মসলা চাষে আশা দেখছেন পাহাড়ের চাষিরা 

জিয়াউল হক, রাঙামাটি 
০৭ মার্চ ২০২২, ১৪:১৩আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ১৪:১৩

এতদিন পাহাড়ি এলাকায় জুমচাষের সঙ্গে চাষিরা আদা-হলুদের চাষ করতেন। তবে এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ের জমিতে আমদানি নির্ভর উচ্চমূল্যের মসলা এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ, আলুবোখারা, গোলমরিচের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য তিন পার্বত্য জেলায় দুই হাজার ৬০০ একর জমিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এসব মসলার চাষ শুরু হয়েছে। আর দামি এসব মসলা উৎপাদনে ভালো লাবের আশা করছেন চাষি ও সংশ্লিষ্টরা।  

পাহাড়ের চাষিরা বলছেন- এক সময় পাহাড়ে মসলা চাষ বলতে শুধু আদা-হলুদের চাষকে বোঝানো হতো। পাহাড়ের কৃষকদের কাছে উচ্চমূল্যের মসলা এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ, আলুবোখারা, গোলমরিচের মসলা চাষ সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। বিভিন্ন মসলা চাষের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় জুম চাষের পাশাপাশি মসলা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন পাহাড়ের চাষিরা। 

 এছাড়া সাথী ফসল হিসাবে বাগানে বিভিন্ন ফলমূলের চাষও সম্প্রসারণ হয়েছে। পাহাড়ে অন্যান্য ফসল যেখানে ওজনের কারণে পরিবহনের খরচ বেড়ে যায়, সেখানে মসলার ওজন কম হওয়ার কারণে পরিবহন ব্যয়ও অনেক কমে আসবে বলছেন চাষি ও সংশ্লিষ্টরা। এ লক্ষ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চমূল্যের মসলা চাষ’ প্রকল্প নামে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। 

জানা যায়, রাঙামাটি শহরের পাশেই আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের বড়াদম এলাকায় পাহাড়ে দুই বছর আগে উন্নয়ন বোর্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু হয়। বাগানে গিয়ে দেখা যায়, দুই বছর আগে রোপণ করা বিভিন্ন ফসলের চারা ইতোমধ্যে বড় হতে শুরু করেছে। চাষিরা বাগান পরিষ্কার ও চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চাষিরা আশা করছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর তারা মসলার ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

 বাগান মালিক রতন চাকমা ও বনলতা চাকমা বলেন, আগে পাহাড়ি জমিতে জুম চাষ করা হলেও, জুমের ফলন ভালো হচ্ছিল না। জুমের ফলন কম হওয়ার কারণে জমি পতিত পড়ে ছিল। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষ’ প্রকল্পের মাধ্যমে মসলা চাষ শুরু করেছি। 

তারা আরও জানান, মসলার পাশাপাশি সাথী ফসল থাকায় বাগন সৃজনের খরচও কম হচ্ছে। এই বছর অনেক গাছে ফল এলেও আগামী বছর থেকে মসলা বাজারজাত করা যাবে। মসলা চাষের মাধ্যমে ভালো ফলন এবং ভালো আয়ের আশা করছেন তারা। 

আরেক চাষি আশিষ চাকমা বলেন, মসলা চাষের সঙ্গে সাথী ফল হিসেবে পেঁপে চাষ করেছি। এই বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছি। যার ফলে মসলা বাগানে পরিচর্যাসহ কিছু টাকা নিজেদের কাজেও লাগাতে পেরেছি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম মসলা চাষ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে পাহাড়ের চাষিদের লাভবান কৃষিফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের টিকে থাকার জন্য সাথী ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর কৃষকরা ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।

 পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডর চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় যেকোনও ফলনের পর তা পরিবহনের সমস্যায় পড়তে হয়। এতে কৃষক তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মসলার ভালো দাম থাকায় এবং এর ওজন কম হওয়ায় কৃষকের পরিবহনসহ অন্যান্য দিক থেকে লাভবান হবেন। 

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মসলা প্রকল্পের শুরু। এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তিন পার্বত্য জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ৩৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬০০ চাষিকে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।



/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম