X
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২১ মাঘ ১৪২৯

লোনা পানিতে কাজ: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের নারীরা

আসাদুজ্জামান সরদার, সাতক্ষীরা
২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:০০আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৩:৫২

সুন্দরবনের কোলঘেঁষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের জেলেপাড়া। সাগরপাড়ের এই এলাকার মাটি নোনা জলের। জেলেপাড়ার দীপালি রাণীর স্বামীকে বাঘে খেয়েছে ২৩ বছর আগে। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের আয়ে সংসার চলে না। আগে ক্ষেতে-খামারে কাজ করতেন। কিন্তু ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর এলাকায় কাজের ক্ষেত্র কমে যায়। বাধ্য হয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ নদীতে রেণু পোনা ও কাঁকড়া আহরণ করেন। সকাল-বিকাল দুই জোয়ারে সাত থেকে আট ঘণ্টা নদীতে নেমে রেণু সংগ্রহের জন্য জাল টানেন। নদী থেকে আহরিত রেণু প্রতি পিস ৫০ পয়সা বিক্রি করে কোনও রকম সংসার চলে তার। দীর্ঘ সময় নদীতে কাজ করার ফলে শরীরে ঘা-পাচড়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন দীপালি।

সাতক্ষীরা উপকূল ঘুরে দেখা গেছে, শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালি ও রমজাননগরসহ উপকূলবর্তী ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ নারী সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোতে সাত-আট ঘণ্টা রেণু পোনা ও কাঁকড়া আহরণ করেন। উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ নারীকে সংগ্রাম করে সংসার চালাতে হয়। ফলে তাদের জরায়ুসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার মাটি ও পানিতে বেড়েছে লবণাক্ততা। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার মানুষ। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে মাছধরা ও বনজীবী নারীরা জরায়ু সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, লবণাক্ত পানির জন্য নারীদের অকাল গর্ভপাত ঘটছে। জাতীয়ভাবে দেশে জন্মের হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হলেও শ্যামনগর উপজেলায় জন্মের হার শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। 

সাতক্ষীরা এবং উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে জরায়ু অপারেশন বেড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর পাঁচ লাখ ৭০ হাজার নারী জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার নারী এই ক্যানসারে মারা যান।

লোনা পানিতে কাজ: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের নারীরা আইলার পর উপকূলীয় এলাকার অবস্থা

২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত  হয় সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকা। এরপর শুরু হয় সুপেয় পানির সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের পর ২০টির অধিক ঝড় এই উপকূলে আঘাত হানে। সুপেয় পানির অভাবে এসব এলাকায় বাড়ছে নানা রোগ। নোনা পানির কারণে ফসল হচ্ছে না। মরে যাচ্ছে গাছপালা। ফলে এলাকার মানুষ জীবিকার তাগিদে চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। কাজের অভাবে নারীদের নদীতে রেণু পোনা আহরণ করতে হচ্ছে। লবণাক্ত পানির জন্য নারীদের অকাল গর্ভপাত ঘটছে। পাশাপাশি লবণাক্ত পানিতে নারীদের পোশাক বেশি টিকছে না, দ্রুত বদলাতে হচ্ছে।

গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার আলেয়া বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘লবণাক্ত পানিতে অধিক সময় কাজ করলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অনেক নারীর জরায়ুসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জরায়ু কেটে ফেলতে হচ্ছে অনেকের। আতঙ্কে আছি কিন্তু করার কিছু নেই। কাজ না করলে খাবো কী? এলাকায় কাজের অভাব। সবকিছু জেনেও লবণাক্ত পানিতে নেমে রেণু পোনা ধরতে হচ্ছে।’

তার সঙ্গে কাজ করেন এমন বেশ কয়েকজন নারীর জরায়ু কেটে ফেলতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আলেয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার এক প্রতিবেশী ২৪ বছর বয়সে জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। জরায়ু কাটার ফলের অনেকের স্বামী তাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে জরায়ু কেটে ফেলার পরও সুস্থ হতে পারছে না। দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া এসব কারণে এই অঞ্চলে ডিভোর্সের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নারীদের স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্য উপকূলীয় এলাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার দাবি জানাই।’

গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার ধাত্রী আসমা উল হুসনা বলেন, ‘শিশু ডেলিভারি করতে গিয়ে দেখছি শতকরা ৯৯ শতাংশ নারী জরায়ু সমস্যায় ভুগছেন। সাদা স্রাব ভাঙতে ভাঙতে ক্ষত বা ঘা হয়ে যায়। বিয়ের আগে থেকেই সমস্যা হয়। প্রথম শিশুর ডেলিভারি করাতে গিয়েও দেখেছি ওই নারীর জরায়ুতে সমস্যা। লবণাক্ত পানির কারণে মাসিক আগেই হয় এই এলাকার মেয়েদের। এসব কারণে সাংসারিক অশান্তি দেখা দেয়। স্বামীর মন রক্ষা করতে পারছে না, সংসারে কাজ করতে পারছে না। সন্তান লালন-পালন করতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর মাত্রাতিরিক্ত এসব লোনা পানির দৈনন্দিন ব্যবহারের ফলে জরায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেজন্য অল্প বয়সে জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এই এলাকার অধিকাংশ নারী এসব নিয়ে সংকোচবোধ করেন। স্বামীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চান না। দিন দিন পানিতে লবণ বেড়েই চলছে। শীতের সময় পানি মুখে দিলে মুখ জ্বালাপোড়া করে। গোসলের পানিরও সমস্যা।’

সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, ‘নদীর লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় কাজ এবং ব্যবহারের ফলে নারীদের গর্ভপাতের মতো ঘটনা ঘটছে। স্বামী ছেড়ে গেলে এই অঞ্চলের অনেক নারী বাধ্য হয়ে রেণু পোনা আহরণ করেন। ২০০৯ সালের পর এই এলাকায় জনসংখ্যা খুব বেশি বাড়েনি। কাজের সন্ধানে পুরুষরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ফলে বেড়েছে নারীর সংখ্যা।’

গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হেলেনা বিলকিস বলেন, ‘এখানে ১০ বছর ধরে কর্মরত আছি। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। অধিকাংশ নারী জরায়ুসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এই ইউনিয়নের চারদিকে নদী হওয়ায় নদীপথে যেতে হয়। সে কারণে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার নারীরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকায় যে পরিমাণ চাহিদা তার তুলনায় খুবই কম ওষুধ সরবরাহ করা হয়’। ওষুধের সরবরাহ বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘বেশিরভাগ নারী চুলকানি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, গায়ে ব্যথা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। লবণ পানির কারণে যে নারীদের গর্ভপাত হচ্ছে, এটি গবেষণা ছাড়া বলা সম্ভব না। তবে সম্প্রতি এই এলাকার নারীদের গর্ভপাত বেশি হচ্ছে। লবণ পানিতে কাজ করায় গর্ভপাত হচ্ছে কিনা তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরায়ু মুখে ক্যানসার হচ্ছে কিনা, এর পরীক্ষার ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালে আছে। কিন্তু বায়োপসি পরীক্ষার ব্যবস্থা আমাদের সব জায়গায় নেই। লবণাক্ততার কারণে জরায়ু ক্যানসার বাড়ছে কিনা, এ বিষয়ে আমাদের আরও বেশি গবেষণা দরকার।’

গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ‘লবণাক্ত পানিতে কাজ করার ফলে নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনা অনেক শোনা যাচ্ছে। এসব কারণে স্বামী ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। এছাড়া এই এলাকায় দ্রুত বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি। তালাকের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। এলাকায় কাজ নেই। ফলে কাজের সন্ধানে পুরুষরা এলাকা ছাড়ছেন। অভাবের কারণে লবণ পানিতে কাজ করায় অনেক নারীর অকালে গর্ভপাত হচ্ছে।’

লোনা পানিতে কাজ: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের নারীরা

পরিবেশ গবেষক পাভেল পার্থ বলেন বলেন, ‘আমরা গবেষণা চালিয়ে দেখেছি দীর্ঘ সময় লবণ পানিতে কাজ করায় নারীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি তাদের শাড়ি বা কাপড় বেশি নষ্ট হয়।’

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী এলাকার ধাত্রী শেফালী বেগম বলেন, ‘নদীতে যেসব নারী জাল টানে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলার্জি এবং ঘা-পাঁচড়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াসহ টিউমার হচ্ছে। অকাল গর্ভপাতের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক নারী। আমাদের অঞ্চলে জরায়ু কেটে ফেলার ঘটনা ঘটছে অহরহ। অধিকাংশ নারীর গর্ভকালীন, প্রসবকালীন এবং সন্তান জন্মের পর জটিলতা দেখা দেয়। অধিক সময় লবণ পানিতে কাজ করার ফলে নবজাতক ও মায়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’

স্বেচ্ছাসেবী নারী উন্নয়ন সংগঠন পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, ‘এই অঞ্চলে প্রতিদিনের ব্যবহারের ৮০ ভাগ পানিই লবণাক্ত। এর কারণে এই এলাকার নারীদের নানা রকম সংক্রামণ তৈরি হয়। দুষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে জরায়ু রোগসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে সন্তান ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন অনেক নারী। আগের তুলনায় অধিকাংশ নারী এখন সন্তান জন্ম দিতে পারছেন না। অনেক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সন্তান হচ্ছে না। এরকম সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় নদীতে লবণাক্তার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আগে কর্মজীবী নারীদের ৪০ শতাংশ মাছ ধরার কাজ করতেন। এলাকায় কর্মস্থানের অভাবে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে। এই এলাকার ৪০ শতাংশ নারী পরিবারের প্রধান। কারণ তাদের স্বামী চলে গেছেন, না হয় মারা গেছেন। সে কারণে বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরতে হয়। অনেক সময় সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে রেণু ধরার ফলে নারীদের নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।’

শম্পা গোস্বামী বলেন, ‘সমস্যা সমাধান করতে হলে টেকসই বেড়িবাঁধ প্রয়োজন। পানির সময় পানি ধরে সেগুলো দিয়ে থালা-বাসন মাজাসহ নানাবিধ ব্যবহারে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। এছাড়া যেসব নারী জীবিকার তাগিদে নদীতে মাছ ধরেন। তাদের মাসিক চলাকালীন আটকানো গেলে অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব। এছাড়া সেফটি কোনও পোশাকের মাধ্যমে নারীর স্বাস্থ্য ভালো রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে।’

জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আনিসুর রহিম বলেন, ‘বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এই অঞ্চলের নারীরা জরায়ুসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে দাবি করলেও, দুঃখের বিষয় সরকারিভাবে কোনও জরিপ করা হয়নি।’

লোনা পানিতে কাজ: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের নারীরা

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলের নারীদের শুধু স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে তা নয়, তারা আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যেটা হয়তো চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু কিছু ক্লিনিকের দালাল টাকার লোভে উপকূলীয় এলাকার নারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য করছে।’ এই কাজে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার উপকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিশোরী ও নারীরা যাতে পরিবার এবং চিকিৎসকের কাছে নিরাপদে সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেন; এরকম সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাতক্ষীরা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. বাবুল আক্তার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া অসময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। মার্চ-এপ্রিলের পর থেকে ২০-২৫ ডিএস মিটার লবণাক্ততা দেখা গেছে। এপ্রিলের আগে ১০-১২ ডিএস মিটার লবণাক্ততা পাওয়া যায়। উপকূলীয় এলাকায় ৮ ডিএস মিটারের নিচে কখন নামে না। নিয়মিত এই মাত্রার লবণাক্ততার মধ্যে মানুষ বসবাস করলে শারীরিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।’

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. সবিজুর রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ। সুপেয় পানির অভাব ও লবণাক্ত পানিতে কাজ করার ফলে উপকূলের নারীরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। অনেক নারীর জরায়ু সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে গেলে তারা সেগুলো অপারেশন করে দিচ্ছে অনেকে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি জন-গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। শ্যামনগর উপকূলে লবণাক্ততা ও নারীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের চিকিৎসকদেরও গবেষণা কাজে আরও বেশি যুক্ত হওয়া দরকার। আমাদের পক্ষ থেকে জরিপ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। জরায়ু কাটার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই বিষয়ে নজর রাখবো।’

/ইউএস/
সর্বশেষ খবর
গণজাগরণ মঞ্চের দশক পূর্তি আজ
গণজাগরণ মঞ্চের দশক পূর্তি আজ
বারবার বলেছি আর মারিস না, নেপথ্যে মোটরসাইকেলের মালিকানা
বারবার বলেছি আর মারিস না, নেপথ্যে মোটরসাইকেলের মালিকানা
মাহফুজ আহমেদের ফেরা এবং দীর্ঘ আবেগী আলাপ
মাহফুজ আহমেদের ফেরা এবং দীর্ঘ আবেগী আলাপ
সর্বকালের সেরা বলিউড ছবির পথে ‘পাঠান’
সর্বকালের সেরা বলিউড ছবির পথে ‘পাঠান’
সর্বাধিক পঠিত
দিনদুপুরে তালা ভেঙে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা লুট
দিনদুপুরে তালা ভেঙে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা লুট
ক্রাইম প্যাট্রল থেকে কৌশল শিখে ৫ কিশোরের এক রোমহর্ষক কিলিং মিশন
ক্রাইম প্যাট্রল থেকে কৌশল শিখে ৫ কিশোরের এক রোমহর্ষক কিলিং মিশন
শাকিব ও জোভান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পূজা!
শাকিব ও জোভান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পূজা!
রডের টন লাখ ছুঁই ছুঁই
রডের টন লাখ ছুঁই ছুঁই
‘পুরো ইউক্রেন পুড়বে’
‘পুরো ইউক্রেন পুড়বে’