খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির পর হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে সরকারের আপিল খারিজ করে দেন।
রবিবার সকালে এ রায় ঘোষণার পর মেয়র মনিরুজ্জামান মনি দায়িত্ব পালনে আর কোনও বাধার মুখে পড়বেন না বলে আশা করছেন মহানগর বিএনপির নেতারা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, ‘আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার গায়ের জোরে জনগণের রায়কে পদদলিত করে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় একজন জনপ্রতিনিধিকে তার দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছিল। মেয়র মনিরুজ্জামান মনির অনুপস্থিতির কারণে নগরবাসী তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। জনদূর্ভোগ ও জনভোগান্তি বাড়ছিল। আমরা আশা করছি সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালতের রায়কে মেনে নিয়ে তাকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনও জনপ্রতিনিধিকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।’
মামলার শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. এ জে মোহাম্মদ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাড. আনিসুর রহমান খান। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা।
উল্লেখ্য, নাশকতার মামলায় ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে সাময়িক বরখাস্ত করে সরকার। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন তিনি (নম্বর-৭০৭৯/১৬)। চলতি বছরের ৬ জুন হাইকোর্ট সরকারের আদেশকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল ইস্যু করে ও সাময়িক বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ প্রদান করে। এ আদেশের বিরুদ্ধে ১০ আগস্ট চেম্বার জজ আদালতে আপিল করে সরকার। ১৩ নভেম্বর শুনানি শেষে সরকারের ওই আপিল খারিজ করে দেন আদালত।
আরও পড়ুন-
হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দখলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা চক্ষু হাসপাতাল!
/এফএস/







