সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে বইছে এখন নির্বাচনি হাওয়া। চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। কে হবেন নগরপিতা, এ নিয়ে চলছে ভোটারদের নানাবিধ বিশ্লেষণ। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর দুইবার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত তৃতীয় সিটি নির্বাচনে কামরান হার মানেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। এবারের নির্বাচনে সেই পরাজয় মুছে দিতে চান কামরান। নগরবাসীর সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এবং উন্নয়নের স্বার্থে ভোট চাইবেন তিনি। তবে আরিফ এবারও ধানের শীষের বিজয় গোলায় তুলতে চান। আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই ভোটাররা ফের তাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশাবাদী বিএনপির এই নেতা।
শুক্রবার (২৯ জুন) দুপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মেয়র প্রার্থী হওয়া নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কথা হয়। ভোটারদের কাছে নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তারা।
সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিলেটের মানুষের বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এই অল্প চাহিদাও অতীতে পূরণ করা হয়নি। নানা সমস্যায় বঞ্চিত রাখা হয় এই নগরের মানুষকে। নগরীর উন্নয়নের জন্য আমি একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছিলাম। যে মাস্টারপ্ল্যান দিয়ে পবিত্র এই নগরীকে আধুনিক মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি রাখা হয় ২৭ মাস। মুক্তি পেয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিলেটের বিভিন্ন ছড়া, খাল উদ্ধারসহ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে হাত দিয়ে সুফল পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তি আরিফ ২৭ মাস কেন, পুরো জীবন কারাবন্দি থাকলেও কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি আরিফকে বন্দি রাখা হয়েছে এই সিলেট নগরীর মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখার জন্য। আমার ওপর ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, যার কারণে তারা এবারও আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। গত নির্বাচনে এই ভোটাররা আমাকে যেভাবে ভালোবেসে মেয়র নির্বাচিত করেছেন, আমি শতভাগ আশবাদী এবারও তারা বিপুল ভোটে আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন।’
আরিফ আরও বলেন, ‘সিলেট নগরের অন্যতম সমস্যা ছিল সরু সড়ক, অল্পবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। এসব সমস্যা এখন আর নেই। এজন্য আমি নগরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ, ছড়া দখলকারীদের উচ্ছেদ এবং সড়ক প্রশস্ত করার কাজে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এমনকি অনেকেই সড়ক প্রশস্ত কাজ চলাকালে আমার কথায় কোটি টাকার জায়গা ছেড়েছেন। অতীতে সিলেটের ২৭টি ওয়ার্ডের যে উন্নয়ন হয়নি আমার সময় এরচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের সেবা করে আমার বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই। আর গড়ে তুলতে চাই আধুনিক একটি নগর। আমি লোকদেখানো উন্নয়নে বিশ্বাসী নই, সিলেটের জন্য আমি টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী।’
তবে গত মেয়াদে সিলেটে কোনও উন্নয়ন হয়নি দাবি করে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘আমার সময়ে সিলেট নগরীতে যেভাবে উন্নয়ন কাজ করেছিলাম, এরপর আর সেরকম উন্নয়ন কাজ হয়নি। নগরীতে অনেক সমস্যা এখনও রয়েছে। এই নগরের মানুষ আমাকে কমিশনার থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং দুইবার সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত করেছেন তাদের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই। আমি এই নগরের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে এখনও রয়েছি। মেয়র না থাকাকালীন আমার বাসার দরজা সবার জন্য খোলা ছিল। যার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবার কাছে আমি আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা করে নিতে পেরেছি। নগরবাসীর পরামর্শ অনুযায়ী এই নগরের উন্নয়নে আমি এবারও মেয়র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, এবার সিলেটের মানুষ নৌকার বিজয় ঘরে তুলবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার সময় সিটি করপোরেশন ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনও দলাদলি ছিল না। কিন্তু তৃতীয় সিটি নির্বাচনের পর করপোরেশনে শুরু হয় একক আধিপত্য। উন্নয়নের নামে হয়েছে টাকা লুটপাট। এই নগরের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক ছিলেন। সিলেটের বড় বড় সমস্যা যেগুলো, সেসব আমার সময়ে সমাধান হয়েছে। এরপর সিলেটে আর তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি। জনগণের ভালোবাসায় আমি আজকের কামরান। সিলেটের সাধারণ মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার প্রতিফলন হবে নৌকা প্রতীকে। আমরা সবাই মিলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। কারণ, নৌকা না থাকলে উন্নয়ন হয় না, উন্নয়ন মানেই নৌকা।’








