নতুন বছরেও হতাশা কাটছে না শেয়ারবাজারে

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ২১:২৯, জানুয়ারি ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪০, জানুয়ারি ১১, ২০২০

শেয়ারবাজারদেশের শেয়ারবাজার নিয়ে হতাশা কাটছে না। গত সপ্তাহের পুরো পাঁচ দিনের লেনদেনেই মূল্যসূচক কমেছে। গড় লেনদেন হয়েছে ৩০০ কোটি টাকারও নিচে। ২০১৯ সালের মন্দা দিয়েই ২০২০ সালের শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে। দরপতন অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভও করেছেন।

শেয়ারবাজারের তথ্য বলছে, ধারাবাহিক বড় দরপতনের কবলে পড়ে গত এক সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বিনিয়োগকারীদের ১৭ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। একইসঙ্গে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই বড় পতন হয়েছে সবক‘টি মূল্যসূচকের। ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। গত কয়েক সপ্তাহের হিসাবে এক সপ্তাহে এতবড় দরপতন শেয়ারবাজারে হয়নি।

অব্যাহতভাবে এই বাজার কেন পড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা তখনই ফিরবে, যখন বাজারে সুশাসন আনা সম্ভব হবে।’

এদিকে, অব্যাহতভাবে বাজার পতনের কারণে ফের রাস্তায় নেমেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ করেছেন তারা।’

জানতে চাইলে ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘শেয়ারবাজারকে সঠিক পথে আনতে হলে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।’

মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্রামীণফোনের মতো ভালো ভালো কোম্পানি বাজারে আনা জরুরি। গ্রামীণফোনের মতো ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে এলে তার সঙ্গে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীও বাজারে আসবেন।’

তথ্য বলছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। এই হিসাবে এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বেড়েছে। বিপরীতে মূল্য কমেছে ৩১০টির। আর ১৩টির মূল্য রয়েছে অপরিবর্তিত। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য কমেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৬১ দশমিক ৯০ পয়েন্ট (৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ) কমেছে। প্রধান মূল্যসূচকের সঙ্গে বড় পতন হয়েছে ডিএসই’র বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকেরও। গত সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছে ৯৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট (৬ দশমিক ৬২ শতাংশ)। আগের সপ্তাহে সূচকটি ২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট (দশমিক ১৯ শতাংশ) কমে। এর মাধ্যমে টানা পতনে এই সূচকটি প্রায় আড়াইশ’ পয়েন্ট কমে গেলো।

দরপতনের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এই হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা (৩ দশমিক ১৬ শতাংশ)।

এদিকে, প্রতিদিনই ডুবতে থাকা পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নুরকে কমিটির সমন্বয়ক করা হয়েছে। কমিটির তিন জন সদস্য হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র একজন নির্বাহী পরিচালক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব নাহিদ হোসেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কমালের সঙ্গে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের কাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ