স্ত্রীকে জমিজমা লিখে না দেওয়ায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনকে (৬৫) ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। ঘটনার ৫৩ দিন পর বুধবার (১ জুলাই) ভোরে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভোর ৫টার দিকে জেলার সিরাজদিখান উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মের রান্নাঘরে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন- নিহতের স্ত্রীর ভগ্নিপতি মানিক বেপারী (৩০), হত্যার সহযোগী সাইফুল ইসলাম (৪২), রিপন (৩৪) ও বিন আমিন শেখ (৩৫)।
তবে হত্যার মূল-পরিকল্পনাকারী স্ত্রী রানী বেগম (৩৭) ও গরুর ফার্মের মালিক বোরহান বেপারী পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মেনহাজুল আলম।
নিহত আওলাদ হোসেন ওই উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামের প্রয়াত ফরিদ শেখের ছেলে। গ্রেফতার মানিক, রিনপ ও বিন-আমিনের বাড়ি চাইনপাড়া গ্রামে। অপরজন সাইফুলের বাড়ি রংপুরে কোতোয়ালি থানায়।
বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিহত আওলাদ হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন রানী বেগম নামের এক নারীকে। এই সংসারে কোনও সন্তান না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রানী বেগমের ভগ্নিপতি মানিক বেপারী বিভিন্ন সময় আওলাদ হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং জমিজমা রানী বেগমের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। কিন্তু আওলাদ হোসেন জমি লিখে দিতে অস্বীকার করায় এবং আরেকটি বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় মানিক ও রানী বেগম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তিনি জানান, গত ৯ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মানিক বেপারী কৌশলে আওলাদ হোসেনকে চাইনপাড়ার মানিকের বন্ধু বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই বোরহান বেপারীর কাজের লোক সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তারা আওলাদ হোসেনকে বিছানায় ফেলে সাইফুল মাথা চেপে ধরেন এবং মানিক কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় বাইরে বিন-আমিন ও রিপন পাহারা দিচ্ছিলেন। হত্যার পর লাশ গরুর ফার্মের রান্নাঘরে ১০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখেন।
এসপি জানান, এই ঘটনায় নিখোঁজের পর গত ১০ মে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে ২৩ মে নিহতের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ গত ৩১ মে মোশারফ হোসেন মানিককে গ্রেফতার করে। পরে তথ্য-প্রযুক্তি ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ৩০ জুন সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে অন্যতম প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। সাইফুলের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিপন ও বিন-আমিনকে গ্রেফতার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। পরে আসামিদের দেখানো স্থান অর্থাৎ বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মের রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে নিখোঁজ আওলাদ হোসেনের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনও মোটিভ বা ব্যক্তি রয়েছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসপি আরও বলেন, রানী বেগমের সাথে ভগ্নিপতি মানিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও প্রমাণ মিলেছে।









