সড়ক সংস্কারের নামে উপড়ে ফেলা হলো শতাধিক তাল ও খেজুর গাছ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
০৬ জুন ২০২৩, ০২:১১আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩, ০২:২৮

পটুয়াখালীর বাউফলে গ্রামীন জনপদের সড়ক সংস্কারের নামে শতাধিক তাল ও খেজুর গাছ উপড়ে ফেলেছেন প্রকল্পের সভাপতি। এছাড়াও কাজের বিনিময়ে খাদ্যের (কাবিখা) আওতায় প্রকল্পটি স্থানীয় দারিদ্র জনগোষ্ঠি দ্বারা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা হয়নি। শ্রমিক সংকট দেখিয়ে স্কেভেটার (বেকু)  দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে সড়কটি।

বাউফল উপজেলা পরিষদের সদর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে গাছ নিধন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন অনিয়মের দৃশ্য এখন পর্যন্ত প্রশাসন বা কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার  নজরে আসেনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়,  বাউফল সদর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের যৌতা গ্রামের আনছার বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ইসমাইল ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় উপজেলা পরিষদ। কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১৪ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ দেওয়া হয় ওই কাজের বিপরীতে। প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী স্থানীয় দারিদ্র জনগোষ্ঠি দ্বারা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

শতাধিক তাল ও খেজুর গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বাউফলে

স্থানীয়রা জানান,  প্রকল্পের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটু মোল্লা স্কেভেটার দিয়ে মাটি কেটে সড়ক সংস্কার করেছেন। সড়ক সংস্কারের নামে সড়কের দুই পাশে থাকা ৯২টি বড় আকারের তাল ও ৫১টি খেজুর গাছ স্কেভেটার মেশিন দিয়ে উপড়ে ফেলেন তিনি। উপড়ে ফেলা গাছগুলো পড়ে আছে সড়কের দুই পাশে। গত ৫ জুন সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান লিটু মোল্লা বলেন, কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। আর এ কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাস্তার মধ্যে থাকা কিছু তাল ও খেজুর গাছ কাটা হয়েছে।

বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে রাস্তার পাশের পরিবেশবান্ধব তাল ও খেজুর গাছ কাটা যাবে না।

উপড়ে ফেলা শতাধিক তাল ও খেজুর গাছ পড়ে আছে রাস্তার পাশে

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাস বলেন, আমার জানামতে সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা কামরুজ্জামান লিটু মোল্লা কাজটি করেছেন। তাকে রাস্তা সংস্কার করতে বলা হয়েছে, গাছ কাটতে বলা হয়নি।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ভারপ্রাপ্ত) বায়েজেদুর রহমান বলেন, আমি কোনও গাছ কাটার অনুমতি দেইনি। আর আমি অনুমতি দিতেও পারি না। বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

পটুয়াখালী বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন,শুধু সরকারী নয়, মালিকানাধীন গাছ কাটতে হলেও অনুমতি নিতে হবে। আর সড়ক সংস্কারের নামে উদ্দেশ্যে প্রণদিত অথবা দায়িত্ববোধ এরিয়ে গাছ নিধন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী