ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জানা গেলো স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, বিএনপি নেতা পলাতক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানো হয়। পরে ওই স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি বকুল মিয়া (৫০) এখনও পলাতক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুল মিয়ার নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে একইভাবে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে তাকে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়।

এরপর ভুক্তভোগীর বাবা মঙ্গলবার রাতে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বকুল মিয়াকে। তিনি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনায় সে আতঙ্কিত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
ধর্ষণের অভিযোগে গাজীপুর মহানগর শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি গ্রেফতার
আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ
আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলা: হাইকোর্টের রায় আজ
সর্বশেষ খবর
এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়
এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদের বড় জয়
বন্যাকবলিত এলাকায় এত পর্যটক কেন?
বন্যাকবলিত এলাকায় এত পর্যটক কেন?
উজানে আটকে আছে পানি, নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা
উজানে আটকে আছে পানি, নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ চার শতাধিক
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ চার শতাধিক
সর্বাধিক পঠিত
এক কক্ষ নিয়ে দুই এমপির ঘণ্টাব্যাপী বাগবিতণ্ডা
এক কক্ষ নিয়ে দুই এমপির ঘণ্টাব্যাপী বাগবিতণ্ডা
তাদের উপজেলায় হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবু স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুৎ পাননি তারা 
তাদের উপজেলায় হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবু স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুৎ পাননি তারা 
জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত
জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত
৫৪০ কোটি টাকার ফ্লাইওভার, কাজের মেয়াদ শেষে একটিও চালু হয়নি
৫৪০ কোটি টাকার ফ্লাইওভার, কাজের মেয়াদ শেষে একটিও চালু হয়নি
জেদ্দা গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির
জেদ্দা গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির