বকেয়া বিলের চাপে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, রোজা ও গ্রীষ্মে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:০৬আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:০৬

বকেয়া বিলের চাপ ও জ্বালানি আমদানিতে জটিলতার কারণে আসন্ন রোজা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপপা)। 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির নেতারা জানান, গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিয়মিত বিল পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হলেও বকেয়া বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেল আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সূচনা বক্তব্যে বলা হয়, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিল বকেয়া বাড়তে শুরু করে। পরে বন্ড ছাড়ের মাধ্যমে আংশিক সমন্বয় করা হলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবার বকেয়া বাড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কিছু পরিশোধে বকেয়া কমে এলেও পরবর্তীতে তা আবার বেড়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিআইপিপিএ’র সভাপতি কে এম রেজাউল হাসনাত বলেন, “জুলাইয়ের পর বিল পরিশোধ কমিয়ে দেওয়া হয় এবং উল্টো জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” এতে নতুন সরকারের সময়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিদেশি ও দেশীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে না পারার বিষয়টি সরকার ব্ল্যাকমেইল হিসেবে দেখতেই পারে, তবে এটি চাপ প্রয়োগের চেষ্টা নয়। উৎপাদন সচল রাখতে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণপত্র খুলতে না পারায় জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না— এই বাস্তবতাই সরকারকে জানানো হচ্ছে।” 

সংগঠনটির তথ্যমতে, বুধবার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট, যা এই সময়ের জন্য গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি গ্রীষ্মে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। বিআইপিপিএ বলছে, দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫০ শতাংশই বেসরকারি খাত থেকে আসে। তাই টেকসই সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ প্রয়োজন। 

/এসএনএস/এসটি/ 
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
ইরান ও লেবাননে একসঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে হবে: আরাঘচি
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি