X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

জমি নিয়ে বিরোধেই রহিমা নিখোঁজ?

হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৮আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৩৫

জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেই গৃহবধূ রহিমা বেগম (৫২) খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বাড়ি ছেড়ে বয়রায় বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। মাঝেমধ্যে মহেশ্বরপাশার বাড়িতে আসতেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট তিনি এ বাড়িতে আসেন। এ বাড়ি থেকেই ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিখোঁজ হন। এ নিয়ে টানা ২৯ দিনের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার পর শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রহিমা উদ্ধার হন। কিন্তু এ ঘটনায় কারাগারে রয়েছেন ছয় জন। পুলিশ, প্রতিবেশী ও প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

রহিমার নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা হেলাল শরীফের স্ত্রী মনিরা আকতার বলেন, ‘আমার স্বামীকে গত ৩০ আগস্ট রাত ৮টায় দৌলতপুর থানা পুলিশ মহেশ্বরপাশা বণিকপাড়ার মৃত আবদুল মান্নানের স্ত্রী রহিমা বেগম নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী আক্তারের (২২) দায়ের করা মামলায় আটক দেখায় এবং পরদিনই আদালতে তোলে। বর্তমানে আমার স্বামীসহ ছয় জন ওই মামলায় জেলে রয়েছেন। আদুরী আক্তারের থানায় দায়ের এজাহার সূত্রে জানতে পারি, তার মা রহিমা বেগম ২৭ আগস্ট মহেশ্বরপাশা খানাবাড়ী থেকে রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে বাসার নিচে টিউবয়েল থেকে খাবার পানি আনতে যান। এর পর থেকে নিখোঁজ হন। আমার স্বামী এ ব্যাপারে কিছু না জানার পরও প্রায় একমাস তাকে অন্যায়ভাবে জেলে থাকতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রহিমা বেগমের সৎছেলে (মান্নানের প্রথম ঘরের ছেলে) একজন মুহুরির কাছে প্রথমে জমি বিক্রি করে। ২০১৯ সালে আমার স্বামী হেলাল ও তার বন্ধু কিবরিয়া ওই মুহুরির কাছ থেকে জমি কেনেন। পরে রহিমা বেগমের অপর সৎছেলে সেখানে আরেকটু জমি বিক্রি করলে সেটুকুও কেনা হয়। ওই জমি নিয়ে এতদিন কোনও কথা না উঠলেও কয়েকদিন আগে আমার স্বামী যখন ওই জমির দখলে যেতে চান, তখন রহিমা বেগম বিভিন্ন দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেন। এ সময় আমার স্বামী হেলাল ও তার বন্ধু কিবরিয়া মিলে রহিমা বেগমের এক মেয়ের কাছে জমিটি পুনরায় কেনার কথা জানান। রহিমা সেটা মানেননি। এরপর স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে আমার স্বামী এ ব্যাপারে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলরের শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আমার স্বামীসহ কয়েকজনের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় আমার স্বামী আগাম জামিন লাভ করেন।

‘এরপর নতুন করে রহিমা বেগম গুম হয়েছেন বলে এ মামলা হয়। আমার স্বামীসহ পাঁচ জনের নামে মিথ্যা মামলা দেয়। আমার স্বামীর দোষ এতটুকুই যে, তিনি তার পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। দুই বছর আগে আমার শাশুড়ি মারা গেছেন। আমার শ্বশুর বর্তমানে প্যারালাইসিস এ আক্রান্ত। তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। সন্তানের জন্য আজ তিনি পাগল প্রায়। কোনও দোষ না করার পরও শুধু সন্দেহবশত আমার স্বামীকে আজ জেল খাটতে হচ্ছে। রহিমা বেগম ফিরে এসেছেন। কিন্তু আমার স্বামী আজ জেলে কষ্ট পাচ্ছেন। আর আমি আমার তিন ছেলেমেয়ে ও অসুস্থ শ্বশুরকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। তার রক্তচাপসহ হার্টের সমস্যা রয়েছে। অতিদ্রুত আমার স্বামীর ফিরে আসার ব্যাপারে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটা সময় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার দেখানো হলো, যখন আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। গত ৬ সেপ্টেম্বর আমার তৃতীয় মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। সে সময় স্বামীকে আমি কাছে পাইনি। আমার ছোট মেয়েটার মুখ আজও দেখতে পারেননি আমার স্বামী। মেয়ের বয়স ২১ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। আমি দৌলতপুর থানা পুলিশ, পিবিআই, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, রহিমা বেগমকে আপনারা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। এখন আমার নির্দোষ স্বামীসহ গ্রেফতারকৃত পাঁচ জনকে বন্দি জীবন থেকে মুক্তি দিন।’

নিখোঁজ রহিমা খাতুনকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস বিশ্বাসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। খুলনার দৌলতপুরের বণিকপাড়া থেকে নিখোঁজের ২৮ দিন পর শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের দাবি, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে বাড়ি থেকে নিচে নামেন রাহিমা বেগম (৫২)। ঘণ্টা পার হলেও তিনি বাসায় ফিরে আসেন না। পরে মায়ের খোঁজে সন্তানরা সেখানে গিয়ে মায়ের ব্যবহৃত স্যান্ডেল, গায়ের ওড়না ও কলস রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। রাতে সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান নেওয়ার পর মাকে পান না। এরপর সাধারণ ডায়েরি ও পরে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তকালে পুলিশ ও  র‌্যাব ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রধান প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া, নিখোঁজ গৃহবধূর দ্বিতীয় স্বামী হেলাল হাওলাদার, দৌলতপুর মহেশ্বরপশা বণিকপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন, পলাশ ও জুয়েল এবং হেলাল শরীফ। এ অবস্থায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নথিপত্র ১৭ সেপ্টেম্বর বুঝে নেয় পিবিআই খুলনা। এখন এ মামলার তদন্ত করছেন পিবিআই পরিদর্শক আব্দুল মান্নান। ২২ সেপ্টেম্বর রহিমার মেয়ে মরিয়ম আক্তার ওরফে মরিয়ম মান্নান দাবি করেন, তার মায়ের লাশ তিনি পেয়েছেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুরে দিনভর অবস্থান নেন এবং ব্যস্ততম সময় অতিবাহিত করেন। একই সাথে সেখানে ১০ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক মহিলার লাশকে নিজের মা বলে শনাক্ত করেন। এবং ডিএনএ প্রোফাইল করার জন্য সম্মত হন। ২৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের আদালতে ডিএনএ প্রোফাইল করার আবেদন করার কথা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন:

/এমএএ/
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো মোটরসাইকেলের ২ আরোহীর
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেলো মোটরসাইকেলের ২ আরোহীর
শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম
শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে খেলা হচ্ছে না সামির
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে খেলা হচ্ছে না সামির
অস্ট্রেলিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা ম্যাচটা ‘যুদ্ধের’
অস্ট্রেলিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা ম্যাচটা ‘যুদ্ধের’
সর্বাধিক পঠিত
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
আয়াত হত্যারিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী