ঈদের পণ্য কেনায় উচ্ছ্বাস নেই ক্রেতাদের, অস্থির সবজির বাজার

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৮:০০, মে ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০০, মে ২২, ২০২০

কাঁচাবাজার (ছবি: ফোকাসবাংলা)ঈদকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই সবজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ঈদের পণ্য কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ কম। ফলে দুধ সেমাই, মসলা ও মাংসের দাম নতুন করে আর বাড়েনি। শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিন বা দুই দিন পরেই ঈদ। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে মোকামে ঠিক মতো সবজির গাড়ি আসতে পারেনি। এ কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে মানিক নগর এলাকার সবজি ব্যবসায়ী রবিউল হক বলেন, ‘বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে সবজি কম এসেছে। যে কারণে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা টাকা বাড়তি।’

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া শসা, পটল, ঝিঙে, পাকা টমেটো, বরবটি, করলাসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজির শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ২০ টাকা কেজি পাকা টমেটো এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে। পটলও বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি,গত সপ্তাহে যা ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। করলার কেজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে যা ছিল ৩০ টাকা। বরবটি কেজি এখন ৭০ টাকা,  যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। ঝিঙার কেজি বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। চিচিংগার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা কদিন আগেও ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বেগুনের কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা।

এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও পোল্ট্রি মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজার ভেদে পোল্ট্রি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০-১৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ১৫০ টাকা। অবশ্য লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লাল লেয়ার মুরগি আগের মতিই ২১০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকা।

তবে ঈদের অন্যান্য পণ্যের দাম সেই তুলনায় বাড়েনি। বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচাবাজারে ঈদপণ্যের চাহিদা  অন্য সময়ের তুলনায় কম।

ধারণা করা হচ্ছিল, পবিত্র ঈদুল ফিতরে  গরুর মাংস, মুরগি, ইলিশ মাছ ও চিংড়ি, সুগন্ধি চাল, ঘি, সেমাই, দুধ, গরম মসলা ইত্যাদির চাহিদা বাড়বে। কারণ, বেশির ভাগ মানুষই গ্রামে যেতে পারেনি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ক্রেতার চাপ নেই। ক্রেতারাও বলছেন একই কথা।

নিত্যপণ্যের বাজার (ছবি: ফোকাস বাংলা)এ প্রসঙ্গে মানিক নগর এলাকার বাসিন্দা কিবরিয়া মোল্লা কামাল বলেন, ‘এবারে ঈদের জন্য কেনাকাটার কোনও আগ্রহ নেই। করোনার প্রকোপ বাড়ছেই। এ অবস্থায় বাসায় কোনও অতিথি আসবে না। যে কারণে গত বছরের ঈদে যেভাবে কেনাকাটা করেছিলাম, এবার সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না।’

একই এলাকার মাংস বিক্রেতা আস্তুল বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছর ঈদুল ফিতরে যারা গরুর মাংস কিনেছেন, এবার তাদের অনেকেই আসছেন না।’ তিনি বলেন, ‘বাড়তি চাহিদার কারণে প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে গরুর মাংসের দাম বেড়ে যায়। এবারও বেড়েছে, তবে ততটা নয়।’

রাজধানীর বাজারগুলোতে গরুর মাংস কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকার মতো বেড়েছে এবং বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকায়।

অবশ্য বাজারে সুগন্ধি চালের দাম আগে থেকেই চড়া। খোলা চিনি গুঁড়া চালের প্রতি কেজির দাম মানভেদে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর প্রতিকেজি প্যাকেটের দাম ১২০ টাকা। নতুন করে এই চালের দাম বাড়েনি।

আগের মতোই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের প্রতি ২০০ গ্রামের প্যাকেট ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে আকার ভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪০ টাকা করে। চীনা আদা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। আর ভারতীয় আদা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা করে। গরম মসলার দাম আগের মতোই।

এদিকে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, গরিবের মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা করে।

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা লিটার, ভালো মানের পাম অয়েল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।

বড় দানার মশুরের ডাল কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ছোট দানার মশুরের কেজি ডাল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবে  গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে চাল, ডাল, সয়াবিন, পাম ও ছোলার দাম। আর বেড়েছে আদা, রসুন, লবঙ্গ, জিরা ও মুরগির দাম।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ