আদালতে ওসি প্রদীপ, দুদকের মামলায় সাক্ষী দিলেন আরও ২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৩ এপ্রিল ২০২২, ১৬:২৬আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ১৬:২৬

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় আসামি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও দুইজন। এ সময় বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুনসী আব্দুল মজিদের আদালতে সাক্ষ্য দেন দুই সাক্ষী। আগামী ১৯ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুসা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান, প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় বুধবার আদালতে দুই সাব-রেজিস্টার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন- কক্সবাজার জেলা সাব-রেজিস্টার শাহ মো. আশরাফ উদ্দিন ও চট্টগ্রাম সদর সার্কেলের তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। 

এই মামলায় গত ৪ এপ্রিল প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। ওইদিন ইনকাম ট্যাক্সের তিন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এর পর ৭ এপ্রিল সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও সাত জন। আজ আরও দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এর আগে, এই মামলায় উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন মেজর সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ, কিন্তু আদালত তা দেননি। এ কারণে তার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হলেও জেরা শুরু হয় ৪ এপ্রিল থেকে। তবে তার স্ত্রী চুমকি কারণের সাক্ষ্যগ্রহণ আগে থেকে চালু আছে। চুমকি শুরু থেকেই পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলায় তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
২০২১ সালের ২৬ জুলাই প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রীর নামে চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি কার, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। চুমকির চার কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল। যার মধ্যে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকার। বাকি দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে দুদক।

২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় চার্জ গঠনের মাধ্যমে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুনসী আব্দুল মজিদ।

/এফআর/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
সর্বশেষ খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী