‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’

আনিস আলমগীর
২১ মে ২০১৯, ০১:৪৫আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ১৫:৫৩

আনিস আলমগীর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদিদের একটা প্রতিনিধিদল তুরস্কে গিয়ে অটোমান সুলতানের সঙ্গে দেখা করেছিল। ইহুদি নেতারা সুলতানকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সুলতান যদি ফিলিস্তিনিদের ছয়টি জেলা তাদেরকে দিতে সম্মত হন তবে বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সুলতানের যত ঋণ হয়েছে ইহুদিরা তা পরিশোধ করে দেবেন। সুলতানের করুণ সময়ে প্রস্তাবটা খুবই উপকারী প্রস্তাব হলেও সুলতান ফিলিস্তিনি মুসলমানদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ইহুদিদের মৌখিকভাবে বসতি করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
এরপর ১৯২০ সালের এপ্রিলে লিগ অব ন্যাশন ফিলিস্তিন, জর্দান ও ইরাকের জন্য ব্রিটেনকে অছি নিযুক্ত করে আর সিরিয়ার জন্য ফ্রান্সকে অছি নিযুক্ত করেছিল। ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটেন ফিলিস্তিনিদের অছি হিসেবে কাজ করেছিল। সুলতানের মৌখিক অনুমতি আর ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোরের ঘোষণার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইউরোপ থেকে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপনের কাজ শুরু করেছিল। ১৯৪৮ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইহুদি এসে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করে।
ইহুদিরাও ভাগ্যহারা জাতি। খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর দিকে ইহুদিদের রোমানরা বিদ্রোহ করার অপরাধে ফিলিস্তিন থেকে সমূলে উৎখাত করে দিয়েছিল। রোমান সাম্রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে তখন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ইহুদিরা ছড়িয়ে পড়েছিল। রোমানরা এমনিতে ইহুদিদের পছন্দ করতো না। তারা ইহুদিদের নাস্তিক মনে করতো, কারণ ইহুদিদের কোনও দেব দেবী ছিল না। সেই থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ইহুদিদের কোনও রাষ্ট্র ছিল না। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইহুদিরা ইসরায়েল নাম দিয়ে তাদের রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ঘোষণা করে। বর্তমানে ইসরায়েলে ইহুদির সংখ্যা ৬৫ লাখ আর যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদির সংখ্যা ৫৭ লাখ। বিশ্বে মোট ইহুদি জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ।

সংখ্যার দিক থেকে ইহুদিরা ক্ষুদ্র একটি ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠী। ইহুদিরা এক ঈশ্বরবাদী প্রাচীন ধর্মের অনুসারী। খ্রিস্টান আর মুসলমানরাও এক ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা ১৮০ কোটি। অর্থাৎ পৃথিবীতেই মুসলমান জনসংখ্যা ইহুদির চেয়ে ১২০ গুণ বেশি। খ্রিস্টানদের জনসংখ্যা ইহুদি থেকে ১৪৭ গুণ বেশি। আর ইহুদির তুলনায় হিন্দুরা ৭২ গুণ এবং বৌদ্ধরা ৩৬ গুণ বেশি। জনসংখ্যায় কম হলেও ইতিহাসজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ও পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাসে তাদের বিচিত্র ভূমিকায় উপস্থিতি রয়েছে। এটি কখনই তাদের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

দুনিয়াজুড়ে ইহুদি জাতি মেধার কর্তৃত্ব করছে বহুদিন ধরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি বিদ্বেষ গণহত্যায় রূপ নিয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘হলোকাস্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। ইতিহাস বলে হলোকাস্টে ৬০ লাখ ইহুদি প্রাণ হারিয়েছিল। হলোকাস্টের হোতা ছিলেন জার্মানির অ্যাডলফ হিটলার। ইহুদি ধর্মে জন্মসূত্রে পাওয়া হয়। এই ধর্ম অন্যদের মাঝে প্রচার করার নিয়ম নেই, তাই ধর্মটি প্রসারিত হয়নি। হলোকাস্ট ইহুদিদের মারাত্মক ক্ষতি করেছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় তারা দুনিয়ার বুকে এখনও ক্ষুদ্র একটা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা সংখ্যায় কম হলেও অর্থবিত্ত, জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশের মালিক ইহুদিরা। মার্কিন অর্থনীতিও ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইহুদিরা কৌশলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের রাষ্ট্র ইসরায়েলের অলিখিত তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে রেখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ইহুদিদের ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রটির পরিচর্যায় কোনও অবহেলা করেনি। প্রতিবছর ইসরায়েল রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সিংহভাগ খরচ প্রদান করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পুরো সাহায্যই এখন মিলিটারি অ্যাসিসট্যান্স হিসেবে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবহেলা করলে এ রাষ্ট্রটি টিকে থাকতো কিনা সন্দেহ ছিল।

ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর ইহুদিরা টমেটো রফতানি করে তাদের রফতানি বাণিজ্য শুরু করছিল। এখন তারা বিশ্বে অন্যতম সমরাস্ত্র রফতানিকারক দেশ। ইসরায়েল রাষ্ট্রের চতুর্দিকে মুসলিম বসতি। জর্দান, ইরাক, সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া, লিবিয়া সবই তো মুসলমানের রাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের ৩০ কোটি মুসলমানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ৮৭ লাখ জনসংখ্যার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে গত ৭১ বছরব্যাপী। এভাবে একটা রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখাও তো অস্বাভাবিক ব্যাপার। তাই আমেরিকা উদ্যোগ নিয়েছিল দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন সমস্যাটা সুরাহা করার। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত সে উদ্যোগ অব্যাহত ছিল।

মিশর আর ইসরায়েলের মাঝে ১৯৭৮ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর যে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি হয়েছিল তাতে দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা পর্বে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে গাজায় ফিলিস্তিনিরা বসতি করবে এবং এটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হবে। এজন্য সিনাই মিশরকে প্রত্যর্পণ করলেও ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি অনুসারে গাজা মিশরকে ফেরত দেয়নি। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ পর্যন্ত গাজা ছিল মিশরের অংশ। গাজা, সিনাই ইত্যাদি ইসরায়েল দখল করেছিল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে। কিন্তু চুক্তির পর গাজা মিশরকে প্রত্যর্পণ করা হয়নি শুধু সিনাই ফেরত দেওয়া হয়েছিল। গাজা রেখেছিল ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। অবশ্য গাজা আগে থেকেই ফিলিস্তিনের ছয় জেলার এক জেলা ছিল। সে কারণে মিশর কোনও আপত্তিও করেনি। সেখানে ১৭ লাখ ফিলিস্তিনি এখন বসবাস করে। ফিলিস্তিনের ৪৪ লাখ জনসংখ্যার বাকিটা বাস করে পশ্চিম তীরে।
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি একরোখা প্রকৃতির লোক। কোনোভাবেই দুই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করতে চান না। খোদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামাই একবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর বলেছিলেন, ‘এ এক দুর্লভ কঠিন প্রকৃতির লোক।’ বিচিত্র সমস্যায় জর্জরিত কোনও অঞ্চলের শাসক নেতানিয়াহুর অনুরূপ কঠিন প্রকৃতির হলে সে অঞ্চলে মহা দুর্যোগের সূত্রপাত হতে পারে যে কোনও সময়।

আবার আমেরিকায় এমন এক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে ক্ষমতায় যিনি আগপিছ বিবেচনা না করে নেতানিয়াহুর প্রতিটি কাজ অনুমোদন করে বসে থাকেন। তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার একবার বলেছিলেন ইসরায়েল যদি শান্তির পথে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমঝোতার পথে না আসে তবে ২০৫০ সাল নাগাদ ইসরায়েলের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। কিসিঞ্জার ইহুদির সন্তান। ইসরায়েলের মঙ্গল অমঙ্গল তাকেও বিভ্রত করে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সমস্যা নিয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। ট্রাম্পের মেয়ে জামাই ও তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জ্যারেজ কুশনার ইহুদি ঘরের সন্তান। সম্ভবত পরিকল্পনাটা প্রণয়ন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং কুশনার। পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’। পরিকল্পনাটা এখনও প্রকাশ করেনি। মুসলমানদের রোজার মাসের পর, মানে আগামী জুন মাসে নাকি প্রকাশ করবে। হোয়াইট হাউস রবিবার (১৯ মে) ঘোষণা করেছে, মার্কিন পরিকল্পনার অর্থনৈতিক অংশটি ২৫ জুন বাহরাইনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় প্রকাশ করা হবে। পরিকল্পনাটির রাজনৈতিক অংশ মুক্তি পাবে তা স্পষ্ট নয়।

তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ ইসরায়েলের একটি হিব্রু-ভাষা নিউজ আউটলেট ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ চুক্তির কিছু অংশ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ইসরায়েল, পিএলও ও হামাসের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে গাজা এবং পশ্চিম তীরের কিছু জায়গা নিয়ে ‘নিউ ফিলিস্তিন’ নামে একটি রাষ্ট্র গঠন করা হবে। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমে তার রাজধানী প্রতিষ্ঠার দাবি ছেড়ে দেবে আর ইসরায়েল রামাল্লার আশপাশে ফিলিস্তিনিদের জন্য দু’চারটা গ্রাম ছেড়ে দেবে সেখানেই তারা রাজধানী প্রতিষ্ঠা করবে। ইসরায়েল চুক্তির অধীনে তিন বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে।

‘নতুন ফিলিস্তিন’ রাষ্ট্র হবে সত্য, তবে নিয়মিত কোনও সামরিক বাহিনী রাখতে পারবে না। কিন্তু পুলিশ বাহিনী বজায় রাখতে পারে। পরিবর্তে, ইসরায়েল এবং ‘নতুন ফিলিস্তিন’-এর মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যার মধ্যে ইসরায়েল নতুন রাষ্ট্রকে যে কোনও বিদেশি হামলা থেকে রক্ষা করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর করার পর, হামাস তার সব অস্ত্র মিশরকে জমা দেবে। সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিময়ে হামাস নেতাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ও মাসিক বেতন দেবে আরব রাষ্ট্রগুলো। নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাজা স্ট্রিপ এবং মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে সমস্ত সীমান্ত মানুষ ও পণ্যের জন্য খোলা থাকবে এবং ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি বিমান ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো ‘নিউ ফিলিস্তিন’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য পাঁচ বছরের জন্য অর্থ প্রদান এবং স্পন্সর করবে। বছরে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে; যার বেশিরভাগই ৭০ শতাংশ উপসাগরীয় দেশগুলো দেবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ এবং ইইউ ১০ শতাংশ অবদান রাখবে।

২০১৭ সালেই জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তিতে অনেকটাই অস্পষ্ট রয়ে গেছে জেরুজালেম ইস্যুটি। তবে বলা হয়েছে, জেরুজালেম এখনকার মতো অবিভক্তই থাকবে। শহরের দায়িত্ব ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। ইসরায়েল শহরের সাধারণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা হবেন নতুন ফিলিস্তিনের নাগরিক। তবে জেরুজালেমে ইসরায়েলি পৌরসভা শহরের জমি সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকবে। নতুন ফিলিস্তিন ইসরায়েলি পৌরসভাকে কর দেবে। বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের শিক্ষাদীক্ষার দায়িত্বে থাকবে তারা।

পরিকল্পনার এসব মোদ্দাকথা এখন পর্যন্ত বাজারে রটনাতেই আছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের ইচ্ছে ফিলিস্তিনিদের দিয়ে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’র রূপ যদি এই হয় তবে তা ফিলিস্তিনিরা মানবে বলে মনে হয় না। হামাসের সাবেক প্রধান খালেদ মেশাল শনিবার জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ ও তাদের গোষ্ঠী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শতাব্দীর চুক্তি’র বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ। তুরস্কের পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনের এক বন্ধু সম্মেলনে বক্তৃতাকালে মেশাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনের দাবিকে হালকা করার লক্ষ্যে এই অঞ্চলের কিছু দেশকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই সমঝোতা তারা মেনে নেবে না, এমনকি ফিলিস্তিন নেতারা মেনে নিলেও না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তার আরব জোটের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার রঙ ঝালাই করা ছাড়া বাহরাইনের ‘অর্থনৈতিক কর্মশালা’ ফিলিস্তিনি সংঘাত মোকাবিলা করতে পারে এমন কিছু হবে না।

ইসরায়েল রাষ্ট্রের এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে উভয় সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির ওপর। সম্প্রীতিমূলক কোনও সমাধান যতক্ষণ না আসবে ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্যে কোনও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

 লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।

[email protected]

/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বশেষসর্বাধিক