এ সপ্তাহেও নিত্যপণ্যের বাজারে সুখবর নেই

গোলাম মওলা
২২ জুলাই ২০২২, ১৭:২১আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ১৯:০১

বিগত সপ্তাহগুলোর মতো এই সপ্তাহেও নিত্যপণ্যের বাজারে কোনও সুখবর নেই। কেজিতে নতুন করে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে আমদানি করা হলুদের দাম। একইভাবে আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। দারুচিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকার মতো। লবঙ্গের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকার মতো। একইভাবে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকার মতো। নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে চিনি, আটা ও ময়দাসহ বেশ কিছু পণ্য।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমদানি করা আদার দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে কেজিতে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আমদানি করা হলুদের দাম কেজিতে বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় অন্তত দুই টাকা বেশি। গত সপ্তাহে ৭৮ টাকায় ১ কেজি চিনি পাওয়া গেছে। এদিকে গত সপ্তাহে যে হলুদ ২২০ টাকায় পাওয়া যেতো, এই সপ্তাহে সেই হলুদ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। ১০০ টাকা কেজির আদা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে ৯৫০ টাকা কেজি দরে যে লবঙ্গ পাওয়া যেতো, একই সপ্তাহে সেই লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। একইভাবে ৪৬০ টাকা কেজি দরের দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে খোলা আটা ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এই সপ্তাহে সেই একই আটা ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ৫৪ টাকা কেজি দরের প্যাকেট আটা এই সপ্তাহে ৫৫ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারের ভালো ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে ৫৫ টাকা কেজি দরে ময়দা পাওয়া গেছে, এই সপ্তাহে ৫৮ টাকার নিচে কোনও ময়দা নেই। মার্কস গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে এই একই পণ্য বিক্রি হতো ৬৭০ টাকা কেজিতে।

এদিকে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা কমেছে। তবে সরকার যে হারে কমানোর কথা বলেছে, সে হারে দাম কমেনি। এমনকি নতুন দামের সয়াবিন তেল এখনও বাজারে আসেনি। এখনও খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে এই সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮০ টাকা লিটার। কোথাও কোথাও ১৬৬ টাকা লিটার পাওয়া যাচ্ছে সয়াবিন তেল। গত সপ্তাহে এই সয়াবিনের দাম ছিল ১৭০ টাকা লিটার। অর্থাৎ খোলা সয়াবিন তেল আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তবে এক লিটার বোতলজাত ও ৫ লিটার বোতল জাতের দাম কমেছে লিটারে ১০ টাকার মতো।

এক লিটার বোতলজাত তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা দরে। গত সপ্তাহে এই সয়াবিনের দাম রাখা হয় ১৯৫ টাকা। আর ৯৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ দাম কমেছে ৬০ টাকার মতো। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমায় সরকার গত ১৭ জুলাই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা কমিয়ে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। আর ২ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ৩৯৮ টাকা থেকে কমিয়ে করা হয় ৩৭০ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৮০ টাকা থেকে কমিয়ে আনা হয় ৯১০ টাকায়।

সরকার নির্ধারিত এই দাম ১৮ জুলাই থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে এর তিন দিন পর নির্ধারিত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) থেকেই বাজারে নতুন দামের তেল পাওয়ার কথা। তবে শুক্রবার (২২ জুলাই) সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে সরকার নির্ধারিত দামে সয়াবিন তেল মিলছে না। অবশ্য আগের দাম উল্লেখ করা বোতলের সয়াবিন তেল কিছুটা কম দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

এদিকে রাজধানীর বাজারগুলোতে ডিম ও মুরগির দাম কমেছে। ডিম ডজনে ১০ টাকা এবং মুরগির দাম কেজিপ্রতি কমেছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। কমেছে বেশ কিছু সবজির দামও। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা এক ডজন ডিম বিক্রি করছেন ১২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। আর মুদি দোকানে এক পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে কোনও কোনও মুদি দোকানে এক পিস ডিম ১২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন নতুন সবজি শিম। এক কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এদিকে গত সপ্তাহে ১৮০ টাকা দরের গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৮০ টাকায় নেমেছে। কমেছে বরবটির দাম। গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে কমেছে শসার দাম। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসা এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়স এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বাজারে করলা, কচুর লতি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

বাজারে কৈ মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। আর তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছের কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা, শোল মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা দরে। আর ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ফাঁকা বাজারে ক্রেতা নেই, তবু সবজির দাম চড়া
ঈদ ঘিরে মসলার দামে অস্থিরতা, বেড়েছে নিত্যপণ্যেরও 
এতদিন কেউ খবর নেয়নি, ডিমের দাম বাড়তেই কেন এত হইচই
সর্বশেষ খবর
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী