বরিশালে অস্বাভাবিক বজ্রপাতে কেটেছে আতঙ্কের রাত

বরিশাল প্রতিনিধি
১৩ জুন ২০১৬, ০৬:৪৬আপডেট : ১৩ জুন ২০১৬, ০৮:৪৩

বজ্রপাত শনিবার দুপুরের পর মধ্য রাতে আবারো ঝড়ো হাওয়া, অঝোর ধারার বর্ষণ ও অবিরত অস্বাভাবিক বজ্রপাত বুকে কাঁপন ধরিয়েছে বরিশালবাসীর। বজ্রপাতের আগে আলোর ঝলকানি ও ভয়ংকর শব্দে সবচেয়ে ভীত হয়ে পড়েছিল শিশুরা। ভয় ও আতংকে তারা চিৎকার ও কান্না করেছে। বয়োবৃদ্ধরাও জানিয়েছেন, আগে কখনো এমন অস্বাভাবিক বজ্রপাতের ঘটনা প্রত্যক্ষ তারা করেননি।
শনিবার দিবাগত মধ্য রাত আড়াইটার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত  ছিলো সবচেয়ে আতংকের।
নগরীর পলাশপুরের বাসিন্দা শামীম আহম্মেদ বলেন, রাতের অন্ধকারে ঝড়ের বেগের বাতাস, মুষলধারা বৃষ্টির মধ্যে সেকেন্ডের কম সময়ের ব্যবধানে চোখ ধাঁধানো আলোর ঝলকানি ও ভয়ংকর আওয়াজের বজ্রপাত মৃত্যু ভয় নিয়ে এসেছে। ভয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মেঝেতে বসে ছিলাম। বাসায় থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ করে অজানায় আশংকায় কেটেছে কয়েক ঘণ্টা।
নগরীর নথুললাহবাদ এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, তার ৫ বছর বয়সী শিশু সন্তান ভয় ও আতংকে প্রসাব করে দিয়েছে। ওই পরিস্থিতির কারনে রোজাদাররা অনেকে সেহরি খেতে পারেননি। আলোর তীব্রতা ও বজ্রপাতের শব্দে অনেকে বাথরুমে যেতেও ভয় পেয়েছেন।

রাত আড়াইটা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ ছিল না।

বরিশাল নগরীর রুপাতলীর ৩৩ কেভেএ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে , সকাল ৯ টার পর থেকে ৩৩ কেভিএ সচল হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে কোনও কোনও এলাকায় ডালপালা অপসারণ না করার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের অপারেটর।

বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, অস্বাভাবিক বজ্রপাতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন,বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি তিনি। তবে গাছপালা ও কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে।

অস্বাভাবিক বজ্রপাতের কারণ সম্পর্কে কোন কিছু বলতে পারেননি বরিশাল আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হয়তো অস্বাভাবিক বজ্রপাত হতে পারে।

তবে বজ্রপাতের সময় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানান তিনি। যা বেলা ১২টা পর্যন্ত ১১৭ মিলিমিটারে এসে পৌঁছে। বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৪৩ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন: বান্দরবান সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি অপহরণ

/এইচকে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত, এবার এইচএস‌সি পরীক্ষা শে‌ষে কু‌ড়িগ্রামে টানা ৭ দিন লোডশেডিং
আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত, এবার এইচএস‌সি পরীক্ষা শে‌ষে কু‌ড়িগ্রামে টানা ৭ দিন লোডশেডিং
ইরান কথা না শুনলে বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরান কথা না শুনলে বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ইউজিসির
সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ইউজিসির
জুলাই-নেতাদের যত বিভাজন, নেপথ্যে কী
জুলাই-নেতাদের যত বিভাজন, নেপথ্যে কী
সর্বাধিক পঠিত
প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও ভাইরালের পর বিতর্ক, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ
প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও ভাইরালের পর বিতর্ক, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ
এক মিনিটেই মিলবে ৫ লাখ টাকা, চার দিনে ২ কোটি
এক মিনিটেই মিলবে ৫ লাখ টাকা, চার দিনে ২ কোটি
নির্বাচন অফিসে পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জনকে নিয়োগ, নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত
নির্বাচন অফিসে পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জনকে নিয়োগ, নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত
রাজধানীতে বাস-সিএনজির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলো কেন
রাজধানীতে বাস-সিএনজির সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলো কেন
একসঙ্গে ছাত্রদলের ৪ নেতার পদত্যাগ
একসঙ্গে ছাত্রদলের ৪ নেতার পদত্যাগ