টিআইবির মতামত অসমর্থিত ও অনুমান নির্ভর: বিদ্যুৎ বিভাগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:০৩, মে ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৬, মে ৩১, ২০২০

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর মতামত ও তথ্যগুলো অসমর্থিত,অনুমান নির্ভর এবং একপেশে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আজ রবিবার (৩১ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

গত ২০ মে ‘চাহিদার তুলনায় বাড়তি জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অব্যাহত; ভাড়া-ভর্তুকিবাবদ অপচয় ও জনগণের ওপর অসহনীয় বোঝা: রেন্টাল বিদ্যুৎ পদ্ধতি বাতিল ও পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১৬ এর সময়োপযোগী সংশোধনের দাবি’ জানিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় টিআইবি। তাদের এই মতামতের প্রতিবাদ করে ঈদের ছুটি শেষে আজ রবিবার বিদ্যুৎ বিভাগ নিজেদের অবস্থান জানায়। 

সেখানে বলা হয়, যেখানে মরণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনার ছোবলে আজ সারা বিশ্ব অসহায়, বিশ্ব অর্থনীতি পর্যুদস্ত,শীর্ষ দেশগুলো নাকাল, সেখানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত নিয়ে টিআইবির এ ধরনের খণ্ডিত বিশ্লেষণ শুধু একপেশেই নয়, অনভিপ্রেত, উদ্দেশ্য প্রণোদিতও বটে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের চাহিদার নিরীখে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি) ২০০৫, পিএসএমপি ২০১০ ইত্যাদি। তারই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক বিদ্যুতের চাহিদার প্রক্ষেপণ, জ্বালানির প্রাপ্যতা, আঞ্চলিক লোড প্যাটার্ন, সঞ্চালন ব্যবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় আধুনিক বৈজ্ঞানিক টুল ব্যবহার করে পিএসএমপি-২০১৬ প্রণয়ন করা হয়। উল্লেখ্য যে, যে কোনও পরিকল্পনাই একটি চলমান প্রক্রিয়া যা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সময়ে সময়ে আপডেট করা হয়, যেমনি করা হচ্ছে পিএসএমপি'র ক্ষেত্রে। ২০০৫, ২০১০ এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ তে আপডেট করা হয়েছে এবং বর্তমানে আবার আপডেট প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। 

তারা জানায়, পৃথিবীর যে কোনও দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় সঙ্গত কারণে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা বেশি থাকে, যা সাধারণত রিজার্ভ মার্জিন হিসেবে পরিচিত। রিজার্ভ মার্জিন রাখার যৌক্তিক কারণ হলো: বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুটিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা, দুর্ঘটনাজনিত কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকা, পিক-অফপিক বিবেচনায় জ্বালানি ভেদে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ও বন্ধ রাখা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়স বিবেচনায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এসব কারণে কোনও কোনও দেশে রিজার্ভ মার্জিন ১০০ শতাংশ এর অধিক যেমন জার্মানি। এমনকি আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও রিজার্ভ মার্জিন ৭০ শতাংশের অধিক। 

বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে করণীয় নির্ধারণের জন্য এ সেক্টরের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে কাজ করে যাচ্ছে–যাতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিদ্যুৎখাত এ সংকট মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। তবে টিআইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এমন কোনও প্রতিবেদন বা সুপারিশ এখনও প্রণীত হয়নি। বিশেষ করে সেচের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারে কৃষককে প্রদেয় ভর্তুকি প্রদান বিষয়ে টিআইবির উদ্ধৃতিটি অপব্যাখ্যামূলক ও সত্যের অপলাপ মাত্র। বরং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বার্ক) নির্ধারিত সেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ট্যারিফ সর্বনিম্ন। উপরোন্তু সেচের জন্য কৃষককে প্রদেয় ২০ ভাগ ভর্তুকিও বহাল রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বা পাওয়ার সেলের কোনও প্রতিবেদনে এ ভর্তুকি বাতিলের কোনও প্রস্তাব করা হয়নি। 

বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার আলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। একক প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্রেডা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু, বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে জমির স্বল্পতা, আবহাওয়া, জলবায়ু পৃথিবীর নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশগুলোর মতো অনুকূল নয়। তাই আমরা আমাদের নিজস্ব খাপ খাইয়ে নেওয়া ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি। এতো প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমাবদ্ধতার পরেও বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের দেশ। মুলত সৌর বিদ্যুৎ-ই আমাদের প্রমাণিত সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি যার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আমরা বিভিন্ন সরকারি/ বেসরকারি ভবনের দালান-কোঠার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তাছাড়া বায়ু বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়। 

/এসএনএস/টিএন/

লাইভ

টপ