কয়লা বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার পরামর্শ সিপিডির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫২, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫২, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

সিপিডির সংবাদ সম্মেলনবিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা বাদ দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির কথা চিন্তা করে এলএনজি নয় নবায়নযোগ্য জ্বালানিই বাংলাদেশের জন্য সঠিক বলে মনে করছে তারা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অনলাইনে ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা বর্জন: সরকারি উদ্যোগ ও কতিপয় সুপারিশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘প্রত্যাশিত বেসরকারি বিনিয়োগ না হওয়ায়, সরকারি বড় প্রকল্পগুলো ঠিক সময়ে শেষ না হওয়া এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সহায়ক সরকারি প্রকল্প যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা সৃষ্টি হবে, সেটিও নির্দিষ্ট সময়ে না হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদার সৃষ্টি হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হয়ে গেছে। এদিকে, চাহিদার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল, সেটিও অনেক বেশি। সরকার বলেছিল, তারা অন্যান্য দেশের মতো ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রিজার্ভ বিদ্যুৎ রাখতে চায়। কিন্তু এখন সেটি ৩৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের মতো দেশের জন্য ১৬ শতাংশ পর্যন্ত রিজার্ভ থাকলেই চলে।’

তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমানে সরকার যে স্রেডা (টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) গঠন করেছে তা যথেষ্ট নয়। আরও শক্তিশালী কাঠামো দরকার হবে। স্রেডা যেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই করতে হবে।’

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুরসিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অনেক বিনিয়োগের প্রয়োজন। কিন্তু এই বিনিয়োগ কঠিন কিছু না। যদি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানেই বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারের মহাপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি একেবারেই গুরুত্ব পায়নি। এমনকি ২০৪১ সাল পর্যন্ত রিনিউয়েবল এনার্জিকে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অগ্রাধিকার না থাকায় বিনিয়োগকারীরাও এইখানে উচ্চ বিনিয়োগ করতে চাইবে না। আমরা চাই, সরকার আগামী বছর যে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা করছে, সেখান নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেবে এবং সেই অনুযায়ী নীতি কাঠামো তৈরি করবে, যাতে করে শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারী নয়; দেশের ভেতর বড় বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎপ্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে ২৩ হাজার ২৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। এগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ গুলোতে নতুন করে বিনিয়োগে যাওয়া হবে না, এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ অবস্থান।’

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য খাতে একবার বিনিয়োগ করলে এটি ন্যুনতম ২০ বছর ব্যবহার করা যায়। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সহজ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনসিপিডির মতে, এলএনজি বাংলাদেশের জন্য যৌক্তিক সমাধান না। কেননা এর আমদানি ব্যয় অনেক বেশি। তার ওপর এলএনজি কয়লার মতোই দূষণ বাড়ায়। তাই এ খাতে বিনিয়োগ হিতে বিপরীত হতে পারে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের পাশের দেশ ভারতে এখন ৩৫ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আমাদেরও উচিত দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৃষ্টি করা। কয়লার এখন যেগুলা প্রকল্প চলমান, সেগুলা তো বাদ দেওয়া যাবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে আর কয়লা না নিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

এ সময় ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনও কাবন নিঃসরণ কম হলেও যে হারে শিল্পায়ন হচ্ছে, বিনিয়োগ হচ্ছে, তাতে কাবন নিঃসরণ আরও বাড়বে। ফলে এখনই কয়লা থেকে সরে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত।’

 

/এসএনএস/আইএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ