মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে জানতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া চিঠির উত্তর পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে ইউএনএইচসিআর থেকে পিবিআইকে গায়ত্রী সম্পর্কে চাওয়া তথ্য জানানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে ইউএনএইচআর থেকে চিঠির উত্তর পাঠানো হয়। চিঠি দিয়ে আমরা গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে যা যা তথ্য চেয়েছি তারা চিঠিতে সব তথ্য জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই নারী ইউএনএইচআরে কাজ করেন না বলে তারা জানিয়েছেন। ২০১৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত গায়ত্রী অমর সিং ওই সংস্থায় কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন বলে তারা জানায়।’
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘আমরা যা চেয়েছি, তারা সবকিছুই আমাদের জানিয়েছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয়ে আমরা এই মুহূর্তে কিছু প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’
মিতু হত্যা মামলায় গত ১২ মে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারকে প্রধান করে আট জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। মামলায় তিনি অভিযোগ আনেন, ভারতীয় নারী গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে বাবুল আক্তারের প্রেম ছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবুল নিজেই তার স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করেন ও নির্দেশ দেন। পরে এ ঘটনায় ২৩ মে গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। খুনিরা গুলি করার পাশাপাশি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্তা পায় পুলিশ। এ ঘটনায় গত ১২ মে ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে পিবিআই বলছে, মিতু হত্যা ছিল কন্ট্রাক্ট কিলিং। বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় এটি সংঘটিত হয়। মিতুকে হত্যার জন্য তিন লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে তার জানান।
অন্যদিকে মিতু বাবা মোশারফ হোসেন মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে বাবুল আক্তার কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় গায়ত্রী নামে এক ইউএনএইচসিআরের ফিল্ড অফিসার (প্রটেকশন) সেখানে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গায়েত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে গায়ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বাবুল আক্তার। বাবুলের মোবাইল ফোনে গায়ত্রী মেসেজ পাঠিয়েছিল। ফোন বাসায় রেখে যাওয়ায় ওই মেসেজগুলো মিতু দেখতে পায়। তখন তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ-অশান্তি চরমে ওঠে। ওই ঘটনার জের ধরেই বাবুল তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে বাবুল চীনে এক প্রশিক্ষণে গেলে স্ত্রী মিতু দুটি বই পান, সেগুলো গায়ত্রী বাবুলকে দিয়েছিল। ওই বই দুটির দুটি পৃষ্ঠায় গায়ত্রী ও বাবুলের লেখায় তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে। ‘তালিবান’ নামে একটি বইয়ের শেষ পাতায় বাবুল আক্তার নিজে গায়ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয়, বিচে হাঁটাসহ তার কাটানো কিছু মুহূর্তের কথা লিখে রাখেন। একই বইয়ের তৃতীয় পাতায় গায়ত্রীও বাবুলকে উদ্দেশ করে একটা মেসেজ লেখেন।









