নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিলের প্রতিবাদে বেসিক ব্যাংকে বিক্ষোভ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪০, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৪, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯

বেসিক-ব্যাংকবেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও  চেয়ারম্যানের রুমের সামনে তারা এই বিক্ষোভ করেন। কর্মকর্তাদের এই আন্দোলন বিকাল নাগাদ ব্যাংকটির সব শাখায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিলের একটি চিঠি ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়। বাংলা ট্রিবিউনে ‘বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো বাতিল’ শিরোনামে রবিবার রাতে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসিক ব্যাংক বিগত সাত বছর ধরে ক্রমাগত লোকসানে থাকায় ২০১৩ সালের প্রবর্তিত ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হয়। ওই সিদ্ধান্ত ২২ ডিসেম্বর থেকে কার্যকরের কথাও জানানো হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো করার এই নির্দেশনা জারির ফলে কমে যাবে ব্যাংকটির সর্বস্তরের কর্মীদের বেতন। এ কারণে বেসিক ব্যাংকে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে সেনা কল্যাণ ভবনে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা অবিলম্বে নির্দেশনা বাতিলের দাবিতে এমডির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন।

তাদের এই অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ধানমন্ডি, গুলশানসহ রাজধানীর সব শাখার কর্মকর্তারা জড়ো হন। বিকাল পর্যন্ত ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে, এদিন শাখাগুলোয় সীমিত আকারে লেনদেন হয়েছে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, ‘কর্মকর্তারা না বুঝেই আন্দোলন করছেন। আর ব্যাংকের কাজ বাদ দিয়ে তারা আন্দোলনে নামেন কীভাবে?’ তিনি বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের নিজস্ব বেতন কাঠামো অনুযায়ী এখন বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাষ্টায়ত্ত অন্যান্য ব্যাংকের জন্য যে বেতন কাঠামো সরকার তৈরি করেছে, যে বেতন কাঠামো অনুযায়ী সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা বেতন পান, সেভাবেই বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারাও বেতন পাবেন। এছাড়া, আগামী বছর কর্মকর্তাদের ইনক্রিমেন্ট হবে। অনেকের পদোন্নতি হবে।’

আলাউদ্দিন এ মজিদ আরও বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের আয় থেকে যদি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া যেতো, তাহলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। যখন ব্যাংক লাভ করা শুরু করবে, তখন তাদের বেতন-ভাতাও বাড়বে।’

এদিকে দুপুরে ব্যাংকটির এমডি রফিকুল আলম আলোচনার জন্য আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের ডাকেন। কিন্তু তারা এমডির কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তারা বলেন, ‘ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী বেতন কাঠামো দেখে আমরা নিজ যোগ্যতায় চাকরি নিয়েছি। এখন বেতন কমানো অযৌক্তিক। এটি লেবার ল’ অনুযায়ী বেআইনি। বেতন কমানোর মাধ্যমে আমাদের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে।’ বোর্ডের অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় কর্মীরা কেন নেবেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তারা।

/জিএম/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X