তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, ধরলায় পানি বৃদ্ধিতে তীব্র হয়েছে ভাঙন

মোয়াজ্জেম হোসেন, লালমনিরহাট
২১ জুন ২০২০, ০৬:০২আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ০৬:০৩

উজানের ঢলের কারণে ধরলায় বেড়েছে পানি, তীব্র হয়েছে ভাঙন উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। এদিকে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ধরলা নদীর তীরবর্তী লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পানি পরিমাপক) সহকারী প্রকৌশলী এএসএম আমিনুর রশিদ বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শনিবার (২০ জুন) সকালের দিকে দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটর। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটর) বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আবার বিকাল ৪টায় একই পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। যা ৫২ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার। শনিবার রাতেই পানি নেমে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে হঠাৎ বাড়তে থাকে তিস্তার পানি প্রবাহ। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকাল ৬টার দিকে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুকিয়ে যাওয়া মৃত প্রায় তিস্তা আবারও ফুলে ফেঁপে উঠেছে। এতে কর্মব্যস্ততা দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ের জেলে পরিবারগুলোতে।

অপরদিকে, পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী জেলার পাঁচটি উপজেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বেড়েছে তিস্তা ও ধরলার পানি এদিকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া শাখা। পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই তিস্তার পানি প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা দেখা দেয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের।

তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসল তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষীরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশু পাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে পড়েছেন।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর বুকে পলি ও বালু পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে অল্প পানিতেই বন্যার সৃষ্টি হয়। এবারও তাই হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে। এখন তেমন কোনও সমস্যা নেই। সবগুলো গেট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এদিকে, ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মোগলহাট, বড়বাড়ী ও কুলাঘাট ইউনিয়নের নদী তীরবর্ত্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনের মধ্যে।

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী