বরিশাল মহানগর বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে যুবদলের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার হন নগরীর ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য আতিকুল ইসলাম রাব্বি। তিনি বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সরওয়ারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
শনিবার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের এমপি দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রাব্বির শারীরিক গঠন ভালো থাকায় সে সবাইকে ঠেলে মঞ্চের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সেখানে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীদের গায়ে এবং পায়ে আঘাত লাগে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলে এক পর্যায়ে তারা তাদের সঙ্গে থাকা ব্যানারের লাঠি এবং কিলঘুষি দিয়ে তাকে আহত করেন।
তবে রাব্বি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলের অনুসারী ছিলেন সোবাহান। তখন তারা চাঁদাবাজি করতেন। তার দোকানেও চাঁদা নিতে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই তার ওপর সোবাহানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে এক হয়।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে সমাবেশস্থলে থাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, সমাবেশে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক এসেছে। সেখানে ধাক্কাধাক্কি হওয়া স্বাভাবিক। কাউকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ আমি পাইনি।
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। প্রধান অতিথি ছিলেন -বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ার। সমাবেশ শেষে বের হওয়া র্যালি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হলের সামনে এসে শেষ হয়।
একই সময় জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালির নেতৃত্ব দেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।