সরকারের কাছে শ্রমিকদের আরও এক মাসের বেতন চান গার্মেন্টস মালিকরা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৮:২৮, আগস্ট ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০২, আগস্ট ২৮, ২০২০

করোনাকালে কর্মরত এক গার্মেন্ট শ্রমিক, ছবি: বিবিসি

গত জুলাই মাসের মতোই চলতি আগস্ট মাসেও শ্রমিকদের বেতনের জন্য আরও প্রণোদনার টাকা চেয়ে সরকারকে  চিঠি দিয়েছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক  গত ২০ আগস্ট নতুন করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এই চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে এখনও সংকট চলছে। মহামারিতে বিপুল সংখ্যক ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার মতো সক্ষমতা হারিয়েছেন পোশাক শিল্পের মালিকরা।

নতুন এই চিঠির ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার কাছে পোশাক মালিকদের পক্ষ থেকে চিঠি এসেছে। তবে শ্রমিকদের বেতন দিতে পোশাক শিল্প মালিকদের আরও প্রণোদনা দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এর আগে গত ২২ জুন  তৈরি পোশাক মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সভাপতি যৌথভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মজুরি দিতে সহজ শর্তে ঋণ চেয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে চিঠি দেন।

করোনা মহামারি শুরুর পর সব মিলিয়ে পোশাক শিল্পে ৩১৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। এপ্রিলে মাত্র ৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়। পরের মাস মে’তে তার ১২৩ কোটি ডলারে ওঠে। জুনে তা আরও বেড়ে ২২৫ কোটি ডলারে পৌঁছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৩২৪ কোটি ডলারের। আর চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনে (১ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট) ২৩৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘স্থগিত হওয়া অর্ডার ফিরে আসলেও নতুন অর্ডার সেইভাবে আসছে না। ফলে আগস্ট মাসে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কঠিন হবে।

তৈরি পোশাক কারখানা, ছবি- সংগৃহীত

প্রসঙ্গত, এরইমধ্যে সরকারের দেওয়া প্রণোদনার অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের চার মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছিল সরকার। সেই তহবিল থেকে মাত্র ২ শতাংশ ‘সার্ভিস চার্জে’ ঋণ নিয়ে গত এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতা দিয়েছেন মালিকরা। পরে জুলাই মাসের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা চেয়ে তৈরি পোশাক মালিকরা আবেদন করলে পোশাক খাতের জন্য শিল্প ও সেবা খাতের ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য ওই তহবিলের আকার তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়। অর্থাৎ গত জুলাই মাসের বেতনও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে নেন মালিকরা। তবে সুদ গুনতে হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ।

চিঠির বিষয়ে বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম  বলেন, ‘অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকের বেতন দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই। এখনও আমরা শতভাগ উৎপাদনে যেতে পারছি না। যে কারণে শ্রমিকদের আরও অন্তত তিন মাসের বেতন দরকার।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X