টাঙ্গাইলে দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা, আইএসের ‘দায় স্বীকার’

Send
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪০, এপ্রিল ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৭, মে ০১, ২০১৬

টাঙ্গাইলে মহানবীকে (সা.) নিয়ে মন্তব্যের জন্য জেল খেটে আসা হিন্দু কাপড়ের ব্যবসায়ীকে হত্যায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে বার্তা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স

শনিবার দুপুরে জেলার গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল এলাকায় নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দারকে তার কাপড়ের দোকানের সামনে হত্যার পর সন্ধ্যায় সাইট ইন্টিলিজিন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে এ খবর দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’র মাধ্যমে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় হিন্দু দরজিকে কুপিয়ে  হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

দুপুরে স্থানীয় বাজারে নিজ দোকানের সামনে ডুবাইল গ্রামের নলিনীকান্ত জোয়ার্দারের ছেলে নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার (৫০) নামে ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বলে টাঙ্গাইল পুলিশ জানায়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন র‌্যাবের সিও ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহবুদ্দিন খান।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে-আগুনসুন্দরবনে আগুন : আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা

হত্যার কারণ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুমাননির্ভর কোনও তথ্য জানাতে না চাইলেও পরিবারের সন্দেহের তীর জঙ্গীগোষ্ঠীর দিকেই। নিখিলের স্ত্রী আরতি রানী জোয়ার্দার দাবি করেন, ২০১২ সালে তার স্বামী নিখিলের বিরুদ্ধে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়। পরে এর জের ধরে একই বছরের ২ এপ্রিল মধুপুর উপজেলার গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা দায়ের করেন আমিনুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। মামলার প্রেক্ষিতে বিচারে নিখিলের ১ মাস ২৪ দিনের সাজা হয়। সম্প্রতি মামলার বাদীর সঙ্গে আপোষরফা করে এর নিষ্পত্তি হয় বলে জানান আরতি।

নিখিলকে হত্যার স্থানে পাওয়া ব্যাগ

নিখিলের মেয়ে বন্যা জানায়, তার বাবার কাছে মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক প্রথমে পানি খেতে চায়। বাবা পানি আনতে মাকে ঘরে পাঠালে এলোপাতাড়ি বাবাকে কুপিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। 

সম্প্রতি ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সমকামী অধিকারকর্মীদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, নিখিলকে হত্যার পদ্ধতির সঙ্গে এর মিল রয়েছে।

পরিদর্শনে আসা অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, হত্যাকান্ডটি জঙ্গী সংগঠনের কি না আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না। আমরা কোন কিছুই হালকাভাবে দেখছি না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

লাশের সঙ্গে পাওয়া কাপড়ের ব্যাগে বোমার মতো বস্তুর পাওয়ার পর ওগুলোকে গোপালপুর থানায় বালুচাপা দিয়ে রাখা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য নিখিলের লাশ টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আরতি রানী জোয়ারদার বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পর বরাবরই আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের নামে দায় স্বীকারের বার্তা এসে থাকে। যদিও এসব বার্তা অস্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের দায় দেশীয় দুর্বৃত্তদেরই সরকারের পক্ষ থেকে দায়ী করা হচ্ছে।

/এইচকে/

লাইভ

টপ