বাংলা নতুন বছরে প্রথম দিনকে বরণ করে নেওয়ার জন্য একদিকে যেমন ছিল নানা ধরনের আয়োজন, অন্য দিকে তেমনি ছিল কিছুটা শঙ্কা,ভয়। না, শেষ পর্যন্ত কোনও অঘটন ঘটেনি। পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে নির্বিঘ্নে।বর্ষবরণের এই বিষয়টি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তবে এই উৎসব আয়োজনের ব্যাপারটি খুব পুরনো নয়। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখ পালনের জাঁকজমক ও জৌলুশের মাত্রাও বাড়ছে। যত দিন যাচ্ছে এই উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও অপচেষ্টা ছিল, বাধা ছিল। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে বাঙালি যাতে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে প্রাণের আনন্দে মেতে উঠতে না পারে তার জন্য এবার এক দিকে ছিল ধর্মান্ধতার থাবা, অন্যদিকে নিরাপত্তার অজুহাতে ছিল প্রশাসনিক বিধি-নিষেধ। এসবের প্রভাব কিছুটা পড়লেও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই মানুষ বাংলা নতুন বছর ১৪২৩ সালকে বরণ করে নিয়েছে।
জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনকে, মঙ্গলকে আহ্বান করা হয়েছে প্রাণের সবটুকু আবেগ ঢেলে দিয়ে। সব অনুষ্ঠানে, আয়োজনে মানুষের উজ্জ্বল বর্ণময় উপস্থিতি দেখা গেছে, যদিও অনেকেই বলেছেন, এবার বর্ষবরণের অনুষ্ঠানগুলোতে মানুষের বাধ ভাঙ্গা জোয়ার বলতে যা বোঝায় তা ছিল না। মানুষের স্বতঃস্ফূর্তায় কিছুটা লাগাম টানার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এটা ঠিক, নানা নিয়ন্ত্রণে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা সীমিত হলেও বাধা না মানার লক্ষণটাই ছিল প্রধান। যারা ভয় দেখাতে চেয়েছে, পহেলা বৈশাখ পালন থেকে বাঙালি জাতিকে বিরত রাখতে চেয়েছে তারা সফল হয়নি। ওরা অতীতেও সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। প্রচণ্ড খরতাপকে উপেক্ষা করে নানা বয়সের অসংখ্য মানুষের বর্ণিল ও উচ্ছল উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, বাঙালিকে ভয় দেখিয়ে জয় করা যায় না। বাধা দিলে বাধা ডিঙানোই বাঙালির সহজাত প্রবণতা।
সাড়ম্বরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাঙালির এক সংস্কৃতিক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দিনে এই ঐতিহ্য তৈরি হয়নি। সংস্কৃতি তো জীবন, অর্থনীতি ও রাজনীতিরই সম্মিলন। এর কোনোটাই আবার স্থির নয়, অক্ষয় নয়। সচল এবং ক্ষয়িষ্ণু। বাংলা সন-তারিখের প্রবর্তন কেন হয়েছিল তার খোঁজ আজ আর কয়জন রাখেন? দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাংলা তারিখের ব্যবহার খুব জরুরি নয়। এক সময় হালখাতা এবং বৈশাখী মেলার মধ্যেই সীমিত ছিল বর্ষবরণের আয়োজন। কিন্তু মানুষের সংস্কৃতিতে এবং রুচিতে যদি পরিবর্তন না আসে, যদি নতুন উপাদান-উপাচার অনুষ্ঠানাদিতে যোগ না হয় তাহলে আনন্দ কোথায়? বৈচিত্র্যেই তো আনন্দ। তাই সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে, বদলে যাচ্ছে। প্রকৃতি ও পরিবেশে যেমন বদল ঘটছে, তেমনি বদল ঘটছে মানুষের রুচিতে, আচরণে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে চলা, পরিবর্তনকে মেনে নেওয়া, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলার নামই তো সচলতা, গতিময়তা।
এই ধারাবাহিকতাতেই বাঙালির চিরায়াত ঐতিহ্যে নতুন পালক যোগ হচ্ছে, কিছু আবার ঝরেও পড়ছে। আমরা কিছু হারাচ্ছি। কিছু আবার নতুন করে পাচ্ছি। এই যোগ-বিয়োগের খেলা যারা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না, তারা কিছু সমস্যা তৈরি করেন, তাদের নিয়ে কিছু সমস্যা হয়। সনাতন সব কিছুই বর্জনীয় নয় যেমন, তেমনি সব নতুনই গ্রহণীয় নয়। আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে আদিখ্যেতা আছে, বাড়াবাড়িও আছে। এ দুটো থাকা উচিত নয়। আবেগপ্রবণ জাতি বলেই সম্ভবত আমরা সবসময় মাত্রা ঠিক রাখতে পারি না।
মানুষের ধন-সম্পদ বাড়ছে।অর্থনৈতিকভাবে মানুষ স্বচ্ছল-সাবলম্বি হচ্ছে।এর ফলে সমাজে ভোগ-বিলাসও বাড়ছে।বিত্ত-বৈভব বাড়বে অথচ তার প্রদর্শন হবে না তাই কি কখনও হয়? অতোটা উন্নত রুচি--সংস্কৃতির অধিকারী আমরা অনেকেই এখনও হয়ে উঠতে পারিনি। সে জন্য আমাদের অনেক কিছুই লোক দেখানো বা প্রদর্শনবাদী হয়ে দাঁড়ায়। কষ্ট করে নয়, মানুষ ঠকিয়ে, চুরি-ধারি করে যারা টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছে তাদের কাছ থেকে স্নিগ্ধ রুচির প্রকাশ আশা করা যায় না। সমাজে ধন বাড়ছে এবং তার সুষম বন্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় স্বভাবতই বৈষম্যও বাড়ছে। এটা গোপন বা আড়াল করার বিষয় নয়।
আরও পড়ুন, শ্রমিকের সুরক্ষা নেই
এক দিকে দেখা যায় পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ কেনার প্রতিযোগিতা, অন্য দিকে এ নিয়ে হাপিত্যেশ। একটি ইলিশ মাছ একুশ হাজার টাকায় কিংবা সতের হাজার টাকায় কেনার বিলাসিতা কেউ দেখাতেই পারে কিন্তু এর সঙ্গে বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কোনো যোগ নেই। পহেলা বৈশাখ পান্তা-ইলিশ খাওয়া হাল-ফ্যাশন। অতীতে এটা ছিল না। পান্তা খাওয়া নিশ্চয়ই গ্রাম-বাংলার পুরনো রীতি। উদবৃত্ত খাবার সংরক্ষণের জন্য যখন ফ্রিজ আবিস্কার হয়নি,তখন রাতের বাড়তি ভাতে জল ঢেলে পর দিন তা খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। এটা কেবল পহেলা বৈশাখে হতো তা নয়। সম্ভবত গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে কারা যেন পহেলা বৈশাখের সঙ্গে পান্তা-ইলিশকে একাকার করে দেয়ার প্রচারণায় মেতে উঠলো। এটা কোনওভাবেই ঐতিহ্যের অনুগামিতা নয়, বাণিজ্যিক বুদ্ধির ব্যবহার মাত্র।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনের, আনন্দের, সামাজিক সম্প্রীতি বন্ধনের একটি উপলক্ষ। পান্তা-ইলিশ বিতর্ক এখানে একেবারেই কাম্য নয়। কেউ যদি পান্তা-ইলিশ খেয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে চায়, পালন করতে চায়, করুক না। এতে ইলিশ-ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য হচ্ছে বলেই কি এ দিয়ে কারও কারও খেদ? আমাদের দেশে ‘বাণিজ্য’ কী নিয়ে হচ্ছে না? রোজা-পূজা উপলক্ষে বাণিজ্য হয় না? ইলিশ নিয়ে বাণিজ্য করে কেউ যদি বাড়তি কিছু কামিয়ে নেয়, তাতে আপত্তির কি আছে? তবে হ্যা, পান্তা-ইলিশ ছাড়া নববর্ষ উদযাপন হবে না- এটা ভেবে কারও হীনম্মন্যতায় ভোগার কিছু নেই। আপনি আপনার মতো করে, আপনার সামর্থ্যরে মধ্যে থেকে পুরাতনকে বিদায় জানান, নতুনকে সানন্দচিত্তে বরণ করে নিন- এটাই আপনার উৎসব, আপনার জন্য মঙ্গলবারতা।
দুই
গত বছর পহেলা বৈশাখের দিন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। পহেলা বৈশাখ শেষ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের উল্টো দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের সামনে কিছু দুর্বৃত্ত নারীদের ওপর হামলে পড়েছিল। নারী লাঞ্ছনার ঘটনাটি বর্ষবরণের সব আনন্দ আয়োজনকে ম্লান করে দিয়েছিল। কারা ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল এক বছরেও তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি, যদিও সিসিটিভি ক্যামেরায় কয়েকজনের ছবি ধরা পড়ছিল। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে অনেকেই সোচ্চার হয়েছিলেন। কিন্তু না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত তারা নারী নিগ্রহকারীদের পাকড়াও করতে কোনো সফলতা দেখাতে পারেননি। গতবারের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য নাকি অন্য কোনও কারণে জানি না, এবার পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পক্ষ থেকে আগাম কিছু সতর্কতা জারি করা হয়। বলা হয়, পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করতে হবে। চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ পরা যাবে না। ভুভুজেলা বাজানো যাবে না। ইত্যাদি।
পুলিশ প্রশাসনের এসব বিধিনিষেধ সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বাঙালি জাতি তার প্রাণের উৎসব ঘটা করে পালন করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তাদের সহযোগিতা করবে, নিরাপত্তা দেবে- এটাই তো প্রত্যাশিত। কিন্তু তার বদলে বিধিনিষেধ আরোপ করাটা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। যেসব সংগঠন ও ব্যক্তি বর্ষবরণের এই সর্বজনীন উৎসবের নানা আয়োজনের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে, তাদের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে কীভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়, সেটা না করে মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার বিধান ঘোষণা করে পুলিশ প্রশাসন খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সংস্কৃতিকর্মীরা ন্যায্যতই বলেছেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালার নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা কার্যত বাঙালি-সংস্কৃতিবিরোধী ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং দুষ্কৃতকারীদের নিবৃত্ত করার বদলে আরও উৎসাহিত করবে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কেউ যদি বাধা দিতে চায়,কোনও ধরনের অপকর্ম করতে চায়, সেটা কি কেবল দিনের শেষভাগেই হওয়ার আশঙ্কা? রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা তো সকালেই হয়েছিল, প্রকাশ্য দিবালোকে। তাহলে পাঁচটার মধ্যে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা কোন বিবেচনায় যুক্তি সিদ্ধ? যারা অপরাধী ধরতে পারেন তারা দিনের আলোতে যেমন, তেমন রাতের আঁধারেও সেটা পারার কথা। এবার পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততায় বাধা দেয়া হয়েছে। যত যুক্তিই দেয়া হোক, কাজটি ভালো হয়নি। একবার ভাবুন তো, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কিছু সাহসী মানুষ যদি ছায়ানটের নামে ষাটের দশকে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন না করতেন তাহলে কি পহেলা বৈশাখ উদযাপনটা আজকের মাত্রায় এসে পৌঁছতে পারতো?
নারীরা পথে ঘাটে প্রতিনিয়ত নিগ্রহ-নির্যাতন-লাঞ্ছনার শিকার হয়ে থাকেন। সেজন্য কি আমাদের পুলিশ প্রশাসন নির্দেশ জারি করবেন যে নিরাপত্তার স্বার্থে নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া চলবে না! আমাদের তো এটাও জানা যে,ঘরেও নারী সবসময় নিরাপদ নয়। ঘরে-বাইরে নারীকে নিরাপত্তা দেয়ার বদলে তাদের স্বাধীন চলাচলে বাধা দেয়াটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিন
আওয়ামী ওলামা লীগ নামের একটি সংগঠন এবার পহেলা বৈশাখের সপ্তাহখানেক আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশের সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখকে ‘অনৈসলামিক ও হারাম’ বলে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজন্য ছড়িয়েছে এবং দেশবাসীর ঘৃণা কুড়িয়েছে। ইসলামে নববর্ষ পালন জায়েজ না বলেও তারা ফতোয়া দিয়েছে। এ বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকার যে উৎসব ভাতা দিয়েছে তারও বিরোধিতা তারা ওলামা লীগ ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার দাবি তুলেছে।
আওয়ামী ওলামা লীগকে এতো দিন মানুষ আওয়ামী লীগের একটি সংগঠন বলে মনে করতো। এই সংগঠন এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত কাজকর্ম করেছে। কিন্তু তখন আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়নি যে এই সংগঠনটির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। এবার তাদের বক্তব্য সম্ভবত ঔদ্ধত্যের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলেই আওয়ামী লীগ এবার বলেতে বাধ্য হয়েছে ওলামা লীগের তাদের সঙ্গে কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। ওলামা লীগ না তাদের অঙ্গ-সংগঠন, না সহযোগী সংগঠন। প্রশ্ন হচ্ছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে দিনের পর দিন যারা প্রকাশ্যে তৎপরতা চালিয়ে এসেছে তাদের প্রতি এতোদিন আওয়ামী নেতৃত্বের নজর পড়েনি কেন? ওলামা লীগের বক্তব্য আওয়ামী লীগের অনসৃত অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনার পরিপন্থী। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর ওলামা লীগের বক্তব্য সম্পর্কে বলেছেন, অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। এটা আওয়ামী লীগের কথা না। সব ধর্মের মানুষ এই উৎসব পালন করে। পহেলা বৈশাখ শুধু ছুটির দিন না, প্রথম বারের মতো পহেলা বৈশাখে সরকার উৎসব ভাতা দিয়েছে। এটাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের নীতি।
আরও পড়ুন, খালেদা জিয়ার এখন যা করা দরকার
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেছেন, সরকার প্রথমবারের মতো বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনের জন্য উৎসব ভাতা প্রদান করছে। আবার উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করছে- এটা সাংঘর্ষিক, বিপরীতধর্মী।
সাংঘর্ষিক এবং বিপরীতমুখী প্রবণতাগুলো থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। যে কোনও অবস্থায় সরকারকে তার ঘোষিত নীতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জারি রাখতে হবে। নীতিগত প্রশ্নে দোদুল্যমানতা ও পিছুটান মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি করে। মানুষকে ভয় দেখানো নয়, অভয় দেওয়াই সরকারের দায়িত্ব। পহেলা বৈশাখের মতো ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি যতো বাড়বে দেশ ততোই উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের বিপদমুক্ত হবে। ধর্ম দিয়ে যারা মানুষে মানুষে বিভেদের প্রাচীর তৈরি করতে চায় তাদের পরাভূত করার বড় অস্ত্র পহেলা বৈশাখের আনন্দ আয়োজনে বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।এ নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি থাকা সমীচীন নয়।
বিভুরঞ্জন সরকার:সাংবাদিক ও কলামিস্ট



