X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৯ আশ্বিন ১৪২৯

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গৃহশিক্ষক রিমান্ডে

নোয়াখালী প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৫৫আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৫৫

নোয়াখালীতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সেইসঙ্গে অপর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই স্পেসল্যাব চৌধুরী প্রমোজ নোয়াখালীর আদালতে আবদুর রহিমের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ এমদাদ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাবেক গৃহশিক্ষকসহ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম নোয়াখালী পৌর এলাকার লক্ষ্মী নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। অপর তিন জন হলো—মো. সাঈদ (২০), এক কিশোর (১৪) এবং ইমাম উদ্দিন (৩২)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে ওই ছাত্রী। ২০১২ সালে তার বাবা মারা গেছেন। দুই বোনের মধ্যে সে ছিল ছোট। বড় বোন শরীরিক প্রতিবন্ধী।

পুলিশ জানায়, গৃহশিক্ষক আবদুর রহিমের গলায়, ঘাড়ে ও মাথায় নখের আঁচড় পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আবদুর রহিমই ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‌‘স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের পর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীকে উত্ত্যক্তকারী মো. সাঈদ, এক কিশোর এবং সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়। রহিমের গলায়, ঘাড়ে ও মাথায় নখের আঁচড় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, রহিমই ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে।’

আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ৩

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘রহিম একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে। কিছুদিন আগে ওই স্কুলছাত্রী রহিমের কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিয়ে অন্য স্থানে প্রাইভেট পড়া শুরু করে। এতে রহিম ক্ষিপ্ত হয়। তবে স্কুলছাত্রীর বাসায় আসা-যাওয়া করতো। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ওই ছাত্রীর বাসায় গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে গলা ও হাতের রগ কেটে ছাত্রীকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ওই ছাত্রী একা ছিল। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ঘরের আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়। তবে ঘরের কোনও জিনিস কিংবা স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যায়নি। তার মা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যায় বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তখন ওই ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, একই এলাকার সাঈদ ও এক কিশোর তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রহিমকে আটক করা হয়। তার গলা ও ঘাড়ে সদ্য লাগা আঁচড়ের দাগ দেখা গেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রহিমের গলায়, ঘাড়ে ও মাথায় আঁচড়ের দাগ দেখে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের কাছে নিলে চিকিৎসক আঁচড়টি সদ্য এবং নখের বলে জানান। আঁচড় কীভাবে লেগেছে জিজ্ঞাসা করলে দুই শ্যালিকা আঁচড় দিয়েছেন বলে দাবি করে রহিম। কিন্তু যাছাই করে ওই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর আঁচড়ের দাগের বিষয়ে কোনও জবাব দেয়নি রহিম। এতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রহিমই জড়িত।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘শুক্রবার এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পারিবারিক বা অন্য কোনও বিষয় সংশ্লিষ্ট আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রহিম ও কিশোরকে হত্যা মামলা এবং সাঈদ ও ইমামকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

আরও পড়ুন: অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ১

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্কুলছাত্রীর মা কর্মস্থল বেগমগঞ্জে যাওয়ার জন্য বের হন। এ সময় স্কুলছাত্রী বাসায় ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসায় ফিরে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো দেখতে পান মা। নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে দরজার তালা খুলে ঘরে ঢুকে দেখেন, ঘরের উত্তর পাশে মেয়ের শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো এবং ভেতরে টিভি ও ফ্যান চলছে। তখন ঘরের বাথরুম থেকে পানি পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মেয়েকে অনেক ডাকাডাকি করে কোনও সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের পেছন দিকে যান। এরপর কক্ষের জানালার গ্লাস ভেঙে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন মা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। জেলা পুলিশ ছাড়াও পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। হত্যার আগে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

 

/এএম/
সম্পর্কিত
বাসায় ঢুকে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বাসায় ঢুকে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক
আদালতে জবানবন্দিধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক
ডিজে দম্পতি ‘হত্যাকাণ্ডের’ ৪ বছর পর আসামিদের স্বীকারোক্তি
ডিজে দম্পতি ‘হত্যাকাণ্ডের’ ৪ বছর পর আসামিদের স্বীকারোক্তি
খুলনায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১
খুলনায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
পরীক্ষায় বসে ফেসবুকে লাইভ, দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
দুই গ্রুপের কোন্দলে মধ্যরাতে উত্তপ্ত ইডেন কলেজ
দুই গ্রুপের কোন্দলে মধ্যরাতে উত্তপ্ত ইডেন কলেজ
রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ১০০ নাগরিকের বিবৃতি
রামনাথ বিশ্বাসের বসতভিটা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ১০০ নাগরিকের বিবৃতি
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এ বিভাগের সর্বশেষ
বাসায় ঢুকে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
বাসায় ঢুকে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক
আদালতে জবানবন্দিধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে গৃহশিক্ষক
খুলনায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১
খুলনায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১
তালাবদ্ধ ঘরে অতিথির মরদেহ: দম্পতি গ্রেফতার
তালাবদ্ধ ঘরে অতিথির মরদেহ: দম্পতি গ্রেফতার
দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯: জোয়ানা পরিবহনের চালক গ্রেফতার
দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯: জোয়ানা পরিবহনের চালক গ্রেফতার