অত্যন্ত নিরাপত্তার মধ্যে গত ১১ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় বাংলাদেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে পঞ্চম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটিকে। জামায়াতে ইসলামির আমির অথবা নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশে একই সঙ্গে সঞ্চার হয়েছে জয়ধ্বনি ও ক্ষোভ। এই ফাঁসির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক বাহাস শুরু হয়েছে বলেও ধারণা করা যায়।
এই দুই রাষ্ট্র এর আগেও যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গ নিয়ে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসি দুই ক্ষেত্রেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এমনকি কাতার ও তুরস্কের মতো দূরবর্তী রাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। সন্দেহ নেই, তাদের মুসলিম পরিচয়কে আরও পোক্ত করতেই ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রতি সংহতি জানিয়েছে এই দেশগুলো।
পাকিস্তান ও তুরস্কের মৈত্রীর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সেনটো (সিইএনটিও) এর সদস্য এই দুই রাষ্ট্র পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বহাল রেখেছে।
তেল সম্পদে সমৃদ্ধ কাতার এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া তুরস্ক ইসলামি সব বিষয়ের সমর্থক হিসেবে তুলনামূলকভাবে নবাগত।
নিজামীর ইতিহাস
নিজামীর বিতর্কিত জীবনের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেষ ধাপ শুরু হয় ২০১০ সালে গ্রেফতার হওয়ার মধ্য দিয়ে। একাধারে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিবিদ, ধর্মপ্রচারক ও সাবেক মন্ত্রী নিজামীর রিভিউ পিটিশন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখার রায় দেওয়া হয় ৯ মে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পুনরায় নিশ্চিত করেন। সুপ্রিম কোর্টের একই বেঞ্চ গত সপ্তাহে রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে অস্বীকৃতি জানান। তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে ১০ মে সরকারি নির্দেশ পাঠানো হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আল বদর বাহিনীর মাধ্যমে গণহত্যা, ধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
আরও পড়তে পারেন: নারায়ণগঞ্জে সেই প্রধান শিক্ষককেই সাময়িক বরখাস্ত!
হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের জন্য পাকিস্তানিদের সৃষ্টি করা আল-বদর বাহিনী ছাড়াও নিজামী ছিলেন জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র সংঘের প্রধান। পরে তিনি আল-বদর বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এই আল-বদর বাহিনী, ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছে এই বাহিনী।
এই বাহিনীগুলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পরিকল্পনা করেছে। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের প্রধান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছেন নিজামী নিজে। পাকিস্তানের সহযোগীদের বদৌলতে সৃষ্টি হয়েছিলো আল-বদর ছাড়াও আল-শামস ও রাজাকার বাহিনী, যাদের প্রত্যেকটিই ছিল সশস্ত্র এবং হত্যা, ধর্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য নিয়োজিত। যুদ্ধের পর এই জামায়াত নেতারা পালিয়ে গিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তারা দেশে ফেরেন।
বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাদের হাতে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর দেশের ক্ষমতা জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাতে চলে যায়। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানের ইসলামপ্রীতি সুবিদিত। নিজামী ১৯৯১ সালে প্রথমবার তার নিজের এলাকা পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১ সালে একই এলাকা থেকে আবারও নির্বাচিত হন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতের জোট সরকারের আমলে তিনি কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশের ডিজিএফআই-এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে অংশ নেন ও ভারতের উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে ট্রাকভর্তি অস্ত্রশস্ত্র কেনাবেচা করেন। এই বেচাবিক্রির তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে চোরাকারবারি মামলায়ও অভিযুক্ত হন নিজামী।
বাংলাদেশ যখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল, সে সময় আইএসআই উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের সমর্থন দিয়েছে। সে সময় চীনও এই কূটকৌশলে অংশ নেয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। দেশের সংবিধানের সঙ্গে দলের আদর্শ সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে আদালত এ দলের নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে রায় দেন।
প্রত্যাখ্যাত জামায়াত
নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামি যথারীতি দেশজুড়ে হরতাল ডাকে। বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ঘটলেও পুরো দেশে কোথাও বড় আকারের কোনও ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা ছিল যথেষ্ট শান্ত। এই ইসলামপন্থীরা ২০০৮ সাল থেকেই শেখ হাসিনা ওয়াজেদ সরকারের চাপে ছিল, তার দল আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে তারা অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান, গ্রেফতারের ভয়ে আগের মতো সহিংস সমাবেশ কমে আসে।
ধর্মীয় মতবাদে বিশ্বাসী জামায়াতিদের কাছে নিজামী ও আরও তিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতা ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। তারা আরও দাবি করে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় নেওয়া অবস্থান নিছক রাজনৈতিক ছিল না এবং আইসিটি হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আইসিটির বিবেচিত সাক্ষ্যপ্রমাণ সবই ছিল পক্ষপাতদুষ্ট।
যুক্তরাজ্যের সমর্থন ও পশ্চিমের ওপর প্রভাব
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশেও সমানভাবে ছড়িয়েছে। বিদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে তদবির করেছে জামায়াত, তাদের সব প্রভাব, ক্ষমতা ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থীদের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে আইসিটির বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা করেছে তারা, পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ নাম দিয়ে ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচার’ বলে অভিহিত করার চেষ্টা করেছে ও বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয় বলে দাবি করেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতের হত্যা ও ধর্ষণের মত কর্মকাণ্ড কোনও গোপন বিষয় নয়। এসব অভিযোগকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক তকমা দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিভাগের নামেও অস্ত্র ব্যবহার করে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও অপহরণের মতো অপরাধ ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে।
অনেক জামায়াত নেতা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তারা শেখ হাসিনা ও আইসিটির বিরুদ্ধে তদবির করতে প্রচুর পরিমাণ অর্থও ব্যয় করছেন।
আরও পড়তে পারেন: ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে তদন্ত কমিটি, আন্দোলনে যাচ্ছেন শিক্ষক নেতারা
উপমহাদেশ থেকে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থী ও পলাতকদের এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে যুক্তরাজ্য। খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানও যুক্তরাজ্যে আত্মগোপন করে আছেন। আশা করছেন, তাদের দল ক্ষমতায় এলে ফিরে আসবেন দেশে। যুক্তরাজ্য থেকে কোনও পলাতককে ফিরিয়ে আনতে পারেনি ভারত, যদিও এ বিষয়ে যথাযথভাবে চুক্তি আছে।
যুক্তরাজ্যের জন্য পৃথিবীর নানা দেশের পলাতকদের আশ্রয় দেওয়া একটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ব্যবস্থা। কেননা, এরা নিজেদের অবৈধ অর্থ লন্ডনের ব্যাংকে রাখেন ও যুক্তরাজ্যেই নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তান, নাইজেরিয়াসহ নানা দেশের দুর্নীতি নিয়ে কথা বললেও সত্যিকার অর্থে অন্য দেশের অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ‘দুর্নীতি’কেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
পাকিস্তানি যোগাযোগ
জামায়াতে ইসলামি এই উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি সংগঠন। বাংলাদেশের জামায়াত মূল সংগঠনের ছোট একটি অংশমাত্র। বাংলাদেশে জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষেই কাজ করে থাকে, বিএনপির সঙ্গে মিলিতভাবে ও ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
জামায়াত আদর্শগতভাবেই বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত মুসলিম রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে বদ্ধপরিকর। শরিয়া আইন কায়েম করে আইন ও সমাজ পরিবর্তন করতে আগ্রহী এই দলটি। ফলে তারা সব অমুসলিম নাগরিককে দ্বিতীয়-শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। পাকিস্তানি জামায়াত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময়ও ছিল এই একই বিশ্বাস ও আদর্শ।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাশ হয় নিজামীর ফাঁসির পরিপ্রেক্ষিতে। এ প্রসংগে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটি। সংসদের ওই বিতর্কে অনেকে এমনও দাবি করেন, এই ফাঁসি কার্যকর করায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে। যদিও ওই চুক্তি হয়েছিল ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে, যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে নয়।
বাংলাদেশবিরোধী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে পাকিস্তান। নিজামীর ফাঁসির বিষয়টি জাতিসংঘে তোলা থেকে শুরু করে ইসলামি সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা পর্যন্ত।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নেতিবাচক বিবৃতি দিয়ে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এমনকি ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে তলব করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধ করে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ইতিহাসবিদ প্রফেসর মুনতাসীর মামুন এর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির নীচতা স্পষ্ট। এই প্রতিক্রিয়ার প্রতিটি শব্দ অসত্য। এই অসততা দিয়েই পাকিস্তান বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিলো।’
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও একবার প্রমাণ করেছে যে নিজামী ও অন্যান্যরা পাকিস্তানের পক্ষে রাজনীতি করেছে ও গণহত্যা চালিয়েছে। পাকিস্তান গণতন্ত্রের চর্চা করে না, বরং জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। এমন একটি রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই।
প্রফেসর মামুনের এই বক্তব্যে বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের অনুভূতিই প্রকাশিত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থনও স্পষ্ট হয়েছে। এই ফাঁসি সম্পর্কে বিএনপি নিরবতা অবলম্বন করেছে।
তুরস্কের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের এই দ্বন্দ্ব কিছুটা হলেও প্রত্যাশিত ছিল কেননা পাকিস্তান তাদের ক্ষমতা হারিয়ে বিক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু তুরস্কের উদ্বেগ ছিল চমৎকৃত হওয়ার মতোই। এতে বোঝা যায় এরদোয়ান একজন ইসলামি নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য কতদূর যেতে পারেন। অবশ্য দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যও হতে পারে এই প্রতিক্রিয়া। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই রায় নিজামীর প্রাপ্য নয়। এরদোয়ানও প্রায় একই রকম বিবৃতি দিয়েছেন।
ভারতের নিরপেক্ষতা
ভারত এ প্রসঙ্গে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছে এই ফাঁসিকে। যদিও হাসিনার প্রতি ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্লগার ও ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক কর্মীদের হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রপন্থা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে।
ইসলামপন্থীরা এসব হত্যাকাণ্ডের দায় দিচ্ছে আইএসের ওপর। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানি নানা গোষ্ঠী ও বিএনপি মিলে হাসিনা সরকারকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেই ঘটাচ্ছে এ সকল নাশকতা। আইএস ও অন্যান্য দেশীয় উগ্রপন্থী ঠেকাতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদানে সম্মত হয়েছে। এই সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। ইসলামিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পুরো উপমহাদেশের নিরাপত্তার খাতিরেই তা অত্যন্ত প্রয়োজন।
লেখক: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।



