X
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
৯ ফাল্গুন ১৪৩০

রাজশাহীর ৬টি আসনে আ.লীগ নেতাদের যেসব কারণে অন্তর্দ্বন্দ্ব

দুলাল আব্দুল্লাহ, রাজশাহী
০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০৬আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৩১

রাজশাহী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজশাহীতে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জেরবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের অন্তর্কলহ ও পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ক্ষয় করছে সাংগঠনিক শক্তি। জেলার ছয়টি আসনেই দেখা গেছে কম-বেশি এমন চিত্র। এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এ নির্দেশ মেনে ধানমণ্ডির ওই বৈঠকে সবাই আসতে রাজি হলেও এখনও পরস্পরকে ছাড় দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। এছাড়াও রাজশাহী সদর আসনটি মহাজোটের অংশীদার ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় নাখোশ এখানকার নেতা-কর্মীরা। এবার এই আসনটি দলের অনুকূলে ফিরে পাওয়ার আশা করছেন তারা।    

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসন: এই আসনে প্রধান দুই দলেই একাধিক প্রার্থীর ছড়াছড়ি। নির্বাচনি এলাকায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বিএনপিতে প্রার্থী নিয়ে শক্ত বিরোধ না থাকলেও আওয়ামী লীগে প্রার্থী নিয়ে রয়েছে দ্বন্দ্ব। শীর্ষ দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে ভোটের মাঠে রয়েছেন একাধিক নতুন মুখ। এদের মধ্যে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বর্তমানে কেন্দ্রীয় জাতীয় পরিষদ সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যডভোকেট মকবুল হোসেন খান, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানীও মনোনয়ন চাইবেন। তারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে বর্তমান দলীয় সংসদ সদস্য ফারুক চৌধুরীর বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখছেন। দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের পক্ষে তাদের মধ্যে একাট্টা ভাবও দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য একেএম আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে ত্যাগী নেতা-কর্মী, ভোটারদের কোনও সম্পর্ক নাই। ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী বদল করতে। তিনি এখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে আছেন, তাই ভয়ে সবাই চুপ থাকে। কিন্তু ভোটের মাঠ তার উল্টা।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পুলিশের সাবেক আইজিপি মতিউর রহমান বলেন, বর্তমান এমপি রাজাকারদের আস্ফালন, জামায়াত কর্মীদের নাশকতা-অপতৎপরতা বন্ধে কোনও পদক্ষেপ নেননি। তিনি নাশকতা চালানোর সময় এলাকাতেও ছিলেন না। মানুষের পাশে দাঁড়াননি। অথচ এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করে তারই প্রথমে দাঁড়ানোর কথা ছিল। তিনি এলাকার কোনও উন্নয়ন করতে পারেননি। উন্নয়ন বলতে গেলে এক কথায় ‘জিরো’। সমস্ত রাস্তা-ঘাট ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। তিনি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত না করে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের দলে যোগদান করিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ত্যাগীরা তার পেছনে কেউ নেই, কারণ তিনি দলীয় নেতাদেরও নির্যাতন করেছেন। এমনকি গণসংযোগের সময় তার (ওমর ফারুক চৌধুরী) লোকজন দিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। এজন্য মামলাও করা হয়েছে।

বর্তমান সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সমালোচনা করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন খান বলেন, ‘তার কোনও আদর্শ নেই। ২০০০ সালে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গেই তার হৃদ্যতা। তার পেছনে দলের ত্যাগী কোনও নেতা নেই। তাকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগের কোনও নেতা-কর্মী ভোট কেন্দ্রে যাবেন কিনা সন্দেহ আছে। তিনি দলকে বিভক্ত করেছেন। অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। তাকে বাদ দিয়ে যে কাউকে মনোনয়ন দিলে আমরা তার পেছনে থাকবো।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় তবে নিজ দলের নেতাদের অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আমি মনোনয়ন নিয়ে চিন্তা করছি না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যাকে দিয়ে মনে করবেন-এই আসনটিতে দলকে জেতানো সম্ভব, তাকেই মনোনয়ন দিয়ে দলকে জিতিয়ে আনবেন। যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তারা সবাই দলের পক্ষে কাজ করলে ভালো, কারও বিরুদ্ধে কথা বলা খারাপ। আমি এলাকায় জনগণের সঙ্গে আছি। ভোটাররা আমার পক্ষে আছেন।

রাজশাহী জেলা যুবলীগের সদস্য ইয়াছির আরাফাত সৈকত বলেন, এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ নয়, তাই প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ঐক্যবদ্ধ হলে আওয়ামী লীগের বিজয় সম্ভব।

রাজশাহী-২ (সদর) আসন: আসনটির দিকে সবারই থাকে বাড়তি নজর। এই আসনে কোন দল থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, কিংবা কে নির্বাচিত হচ্ছেন, তা জানার আগ্রহ থাকে দেশব্যাপী। কারণ এই আসনটিকে ঘিরে রচিত হয় রাজশাহী অঞ্চলের রাজনীতির হিসাব নিকেশ।

জোটবদ্ধ নির্বাচনের কারণে গত নির্বাচনে মহাজোট থেকে এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সংসদ নির্বাচনে সদর আসনে দলের মধ্য থেকে প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন। এই দাবি নিয়ে সোচ্চার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও তার বোন-জামাই নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মীর ইকবাল। এছাড়াও রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহাবুব জামান ভুলুও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মীর ইকবাল বলেন, ‘বিভাগীয় শহর রাজশাহী। এখানেই আমার জন্ম। এখন এই শহরে আমাদের এমপি নাই, মেয়রও নাই। আমাদের কথা বলার মতো কেউ নাই। আমাদের দলীয় এমপি না থাকায় বিভাগীয় এই শহরের কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। জোট থেকে যিনি এমপি হয়েছেন, তিনি আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আসেন না, বসেনও না। আমাদের বিপদে আপদে পাশে থাকেন না। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হলে দলীয় প্রার্থী লাগবে। এটা কেন্দ্রকে বোঝাতে হবে। কেন্দ্র বুঝলেই সম্ভব। জোটের প্রার্থীকে দেশের অন্য যে কোনও আসন দিক, শুধু রাজশাহী সদর আসনটি আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিতে হবে।’

এসব বিষয়ে জোটের বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, সরকারের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি—এমন কোনও অভিযোগ কেউ দিতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এসব কথা বলছেন, তারা গত তিন বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আমি আট বছর এমপি থাকার পরও তাদের এক কোনা পরিমাণ সম্পদও করতে পারিনি। আমি তাদেরকে কি দেখবো? তৃণমূল পর্যায়ের সৎ ও নিবেদিত প্রাণ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ আছে। তারা আমার পক্ষে। তারা আমাকে আবারও চায়। জোট রক্ষা করতে হলে, জোটের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে আমাকেই মনোনয়ন দিতে হবে। তারা জোট ভাঙতে চাইলে বিএনপি-জামায়াতের স্বার্থ রক্ষা করবে। আমি যে উন্নয়ন করেছি, তা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন, এতে শেখ হাসিনার ইমেজ বেড়েছে।’

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন:  এ আসনটি রাজশাহী শহর সংলগ্ন হওয়ায় সবার বাড়তি নজর রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকটা হুট করেই মনোনয়ন পেয়ে যান বর্তমান সাংসদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়েন উদ্দীন। ওই নির্বাচনে তাকে লড়াই করতে হয় দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী মেরাজ উদ্দীন মোল্লার সঙ্গে। এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন তো রয়েছেনই, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেরাজ মোল্লা আবারও মনোনয়ন চাইবেন আসনটিতে।

তাদের বাইরে অনেক নেতা নিয়মিত গণসংযোগও করছেন। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি দলীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই আসনটিতে নিয়মিত যাচ্ছেন। সেখানে প্রায়ই গণসংযোগও করছেন। এ নিয়ে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীনের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

আসাদুজ্জামান আসাদকে ইঙ্গিত করে বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দীন বলেন,‘ভোটাররা স্থানীয় লোককে প্রার্থী হিসেবে চায়। তারা কখনোই বহিরাগত প্রার্থীকে মেনে নেবেন না।’

রাজশাহী-৩ আসনের এমপির বিরুদ্ধে দলীয় নেতার অভিযোগ তবে নিজে ‘বহিরাগত’ নন উল্লেখ করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘‘এটা আবার কি জিনিস? আমি কি বাংলাদেশের বাইরের মানুষ? আমার জন্ম পবায়। ভূগরইল প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি। এসব ‘বহিরাগত’’ কথাবার্তা যারা বলেন- তারা শুধু নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ করেন।’

আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বেগম আক্তার জাহান, সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেছা তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবুও এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।তাদেরও অনেকে গণসংযোগ করছেন এই আসনটিতে।

এদিকে এই আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেছেন পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইদুর রহমান বাদল। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বরাবর তিনি এ লিখিত অভিযোগ করেন। তবে এই অভিযোগ সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকে দিয়ে করিয়েছেন বলে অভিযোগ সাংসদ আয়েনের।

সাইদুর রহমান বাদলের অভিযোগ, হরিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সোভানের ছেলে আজিমুদ্দিনকে আন্ধারকোঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার জন্য চার বছর আগে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন তিন লাখ টাকা নেন। তিনি নিজে ঢাকায় গিয়ে ন্যাম ভবনে সাংসদের বাসায় গিয়ে টাকা দেন। কিন্তু আজিমুদ্দিনকে চাকরি দেওয়া হয়নি। সেখানে অন্য আরেকজনের চাকরি হয়েছে। পরবর্তীতে অনেক দেন দরবার করে হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মঞ্জিলের মাধ্যমে বছর খানেক আগে দুই লাখ টাকা ফেরত দেন সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। এখনও এক লাখ টাকা ফেরত পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাইদুর রহমান আরও বলেন, আমার নামে বিট খাটাল করে দেওয়ার জন্য ওই সংসদ সদস্য আরও এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু তিনি তা করে দেননি। পরে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও এক লাখ টাকা এখনও দেননি।

সাইদুর বলেন, এই দুই লাখ টাকা তিনি এমপির কাছে এখনও পান। এ জন্য ফোন করলে এমপি ফোন ধরেন না,দেখা করতে গেলেও তাকে সাক্ষাত দেন না।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, নৈশ প্রহরী নিয়োগের অর্থ লেনদেন ও অনিয়ম করেছে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী। এ কারণে তাকে ওই কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। সাইদুর রহমান বাদলের সঙ্গে আমার কোনোদিন কোনও বিষয় নিয়ে অর্থ লেনদেন হয়নি। কিছু নেতার মদতে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাইদুর রহমান বাদল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অর্থের অভাবে তিনি চিকিৎসা করতে পারছিলেন না। হাসপাতাল থেকে বাদল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদককে ফোন দেন। মাননীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে থেকে বিষয়টি জেনে হাসপাতালে ছুটে যাই এবং তার চিকিৎসার জন্য দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা দেই। সে টাকা দিয়ে বাদল সুস্থ হয়ে এখন অন্যের মদতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার করছে। এটি আমার বড় কষ্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী বলেন, প্রথমে নৈশ প্রহরী নিয়োগ কমিটিতে ছিলাম। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার কারণে এমপি তাকে ওই কমিটি থেকে বাদ দেন। এমপির নির্দেশনায় সব নিয়োগ হয়েছে। এখানে কারও সঙ্গে আমার লেনদেনের কোনও সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে তিনি যা বলেছেন তা সত্য নয়।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, একজন এমপির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ জেলা আওয়ামী লীগের কাছে দেওয়া হয়েছে। এটি সাংগঠনিক কোনও বিষয় নয়। তাই এ নিয়ে তাদের কিছু করার নেই। তবে অভিযোগটি দলের হাই কমান্ডে পাঠানো হবে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসন: বাগমারা উপজেলাটিকে পৃথক করে রাজশাহী-৪ আসনটি ২০০৮ সালে সৃষ্টি করা হয়। ওই বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান ব্যবসায়ী এনামুল হক। বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল গফুরকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সংসদ সদস্য হন এনামুল। এবার এই আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের পক্ষে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। প্রকাশ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান দলীয় সাংসদ ও এনা গ্রুপের কর্নধার এনামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় দাঁড় করিয়েছেন তারা। তারা বলছেন, ‘এনামুল হকের কাছে আওয়ামী লীগ নিরাপদ নয়, তিনি সংগঠনকে দ্বি-খণ্ডিত করেছেন। ভরাডুবি ঠেকাতে হলে দলের অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দিলে বিজয় সম্ভব।’ এই অভিযোগের ফিরিস্তিতে নিয়োগ বাণিজ্য, বিএনপি জামায়াতকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া, এমনকি জেএমবি ও সর্বহারা ক্যাডারদের দলের পদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

যদিও সংসদ সদস্য এনামুল হক দাবি করেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং যারা এসব কথা বলেছেন তারা বহিষ্কৃত হয়েছেন।

এনামুল হক বলেন, ‘যারা জেএমবি-সর্বহারা সংগঠন সক্রিয়ভাবে করেছে, তাদের অনেকে এখন জেলে আছে। অনেকে পালিয়ে এলাকা ছেড়েছে। আর যারা ভালো হতে চেয়েছে তারা সে সুযোগও পেয়েছে।

দলের বিরোধ প্রসঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন,‘আমাদের সংগঠনে অনেক যোগ্য প্রার্থী আছেন। বড় দলে প্রার্থী বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই, প্রতিযোগিতা আছে। দলের সভাপতি যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই মনোনয়ন দেবেন। নির্বাচনের সময় এলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে বিজয়ী করতে কাজ করবে।’

আসনটি থেকে এনামুল হক ছাড়াও মনোনয়ন চাইবেন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সাবেক দুই ছাত্রনেতা। এরা হলেন, বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসন: সম্প্রতি দুর্গাপুর কলেজ মাঠে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী আব্দল ওয়াদুদ দারাকে প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে অনুষ্ঠানে এই আসনে সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদার, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদ, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ওবায়দুর রহমান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য আবু সায়েম ও ব্যবসায়ী আসিফ ইবনে আলম।

ওই অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারাকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘আপনাদের বলে দিতে চাই,বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বিক্রি করে কেউ যদি  টাকার মালিক হন, আর যাই হোক তাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দেবেন না। মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা করার দরকার আছে বলে মনে করি না, শেখ হাসিনা এই অপদার্থদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। আপনারা যেভাবে রায় দেবেন, আপনারদের মনের কথা নিয়েই শেখ হাসিনা প্রার্থী দেবেন।’

এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল মজিদ সরদার বলেন,‘সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদকে যে কোনও মূল্যে এ এলাকার জনগণ প্রতিরোধ করবে। সেইসঙ্গে  আবদুল ওয়াদুদকে বাদ দিয়ে তাদের সাতজনের ভেতর থেকে যে কোনও একজনকে দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে—এটাই এই আসনের মানুষের দাবি।’

এদিকে,সাত মনোনয়ন প্রত্যাশীর বিরোধিতা নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেছেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। আর আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। বড় দলে মান-অভিমান থাকবেই। নির্বাচন এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবারই আছে। এরমধ্যে জনগণের কাছে যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসন: এই আসনে প্রধান দুই দলেই রয়েছেন একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চান বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি ছাড়াও এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য ও  জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রায়হানুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য রোকনুজ্জামান রিন্টু। 

এ আসনে মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি থেকেও মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছেন এক নেতা। জাতীয় পার্টির রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন রিন্টু সরকার বলেন, ‘আমাদের দলে কোনও কোন্দল। যা আছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। তাই তাদের কোন্দলকে হাতিয়ার করে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে পরিচিত করতে জনগণের সঙ্গে গণসংযোগ করে যাচ্ছি।’

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে সড়কে ওঁৎ পেতে থাকে তারা, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে করতো ছিনতাই
রাতে সড়কে ওঁৎ পেতে থাকে তারা, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে করতো ছিনতাই
জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দের দাবি উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলনের
জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দের দাবি উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলনের
কারিগরিসহ উচ্চশিক্ষা চুক্তিতে রাজি বাংলাদেশ-রাশিয়া
কারিগরিসহ উচ্চশিক্ষা চুক্তিতে রাজি বাংলাদেশ-রাশিয়া
‘নো বল’ না দেওয়ায় আম্পায়ারের ওপর ক্ষোভ হাসারাঙ্গার
‘নো বল’ না দেওয়ায় আম্পায়ারের ওপর ক্ষোভ হাসারাঙ্গার
সর্বাধিক পঠিত
দুঃখ ঘুচছে উত্তরের, দূরত্ব কমবে ১১২ কিমি
দুঃখ ঘুচছে উত্তরের, দূরত্ব কমবে ১১২ কিমি
লিবিয়ার ‘গেমঘর’ থেকে ফিরে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা তরুণের
মানবপাচারলিবিয়ার ‘গেমঘর’ থেকে ফিরে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা তরুণের
আত্মীয় হলেই চাকরি মেলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে!
আত্মীয় হলেই চাকরি মেলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে!
৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর সুবিধা দিতে হাইকোর্টের রায়
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর সুবিধা দিতে হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘নতুন অধ্যায়’: কী চায় দুই দেশ?
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘নতুন অধ্যায়’: কী চায় দুই দেশ?