পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক স্বস্তির স্বপ্ন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২১:২০, নভেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০২, নভেম্বর ২২, ২০১৯

শেয়ারবাজারসরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে নভেম্বরের শুরু থেকে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে এত দিনের ‘অনাস্থা’র এই পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহের পাঁচ দিনের মধ্যে চার দিনই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর মূল্যসূচক বেড়েছে। তবে, গত সপ্তাহের চেয়ে আরও ভালো সপ্তাহ আশা করছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারের  স্বস্তির ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করে তারা বলছেন, এজন্য সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘তলানি থেকে এখন বাজার নিজেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।  তবে, এ ক্ষেত্রে সরকার ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রতি নেওয়া উদ্যোগগুলো গুরুতত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখন যেভাবে বাজার চলছে, তাতে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এই বাজার আবার চাঙা হবে।’

একই অভিমত জানালেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালীরও। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে আরও ভালো সপ্তাহ আমরা আশা করি। লেনদেন আরও বাড়তে হবে। কারণ, বাজার ইতোমধ্যে বটম আউট হয়ে পড়েছে বা পড়তে পড়তে বাজার সর্ব নিম্নস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।’

আহমেদ রশিদ লালী মনে করেন, ‘এখন শেয়ার কেনার সবচেয়ে ভালো সময়, লেনদেন বাড়তে হবে। এই বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। তবে, গত সপ্তাহের চেয়ে আগামী সপ্তাহগুলোয় লেনদেন আরও বেশি হওয়া জরুরি।’

এদিকে, টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত বুধবার (২০ নভেম্বর) দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা দরপতন হয়। কিন্তু সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শেষ করে পুঁজিবাজার। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবক’টি মূল্যসূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।

এ প্রসঙ্গে ‘বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ’-এর সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তখনই ফিরবে, যখন বাজার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকবে।’ তিনি মনে করেন, ‘ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরা যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে ব্যাপারে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ থাকা জরুরি।’

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দিনভর ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৪টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। তবে মূল্য কমেছে ১২৩টির। ৫৮টির মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৪ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ৭০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ৬ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৬৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্য সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪২১ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪০৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার টাকার পরিমাণে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বিকন ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

গত সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ

তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৫ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৮১ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬০ টাকা। আগের সপ্তাহে ৪ কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৯৮ কোটি ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ১৮ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৫৮৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ২৪২ টাকা বা ৪১ দশমিক ৭২ শতাংশ। যা গড়ে লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে সব ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ সময়ে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারের দখলে ছিল ৭৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৭২ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৬০ টাকার। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১১ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার ১৮ টাকার।

গত সপ্তাহে ৪৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে

এদিকে, গত সপ্তাহে ৪৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে বেড়েছে ১৭২টি, কমেছে ১৪৮টি, অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি এবং লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইতে পিই রেশিও কিছুটা বেড়েছে  

গত সপ্তাহে লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। ডিএসইতে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ