X
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪
৬ আষাঢ় ১৪৩১

বাবুলের নির্দেশে মিতুকে হত্যা, আদালতকে নিখোঁজ মুছার স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৮ জুলাই ২০২৩, ০১:০০আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৩, ০১:০৪

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের নির্দেশেই তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন কামরুল শিকদার ওরফে মুছা।

সোমবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে সাক্ষ্য দেন মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন বাবুল আক্তারও। এদিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে মুছার সন্ধান চান স্ত্রী।

আদালতকে পান্না বলেন, ‘মুছার কাছ থেকেই জানতে পেরেছি, মিতু হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তিনি। তবে নিজের ইচ্ছায় নয়, মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের নির্দেশে এই কাজ করেছেন মুছা।’

পান্না আরও বলেন, ‘মিতুকে হত্যার আগের দিন ২০১৬ সালের ৪ জুন সন্ধ্যায় আমার বাসায় কিছু লোক আসেন। তারা কারা, তা জানি না। আগে কখনও দেখিনি তাদের। পরদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টায় নাশতা হিসেবে পরোটা ও হালুয়া নিয়ে আসে মুছা। দুই সন্তানকে নিয়ে টেবিলে বসে নাশতা করার সময় টিভিতে মিতু হত্যার সংবাদ দেখতে পাই। তখন মুছাকে জিজ্ঞেস করি, মিতু বাবুল আক্তারের স্ত্রী কিনা? তুমি দেখতে যাবো কিনা। উত্তরে মুছা তাকে বলেন, আমি এখন যাবো না। স্যার (বাবুল আক্তার) আসলে যাবো। সেদিন আমার স্বামী নিজ ইচ্ছায় মিতুকে খুন করতে চাননি। বাবুল আক্তারের নির্দেশে এ কাজ করেছেন।’

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান, বাবুল আক্তার আসার পর মিতুকে দেখতে মুছা গিয়েছিলেন কিনা। জবাবে পান্না বলেন, ‘যে হারায়, সে বুঝতে পারে হারানোর বেদনাটা কী। আমি কিছু মিথ্যা বলছি না। আমার বক্তব্য আগে শেষ হোক। এটা কেন জিজ্ঞেস করলেন পরে গিয়েছিলেন কিনা, কিছু জানি না। উনি বাইরেই ছিলেন। দুই দিন পর আমার বাবা অসুস্থ হওয়ায় আমি রাঙ্গুনিয়া বাপের বাড়িতে যাই। সেখানে থাকার দুই-এক দিন পর আমার স্বামী মুছা আমার বাবার বাড়িতে যান। তার ৭-৮ দিন পর মুছার মোবাইলে একটা টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে কল আসে। কলটা আমি রিসিভ করি। আমাকে ওপাশ থেকে বলা হয়, মুছা কোথায়, মুছাকে সাবধানে থাকতে বলবা। ১৯ বা ২০ জুন মুছা ফোনে বলছিলেন, স্যার আমি তো এটা করতে চাইনি। আমার ফ্যামিলির কোনও সমস্যা হলে, আমি পুলিশের কাছে মুখ খুলতে বাধ্য হবো।’

তখন পান্না জানতে চান, ‘এটা কে?’ মুছা বলেন, ‘বাবুল আক্তার স্যার।’ এরপর পান্না তার স্বামীকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি মিতু হত্যার সাথে জড়িত আছেন?’ জবাবে মুছা বলেন, ‘পান্না, আমি এটা করতে চাই নাই, আমাকে বাধ্য করা হয়েছে।’

পান্না আদালতে জানান, তিনি বাবুল আক্তারকে কখনও সরাসরি দেখেননি, টিভিতে দেখেছেন। পরে কাঠগড়ায় থাকা বাবুলকে শনাক্ত করেন তিনি।

সাক্ষ্য শেষে পান্না আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘মিতু একজন নারী। আমিও একজন নারী। আমার স্বামী ছাড়া কিচ্ছু নেই। তিনিও আজ বহুদিন....। আমার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। দুটা বাচ্চা, কীভাবে চলছি আমি জানি। একজন নারী হিসেবে মিতু হত্যার বিচার চাই। পাশাপাশি স্বামীকে আমি আইনের কাছে হাজির দেখতে চাই। আপনি আদেশ দেন, যে অবস্থায় যেখানে থাকুক, আমার স্বামীকে হাজির করুক।’

বাবুল আক্তারের আইনজীবী কপিল উদ্দিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ আদালতে নিখোঁজ মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সরোয়ার নামে অপর এক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার তার জেরা হবে। সরোয়ার কক্সবাজারে যে বাসায় এনজিও কর্মকর্তা গায়েত্রী ছিল, সে বাসার পাহারাদার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা মঙ্গলবার তার সাক্ষ্যের বিষয়ে জেরা করবো।’

কপিল উদ্দিন বলেন, ‘পান্না আদালতে নিজের স্বামীর খোঁজ চেয়েছেন। বলেছেন ২০১৬ সালের ২২ জুন নগরীর বন্দর থানাধীন কাঠগড় এলাকার বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে মুছা এবং তার ভাই সাকুকে গ্রেফতার করা হয়। তখন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা হবে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত মুছারর খোঁজ মেলেনি। তবে পরবর্তী সময়ে সাকুকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মুছাকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন বন্দর থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম এবং তৎকালীন বিমানবন্দরে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক নেজাম উদ্দিন।’

এর আগে গত ৯ এপ্রিল মিতুর পিতা ও মামলার বাদী মোশাররফ হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আদালতে বিচার শুরু হয়। গত ১৩ মার্চ মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহিরকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ের কাছে হত্যার শিকার হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মিতু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এরপর পাল্টে যায় মিতু হত্যা মামলার গতিপথ। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে বাবুল আক্তারই মিতু হত্যার মূল আসামি।

/এএম/আরআইজে/
সম্পর্কিত
যাত্রাবাড়ীতে বাসায় পড়ে ছিল স্বামী-স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ
বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজরোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আধিপত্যের লড়াই’, ৬ মাসে ২৬ খুন
পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন নিহত
সর্বশেষ খবর
তুফান: সন্ত্রাসকে গ্ল্যামারাইজ করতে চাওয়া এক ছবি
সিনেমা সমালোচনাতুফান: সন্ত্রাসকে গ্ল্যামারাইজ করতে চাওয়া এক ছবি
মিয়ানমার থেকে গুলি আসলে আমরাও পাল্টা গুলি চালাবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমার থেকে গুলি আসলে আমরাও পাল্টা গুলি চালাবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বন্যার পানিতে খেলতে গিয়ে দুই জনের মৃত্যু
বন্যার পানিতে খেলতে গিয়ে দুই জনের মৃত্যু
পুতিনকে স্বাগত জানালো ভিয়েতনাম, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার
পুতিনকে স্বাগত জানালো ভিয়েতনাম, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার
সর্বাধিক পঠিত
জাম খাওয়ার ৯ উপকারিতা
জাম খাওয়ার ৯ উপকারিতা
এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে টানাপড়েন
এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে টানাপড়েন
‘লেবানন আক্রমণের পরিকল্পনা’য় অনুমোদন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর
‘লেবানন আক্রমণের পরিকল্পনা’য় অনুমোদন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর
মার্কিন নিন্দার পরও পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভিয়েতনাম
মার্কিন নিন্দার পরও পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভিয়েতনাম
শেখ হাসিনার ‘নজিরবিহীন’ ভারত সফরে সঙ্গী হচ্ছেন যারা
শেখ হাসিনার ‘নজিরবিহীন’ ভারত সফরে সঙ্গী হচ্ছেন যারা