরাজিত বিএনপি নেতা পেলেন নতুন দায়িত্ব
বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে যা বললেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে যা বললেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
কেন দলে দলে নাগরিকত্ব ছাড়ছেন মার্কিনিরা
কেন দলে দলে নাগরিকত্ব ছাড়ছেন মার্কিনিরা
আজ থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ: ট্রাম্প
আজ থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ: ট্রাম্প
বাধার মুখে গাইবান্ধায় ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত
বাধার মুখে গাইবান্ধায় ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত