পায়ের আঙুল দিয়ে লিখে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন তামান্না

যশোর প্রতিনিধি
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৮:৫৩আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:২০

পায়ের আঙুল দিয়ে লিখেই এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তামান্না আক্তার নূরা। জন্ম থেকে তার নেই দুই হাত ও এক পা। আর এক পা দিয়েই শারীরিক সব প্রতিবন্ধকতা জয় করেছেন তিনি।

মেধাবী এ শিক্ষার্থী যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন দম্পতির মেয়ে। ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেন। তিনি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন নূরা।

তার বাবা রওশন আলী ঝিকরগাছা উপজেলার ছোট পৌদাউলিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার (নন-এমপিও) শিক্ষক। মা খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে তামান্না সবার বড়। ছোট বোন মুমতাহিনা রশ্মি ষষ্ঠ শ্রেণি ও ভাই মুহিবুল্লাহ তাজ প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

এসএসসি ও এইচএসসিতে দারুণ ফল করা তামান্না একজন ভালো মানুষ হতে চান। অধ্যয়ন করতে চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস দিয়ে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হতে চান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্নার জন্ম। দুই হাত ও এক পা ছাড়াই মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে আসেন তামান্না। জন্মের পর মা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু মেয়েকে আগলে রেখেছেন নিজের বুকে। বোঝা হতে দেননি কারও। ছোটবেলায় মেয়ের পায়ে কাঠি দিয়ে লেখানোর চেষ্টা করতেন মা খাদিজা। এরপর বাঁকড়া আজমাইন এডাস স্কুলে ভর্তি করানো হয়। মাত্র দুই মাসেই পা দিয়ে লিখতে শুরু করেন; শেখেন ছবি আঁকাও। ২০১৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। একইসঙ্গে পান বৃত্তিও। এরপর ভর্তি হন বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পান।

বাবা রওশন আলী বলেন, ‘মেয়েটির ইচ্ছা পূরণে যশোর শহরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং করাচ্ছি। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়।’ 

তিনি বলেন, ‘মেয়ের জন্মের পর থেকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমরা হাল ছাড়িনি। সবসময় মেয়েটার দিকে খেয়াল রাখতে হয়। শরীরে একটা মশা পড়লেও ও তাড়াতে পারে না। তার শ্রবণ ও মেধাশক্তি খুব ভালো। পরীক্ষায় তার ফলাফলে আমরা খুবই খুশি। সরকারি সহায়তা পেলে মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব।’

বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামছুর রহমান বলেন, ‘তামান্না অত্যন্ত মেধাবী। পা দিয়েই লেখে। তার লেখা স্পষ্ট, দৃষ্টিনন্দন। সে ছবিও আঁকে ভালো। তার জন্য একটি ছোট চৌকি তৈরি করা হয়েছিল। সেই চৌকিতে বসে সামনে খাতা রেখে সে বাম পায়ের দুই আঙুলে রাখা কলম দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিয়েছে। সব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সে ভালো ফল করেছে। একটু সহায়তা পেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তামান্নার ভর্তির ইচ্ছে পূরণ হতে পারে।’

/এফআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ও ইন্টারনেট সংযোগের নির্দেশ
কেন এগিয়ে আসছে এসএসসি পরীক্ষা
জানা গেলো ২০২৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ
সর্বশেষ খবর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি