অল্প বৃষ্টিতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পনগরীতে হাঁটুপানি জমেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্পনগরী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে এসব এলাকায় হাঁটুপানি জমে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর অংশে চারলেনের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। মাটি খুঁড়ে রাস্তার পাশে ফেলায় খাল ভরাট হয়ে গেছে। এতে নন্দনপুর শিল্পনগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে ১০টি শিল্প-কলকারখানায় পানি ঢুকে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারখানার মালিক-শ্রমিকরা।
তবে চারলেনের সম্প্রসারণ কাজের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে ফেলা মাটিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে। একইসঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ শুরু করবেন তারা।
সরেজমিনে নন্দনপুর শিল্পনগরী এলাকায় দেখা গেছে, হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে সদর উপজেলার বিসিক শিল্পনগরী ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি শিল্প-কলকারখানা।
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নন্দনপুর শিল্পনগরীতে ছোট ও মাঝারি ৬০টি শিল্প-কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টিতে পানি ঢুকে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশের নন্দনপুর শিল্পনগরীর অংশের সড়কটিও সম্প্রসারণ করা হয়। এতে শিল্পনগরীর খালটি বালুতে ভরাট হয়ে যায়। এ অবস্থায় একটু বৃষ্টি হলেই শিল্পনগরীতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।’
তিনি বলেন, ‘পানি থাকলে শ্রমিকরা কারখানায় আসতে চান না। শ্রমিক না আসলে কারখানায় উৎপাদন কাজ করা সম্ভব হয় না। এতে আমাদের বিরাট ক্ষতি হয়। তাই আমরা চাই, যারা এই রাস্তার কাজ করছেন, তারা যেন আমাদের এই এলাকার পানি যাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পনগরীর একটি কারখানার শ্রমিক কামাল মিয়া বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় পানি জমে যায়। পানি দিয়ে আমরা হেঁটে গেলে হাত-পায়ে ঘা হয়। পরে কোনও কাজ করতে পারি না। গত বছরও সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, ড্রেনের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখানও করেননি।’
ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আশুগঞ্জ-আখাউড়া ফোরলেনের কাজ চলায় আমাদের যে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে, সেটি পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে শিল্প-কারখানা এবং আমাদের অফিস ভবন। চারলেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. রোকন উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের অফিসের সামনে এখনও পানি জমে আছে। বিষয়টি নিয়ে ফোরলেনের প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ সামনে বর্ষাকাল, তখন যদি বৃষ্টি হয় তাহলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।’
তবে চারলেন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গত বছর বর্ষায় আমরা পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। এবারও ব্যবস্থা করে দেবো। বৃষ্টিতে পানি জমলে সঙ্গে সঙ্গে নামার ব্যবস্থা করে দেবো। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবো।’







