আমের কেজি ৫০০ টাকা

জসিম উদ্দিন মজুমদার, খাগড়াছড়ি
২৩ জুন ২০২৩, ০৮:০১ আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ১৭:৪৯

মিয়াজাকি একটি জাপানি আম। এটি বাংলাদেশে পরিচিতি পেয়েছে ‘সূর্য ডিম’ নামে। এই জাতের আম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ফাতেমা নগরের চাষি মো. আবদুল হালিম। তার সফলতা দেখে আশপাশের অনেকে নিজের বাগানে এই জাতের আমের চারা লাগিয়েছেন।

যেভাবে চাষ শুরু

এই জাতের আম চাষ শুরুর বিষয়ে আবদুল হালিম বলেন, ‌‘প্রথমে লোকমুখে সূর্য ডিম আমের কথা শুনি। পরে ইউটিউবে খুঁজে আমটির চাষ ও যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জানি। এও জানি, এটি সবচেয়ে দামি আম। জাপানের মিয়াজাকিতে উৎপন্ন হয় বলে এটিকে মিয়াজাকি আম বলে ডাকা হয়। এটি দেখতে ডিমের মতো, লাল রঙের এবং খুবই সুন্দর।’ 

পানছড়ি উপজেলার ফাতেমা নগরে সূর্য ডিম আম চাষ হয়েছে

এই আম খেতে সুস্বাদু এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক উল্লেখ করে এই চাষি বলেন, ‘এটি ক্যারোটিনসমৃদ্ধ। ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকায় ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। আমের গড় ওজন ২৫০-৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। আমার বাগানের গাছগুলোর বয়স দুই বছর। প্রতি গাছে গড়ে ২০-৩০টি আম ধরে। গাছের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমের সংখ্যা আরও বাড়বে।’

কেজি ৫০০ টাকা

প্রতি কেজি আম বাগান থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি উল্লেখ করে আবদুল হালিম বলেন, ‘এই আমের কেজি কেউ কেউ বাজারে ১৫শ’ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।’

সূর্য ডিমের পাশাপাশি বিশ্বের আরও নামীদামি ২৫টি জাতের আমের চারা লাগিয়েছি জানিয়ে হালিম আরও বলেন, ‘বছরজুড়ে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।’

জাপানের মিয়াজাকিতে উৎপন্ন হয় বলে এটিকে মিয়াজাকি আম বলে ডাকা হয়

চাষ করছেন অর্ধশতাধিক চাষি

ফাতেমা নগরের আম চাষি চাঁন মিয়া বলেন, ‘হালিমের সফলতা দেখে আমার বাগানে ৫০টি সূর্য ডিম আমের চারা লাগিয়েছি। পানছড়ি এলাকার অন্তত ৫০-৬০ জন কৃষক এই জাতের চারা লাগিয়েছেন। তবে এখনও এসব গাছে ফলন ধরেনি। আগামী বছর ফলন ধরবে বলে আশা করছি।’

কৃষি বিভাগের আশা

২০১৬ সাল থেকে খাগড়াছড়িতে সূর্য ডিম আম চাষ হচ্ছে বলে জানালেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ সূর্য ডিম চাষের উপযোগী। এই জাতের আম চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি আমরা। হালিমসহ অর্ধশতাধিক চাষি এই জাতের আম চাষ করছেন। তাদের হাত ধরে হয়তো একদিন খাগড়াছড়িতে একটি মিয়াজাকি এলাকা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’ 

/এএম/
সম্পর্কিত
উপকূলে লবণাক্ততায় কমছে ধানের ফলন, সংকটে চিংড়ি চাষও
১ হাজার ৫০ টাকার সার ১৬০০ টাকায় মিলছে না, অনিশ্চয়তায় পেঁয়াজ চাষ
দোকানে দোকানে সার, কৃষক বলছে ‘পাচ্ছি না’
সর্বশেষ খবর
সেতু ভব‌নে কক‌টেল বি‌স্ফোরণ
সেতু ভব‌নে কক‌টেল বি‌স্ফোরণ
মূল্যস্ফীতির চাপে কেনাকাটায় কাটছাঁট, চাপে খুচরা ব্যবসা
মূল্যস্ফীতির চাপে কেনাকাটায় কাটছাঁট, চাপে খুচরা ব্যবসা
শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় পুলিশের ১২ মামলায় গ্রেফতার ৭০, তৌফিকের মৃত্যুতে হয়নি মামলা
শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনায় পুলিশের ১২ মামলায় গ্রেফতার ৭০, তৌফিকের মৃত্যুতে হয়নি মামলা
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশি সম্পর্কে যা জানা গেলো
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশি সম্পর্কে যা জানা গেলো
সর্বাধিক পঠিত
তারেক রহমানের জায়গায় শেখ হাসিনার নাম, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদের ভুলে অস্বস্তিতে জাপানি মন্ত্রী 
তারেক রহমানের জায়গায় শেখ হাসিনার নাম, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদের ভুলে অস্বস্তিতে জাপানি মন্ত্রী 
লাঠি খেলে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী
লাঠি খেলে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী
চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত
চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত
আ.লীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৬ সদস্য আহত
আ.লীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৬ সদস্য আহত
সুন্দরবনের জলদস্যু জোনাব বাহিনীর প্রধানকে যেভাবে গ্রেফতার করলো এসআরবি
সুন্দরবনের জলদস্যু জোনাব বাহিনীর প্রধানকে যেভাবে গ্রেফতার করলো এসআরবি