বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে তার পৈতৃক জনপদ ফেনী। ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এখন কান্নার রোল। নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা আর হাহাকার।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রী খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার পৈতৃক বাড়িতে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বাড়ির নারী সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কেউ কেউ বলছিলেন, ‘এবারও তিনি আসবেন—এই আশাটুকু নিয়েই তো আমরা বেঁচে ছিলাম।’
সকাল থেকেই একে একে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনেককে চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ির আঙিনায় বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ নীরবে কাঁদছেন, কেউ আবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়ছেন কান্নায়।
পৈতৃক বাড়িতে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআন তেলাওয়াত, কোরআনখানি ও দোয়া-দরুদ পাঠ করা হচ্ছে। পাশের মসজিদগুলোর মাইকে শোকবার্তা প্রচার করা হয় এবং বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
বাড়ির একজন বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন বলেন, ‘এই বাড়িটাই ছিল তার শেকড়। তিনি যত বড় মানুষই হোন না কেন, এখানে এলে একেবারে আপন হয়ে যেতেন। আজ সেই আপন মানুষটাই চিরদিনের জন্য চলে গেলেন।’
দলীয় নেতাকর্মীরাও শোক সামলাতে পারছেন না। ফুলগাজী ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিএনপি নেতারা বলেন, ‘ফেনীর মানুষ একজন অভিভাবককে হারালো। তিনি শুধু দলের চেয়ারপারসন ছিলেন না, ছিলেন আমাদের সাহস ও ভরসার প্রতীক।’
প্রসঙ্গত, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফেনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর ও আবেগঘন। আজ সেই সম্পর্কই শোকে পরিণত হয়ে কাঁদছে একটি জনপদ, একটি বাড়ি, অসংখ্য মানুষ।








