নোয়াখালীতে নারীকে হয়রানির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
২১ অক্টোবর ২০২৩, ২০:৩১আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৩, ২০:৩১

হয়রানি, হুমকি ও জোরপূর্বক টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরমজিদ গ্রামের বাসিন্দা ছায়েরা খাতুন (৫৬)। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় প্রভাবশালী কামরুল ইসলাম চরজব্বার থানার এসআই আনছার উল্যাহকে দিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সহিদ উদ্দিন এস্কান্দার কচি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে ছায়েরা খাতুন বলেন, ‘একসময় হাতিয়ার বয়ারচর এলাকায় স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতাম। স্বামী আবদুল মোতাবেলকে আমাদের বাড়ির জায়গা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে চাপ দেন কামরুল। এতে রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে স্বামী ও আমাকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে তুলে নিয়ে বাড়িতে আটকে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন কামরুল। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে আমাদের ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার কয়েক মাস পর স্বামী মারা যাওয়ায় কামরুলের অত্যাচারে নিরুপায় হয়ে আমি সন্তানদের নিয়ে স্বামীর ভিটাবাড়ি ছেড়ে সুবর্ণচরের পূর্ব চরবাটায় চলে আসি। কিন্তু তাতেও থামেননি কামরুল। তিনি আমার কাছে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা পাবে বলে ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করেন। চলতি বছরের ২ অক্টোবর বিকালে চরজব্বর থানার এসআই আনছার উল্যাহকে দিয়ে আমাকে থানায় ডেকে ওই টাকা দাবি করেন। কিন্তু ওই স্ট্যাম্পের স্বাক্ষর আমার নয়। কামরুল আমার কাছে কোনও টাকা পায় না বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে জানানোর পরও পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ৬০ হাজারসহ তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা ৯ অক্টোবরের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আমার থেকে বিভিন্ন কাগজে আরও পাঁচটি স্বাক্ষর নেন। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন কামরুল এবং ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল ইসলাম প্রকাশ বলেন, ‘আমিসহ কয়েকজন পাওনাদার ছায়েরা খাতুন ও তার ছোট ছেলে আরিফকে চট্টগ্রাম থেকে ধরে এনে তৎকালীন চেয়ারমানের কাছে সোপর্দ করেও কোনও সমাধান পাইনি। পরে থানায় অভিযোগ দিই। আমি তার কাছে যে টাকা পাবো, তার কাগজপত্র আছে।’

চরজব্বার থানার এসআই আনছার উল্যাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কামরুল ইসলাম ওই নারীর ভাগনির জামাই। ছায়েরা খাতুনের কাছে টাকা পাবে মর্মে কামরুল থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমি তাদের দুই জনকে থানায় ডাকলে তারা বিষয়টি নিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে চলে যান। তবে ছায়েরা খাতুনকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ বা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা।’

/এএম/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
এআইকে ফাঁকি দিতে নয়, ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান
একটি গোষ্ঠী সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী