চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে চকবাজার থানা ও ডিবি পুলিশ।
তারা হলেন- মোহাম্মদ ইউনুস, ইমরান হোসেন, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মোহাম্মদ মনির, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন ও আবদুল নাহিদ। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, মানবপাচার, ছিনতাই, চোরাচালান, ডাকাতি, চুরি, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি, মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি, মো. মনিরের বিরুদ্ধে সাতটি এবং ইউনুস, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে নগরের দামপাড়া নগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।’
তিনি জানান, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীকে গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চকবাজার থানাধীন মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা এলাকার মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, কাচের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিএমপির পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় চকবাজার থানা পুলিশ, সিএমপির একাধিক বিশেষ দল এবং র্যাব-৭ যৌথভাবে বুধবার (১৪ জুলাই) রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আট জনকে গ্রেফতার করে।
সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’
এদিকে গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোবাইলের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তারা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা নিজেদের বাঁচাতে অনেক রকম কথা বলেন। এ পর্যন্ত অস্ত্রবাজির ঘটনায় জড়িত অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
ডিজিটাল ডট নেটে হামলার ঘটনায় সোমবার রাতেই চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের আসামি করে মামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। গ্রেফতার করা না হলে ইন্টারনেট-সেবা বন্ধের এই হুঁশিয়ারি দেন তারা।







