ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা, এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৭আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০৭

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও থানায় হেনস্তার অভিযোগে চট্টগ্রামের খুলশী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে ক্রিকেটার নাঈমকে আটক করে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। প্রত্যাহার করা তিন পুলিশ হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবল।

ক্রিকেটার নাঈম হাসান রাতে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তার। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামার সংকেত দেন।

নাঈম হাসান বলেন, গাড়ি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই, পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু আমাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে আমাকে পেটান।

মারধরের সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায় জানিয়ে জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল—তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। মারধরের একপর্যায়ে তাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয়। ওসির কক্ষেও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে। ওসিকে তিনি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলেন তখন ওসি বারবার বলেন, চোখ নামিয়ে কথা বল। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।’

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’

খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখপ্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে।’

/এফআর/
সম্পর্কিত
মিরাজের জায়গায় অধিনায়ক লিটন  
এবার বাহুবলে এনসিপির নেতাদের আটকে দিলো পুলিশ, রাস্তায় বসে পড়লেন তারা
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যে নির্দেশনা দিলো পুলিশ সদর দফতর
সর্বশেষ খবর
আদালত নিয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের
অনলাইনে ফি আদায়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সোনালী ব্যাংকের সমঝোতা
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার
যুবলীগ কর্মী হত্যায় যাবজ্জীবন আফরোজার, বললেন, ‘যত খুশি ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
এক ক্লিকেই করদাতার সব তথ্য, এনবিআরকে নতুন রোডম্যাপ দিলো আইএমএফ
যুক্তরাজ্যে ঘুরতে রিপ টাইডের কবলে বাংলাদেশি পরিবার: তৃতীয় সদস্যের মৃত্যু