ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ মন্দিরে হামলা, আহত শতাধিক, বিজিবি মোতায়েন

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:২২, অক্টোবর ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৯, অক্টোবর ৩১, ২০১৬

ভেঙে ফেলা হয়েছে প্রতিমা

ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদের’ নামে রবিবার সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টাব্যাপী জেলার নাসিরনগর সদরে অন্তত ৮টি হিন্দু পাড়ায় তাণ্ডব চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এসময় ১০টি মন্দিরসহ শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। হামলা চলাকালে মন্দিরের পুরোহিতসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী-পুরুষকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর নাসিরনগরে ৩ প্লাটুন বিজিবি, দুই শতাধিক পুলিশ এবং বিপুল পরিমাণ র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো নাসিরনগরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।   

হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে মন্দিরের এক সেবায়েতকে

ঘটনার খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক ড. রেজওয়ানুর রহমান, বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসরুর উল্লাহ, হামলার শিকার প্রতিটি পাড়া মহল্লা এবং মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকারীর যেমন বিচার হবে, তেমনই যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও বিচার হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

শুক্রবার উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামে এক যুবক ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে। ওই ছবি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে, এমন অভিযোগে স্থানীয়রা শনিবার ওই যুবককে ধরে পুলিশে দেয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ রবিবার সকাল থেকে নাসিরনগর সদরের কলেজ মোড় ও খেলার মাঠে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং হেফাজতে ইসলামের নেতারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে ৩ থেকে ৪শ’ লোকের একটি দল জড়ো হয়ে পুরো উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়।

মন্দিরে ভাঙচুরের পর

হামলার শিকার অনাথ বন্ধু দাস ও বনমালী সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত-শত লোক লাঠিসোটা নিয়ে নাসিরনগর ঘোষপাড়া, দাসপাড়া, নমঃশুদ্রপাড়া ও দত্তপাড়ায় মন্দিরসহ শতাধিক বাড়ি ঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা যায়, মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর, প্রণামী বাকশো ভাঙচুর করে টাকা-পয়সা লুটে নেওয়া হয়। বাড়িঘর ভাঙচুর করে টেলিভিশনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। এসময় নাসিরনগর গৌর মন্দিরের সেবায়েত শংকর সেন ব্রহ্মচারীসহ হিন্দু পাড়ার নারী-পুরুষদের বেধড়ক পেটানো হয়।

/এইচকে/

লাইভ

টপ