হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে হামিদ মোল্লার ভাগ্য বদল

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৫৭, মে ০২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১১, মে ০৪, ২০১৬

হ্যাচারিতে ফোটানো হাঁসের বাচ্চাহাঁস পালন করে ভাগ্য বদলেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার আব্দুল হামিদ মোল্লা। ‘মোল্লা হ্যাচারি’ এখন ওই গ্রামের অনেকের কাছেই দারিদ্র্য জয়ের হাতিয়ার। ইসলামী ব্যাংকের সহায়তায় এ হ্যাচারি গড়ে তুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি ব্যাংকটির অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হামিদ মোল্লার সুসজ্জিত এ হ্যাচারিতে মাত্র ২৫-২৮ দিনে বিভিন্ন জাতের হাসেঁর বাচ্চা ফুটানো হয়। এরপর সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে নিজ জেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে  সরবরাহ করা হয়।

ভূতগাছা গ্রামের বাসিন্দা মনসুর আলী বলেন, ইসলামী ব্যাংক হামিদ মোল্লার জীবন সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে।

২০১১ সালে হামিদ মোল্লা ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) আওতায় মাত্র ২০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে শুরু করেন হ্যাচারি ব্যবসা। বাড়তে থাকে তার হ্যাচারির হাঁসের বাচ্চার চাহিদা। ফলে দ্রুত প্রসার লাভ করে তার ব্যবসা। উদ্যোমি হামিদ মোল্লা পর্যায়ক্রমে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার, ৭০ হাজার এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকার ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাইমুয়াজ্জাল পদ্ধতিতে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি।

জানা যায়, খামারে একসঙ্গে ১০ হাজার ডিম থেকে হাঁসের বাচ্চা ফোটানো যায়। এ বাচ্চাগুলো ৪ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হয়। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবহন খরচ বাদে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি মুনাফা করছেন হামিদ মোল্লা। বর্তমানে তাঁর হ্যাচারিতে ১৪ জন বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

হামিদ মোল্লার স্ত্রী আন্জুয়ারা বলেন, পাঁচ মেয়ে সন্তান নিয়ে এক সময় খুব কষ্টে দিন কাটছিল তাদের। অভাবের সংসারে হাই স্কুলের গন্ডি পেরোনোর আগেই বিয়ে দিতে হয় তিন মেয়েকে। হ্যাচারির ব্যবসায় তাদের দিন ফিরেছে। বাড়ীতে পাকা ঘর উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের ২০ হাজার গ্রামের ১০ লাখ পরিবারে স্বনির্ভরতা ও স্বচ্ছলতা এনেছে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প।

/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ