গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর মো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যা (৩১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ভাকুড়ি গ্রামের একটি কচুড়িপানা ভর্তি পুকুর থেকে তার গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তৌহিদুল মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের আকতার আলী মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর তৌহিদুল ইসলাম নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ছেলের কোনও হদিস না পেয়ে তৌহিদুলের বাবা মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ করেন।
সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী ভাকুড়ি গ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে যান স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় তারা পানির নিচে একটি লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয় এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধার করার পর নিখোঁজ তৌহিদুলের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের পোশাক ও অন্যান্য চিহ্ন দেখে তাকে শনাক্ত করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তিন মাস আগে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় সেটি প্রায় গলে গেছে। পরিবার মরদেহ শনাক্ত করার পর আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
নিখোঁজ যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে লতিফপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।









