এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ‘নিয়মবহির্ভূত কোনও কৌশল’ নিয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষককে রবিবার (১৬ আগস্ট) এ বিষয়ে ‘শোকজ নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে। স্কুলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, জিপিএ-৫ পাওয়ার হার বাড়াতে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষাতেই বসতে দেওয়া হয় না। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের বিষয়ে সার্বিক সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। রবিবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ও এ-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শিক্ষার্থীর তথ্য, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য, এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।
এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. ইমন আহমেদ বলেন, ‘শোকজের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আমাদের ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে ৩৮২ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তারা সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের সব কাজের স্বচ্ছতা রয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোর্ডকে জবাব দেবো।’
এর আগে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ৩২০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ওই বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩১৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে তিন জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।









