বয়লার ও বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে জারি করা নতুন এ নির্দেশনা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের বয়লার শাখা থেকে গত ২৮ জুন জারি করা নির্দেশনার আলোকে বয়লার ও বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে নতুন এ বিধান কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বয়লার কিংবা বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির আগে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কাছ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বয়লার পরিদর্শক আমদানির অনুমোদন দেবেন অথবা আবেদন নামঞ্জুর করবেন।
অনুমোদন দেওয়া হলে উপ-প্রধান বয়লার পরিদর্শক আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র ইস্যু করবেন। আর আবেদন নামঞ্জুর হলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এরপর আবেদনকারী প্রয়োজনীয় ত্রুটি বা ঘাটতি সংশোধন করে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বয়লার নির্মাতাকে ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুমোদনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে বয়লার নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে বয়লার সরবরাহ বা বিক্রির পর নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব দলিল, সনদ ও তথ্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা লিখিতভাবে প্রধান বয়লার পরিদর্শককে জানাতে হবে।
এছাড়া কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রচলিত শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে বয়লারের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাতার কারখানা, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই নির্দেশনার ফলে বয়লার আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জোরদার হবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের বা ঝুঁকিপূর্ণ বয়লার আমদানি রোধ, শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যমান আইন-কানুনের কার্যকর বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।









